Date : 2020-12-01

উত্তুরে বাতাস প্রত্যবর্তনে, কংগ্রেসের মৌসম বদলে তৃণমূলে

মালদহ: বিজেপি বিরোধীতা নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে প্রতিযোগীতায় রাজ্যে যখন হালে পানি পাচ্ছে না প্রদেশ কংগ্রেস, তখনই কংগ্রেসের নির্বাচনী বৈতরনীর পালে উল্টো বাতাস। লোকসভা নির্বাচনের আগে বড়সড় ধাক্কা এল প্রদেশ কংগ্রেস শিবিরে। উত্তর মালদহের দীর্ঘদিনের কংগ্রেস পরিবার যার আদর্শ প্রবীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বরকত গণিখান চৌধুরীর পরিবারে রাজনৈতিক আদর্শে ভাঙন ধরল। উত্তর মালদহের সাংসদ মৌসম বেনজির নূর কংগ্রেস ত্যাগ করে যোগ দিলেন তৃণমূলে। যদিও এই জল্পনার সূত্রপাত অনেকদিন আগেই, সোমবার সন্ধ্যায় নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন মৌসম। তার পরে আনুষ্ঠানিক ভাবে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দিলেন তৃণমূলে যোগদানের কথা।

ভোটের মুখে দলীয় সাংসদের এই দল বদল চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস শিবিরে। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র মুখ খুলতে না চাইলেও পরে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কোনও রকম নির্বাচনী সমঝোতা ও জোট হচ্ছে না, এটা বুঝতে পেরে মৌসম বেনজির নূর দলত্যাগ করেছেন। দলত্যাগ না করার জন্য রাজ্য কংগ্রেস এবং সর্বভারতীয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব বারংবার অনুরোধ করেছিলেন মৌসম বেনজির নূরকে। কিন্তু তিনি প্রতিবারই জানিয়েছিলেন যে দলত্যাগ করছেন না। বাস্তবে দেখা গেল মৌসম নূর দল ছাড়লেন। সোমবার সকালবেলাতেও তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা হয়। ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত আছেন এবং পরে ফোন করবেন বলে জানান তিনি। কিন্তু পরে আর ফোন করেননি। তবে এতে জাতীয় কংগ্রেসের কোন ক্ষতি হবে না।” মালদহ রাজ্য প্রদেশ কংগ্রেসের সবচেয়ে শক্তিশালী কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত। আর এই কেন্দ্র থেকেই ২০০৯ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন মৌসম। মালদহের অভিজ্ঞ কংগ্রেস নেতা গনিখান চৌধুরীর ভাগ্নি মৌসম সে বছরের জানুয়ারিতে সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন কংগ্রেসের টিকিটে। মৌসমের মা রুবি নূরের প্রয়াণে ওই আসনটি খালি হয়েছিল সেই বছর। মায়ের আসনে মৌসমই লড়েন এবং জিতেও যান। কিন্তু সে বছরই লোকসভা নির্বাচনে উত্তর মালদহ কেন্দ্র থেকে মৌসমকে ফের প্রার্থী করে কংগ্রেস। সে ভোটেও মৌসম জেতেন এবং সংসদে পৌঁছে যান। পরে ২০১৪ সালে আবার ওই কেন্দ্র থেকেই মৌসম জয়ী হন। রাহুল গাঁধী কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার পরে মালদহ জেলা কংগ্রেসের সভাপতি পদটাও মৌসম পান। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেছেন, দলত্যাগের দিন সকালেও মৌসম কিছু জানায়নি। তবে মালদহের মানুষ বরকত গণিখান চৌধুরে সম্মান ও শ্রদ্ধা করেন। এই ঘটনা তাদের কাছে বিশ্বাসঘাতকতার সমান, তাই তারা অবশ্যই এর যোগ্য জবাব দেবেন। পাশাপাশি প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রে খবর, ওই কেন্দ্র থেকে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন গণিখান চৌধুরীর যোগ্য প্রতিনিধি ঈশা খান চৌধুরী। সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই মালদহে হাওয়া বদলের পরিবেশ তৈরী হয়েছিল। এমনকি মৌসমের মন্তব্যের মধ্যেও উঠে এসেছিল রাজ্যে তৃণমূল ও কংগ্রেসের জোটের পক্ষে সওয়াল। সেই থেকেই শুরু জল্পনা। প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান অধীর চৌধুরী বলেছেন, ‘‘আগেও শোনা গিয়েছিল উনি দল ছাড়বেন। এ বার সেই খবরটাই এল। দুঃখজনক ছাড়া আর কী বলব।’’ প্রদেশ কংগ্রেসের আর এক প্রাক্তন সভাপতি তথা দলের সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান প্রদীপ ভট্টাচার্যের গলাতেও প্রায় একই সুর। তিনি বললেন, ‘‘আগেও শুনেছিলাম, তিনি দল ছাড়তে পারেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি জানিয়েছিলেন, সব ভিত্তিহীন। এখন আবার শুনছি তিনি দল ছেড়ে তৃণমূলে চলে গেলেন। কী আর বলব? কী বলার আছে?’ এদিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করার পর তিনি বলেন, ‘‘ ১৯ তারিখের ব্রিগেডে পুরো ভারতের নেতৃত্ব এসেছিলেন বিজেপির বিরুদ্ধে ওঁকে সমর্থন দেওয়ার জন্য। উনিই আমাদের রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রধান মুখ। ওনাকে সমর্থন করেই আমি তৃণমূলে যোগ দিলাম।’’ বিজেপিকে আক্রমণ করে মৌসম বলেন, ‘‘বাংলাকে নিয়ে বিজেপির যে অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে। তা রোখার জন্য তৃণমূলের পাশে থেকে আমি লড়াই করব।’’