Date : 2020-11-01

ব্রিগেডে কর্মী-সমর্থকদের পাঠাতে স্টেশনে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ…

কোচবিহার: রাত পোহালেই ব্রিগেড সমাবেশ। সেই সমাবেশে কর্মী-সমর্থকদের পৌঁছতে যাতে কোনও রকম সমস্যা না হয়, তাই নিজে স্টেশনে দাঁড়িয়ে কর্মী-সমর্থকদের ট্রেনে তুলে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। ঠিক ৮ জানুয়ারি কোচবিহার রাসমেলার মাঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় লোক আনতে যেভাবে তৎপর দেখা গিয়েছিল রবীন্দ্রনাথ বাবুকে, গত দুদিন থেকে ব্রিগেড সমাবেশ লোক পাঠাতেও একই ভাবে তৎপর হতে দেখা গেল তাঁকে। বয়সে প্রবীন হয়েও অন্যান্য নেতাদের থেকে তাঁর এই সক্রিয়তা ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক চর্চার বিষয়। অনেকেই মনে করছেন, জেলায় দলের অন্তর্কোন্দল নিয়ে জেরবার তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। যা লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রভাব ফেলতে পারে। অথচ রবীন্দ্রনাথবাবু রাজ্য নেতৃত্বকে ৫ লক্ষ ভোটে কোচবিহার কেন্দ্রে জয় এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতেই তাঁর এই তৎপরতা। গত তিন দিন ধরে বিভিন্ন ট্রেনে চেপে নিউ কোচবিহার স্টেশন থেকে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা কলকাতায় যাচ্ছেন। ওই কর্মীদের হাতে রাতের খাবার ও জল দেওয়ার জন্য স্টেশন চত্বরে একটি ক্যাম্পও করা হয়েছে। সেই ক্যাম্পে সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা পরিষেবা দিয়ে চলেছেন। ট্রেন আসার সময় হলেই সেখানে পৌঁছে যাচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ বাবু। সরাসরি স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেকের খোঁজ খবর নিচ্ছেন তিনি। এদিন স্টেশন চত্বরে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথবাবু জানিয়েছেন, গত দুদিন কর্মীদের ফ্লো অনেক কম ছিল। তবে বৃহস্পতিবার থেকে ব্যাপক হারে শুরু হয়েছে। সকালে তিস্তা-তোর্সা, দুপুরে উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, সন্ধ্যায় সরাইঘাট ও পদাতিকে কর্মী সমর্থকরা যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে প্রায় হাজার দশেক লোক। ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত কর্মীরা এভাবেই নিউ কোচবিহার স্টেশন থেকে ব্রিগেড সমাবেশে যাবেন। তিনি বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। এক মাস ধরে জেলা জুড়ে প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। আমরা এই জেলা থেকে লক্ষাধিক কর্মী সমর্থক কলকাতায় যাবো।”

প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকে কোচবিহারের বেশ কিছু এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠী মাদার-যুব’র কোন্দল চরমে ওঠে। দুই পক্ষের মধ্যে লাগাতার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিন জনের মৃত্যু পর্যন্ত হয়। টানা ওই গণ্ডগোল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কোচবিহার সফরে এসে পুলিশকে কড়া হাতে মোকাবিলা করার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারপরেও সেই গণ্ডগোলে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। দলের এই মতোবিরোধ নিয়ে সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। লোকসভা নির্বাচনের আগে ওই কোন্দল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়তে পারে বলে দলীয় নেতৃত্বদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, বিজেপি সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল হলেও নিজেদের বিরোধের সুযোগ নিয়ে শেষ পর্যন্ত আসন ছিনিয়ে নিতে পারে বলেও ভাবতে শুরু করেছিলেন তৃণমূল কর্মীদের কেউ কেউ। শেষ পর্যন্ত গোষ্ঠী কোন্দলে নিয়ন্ত্রণ আনতে দলের যুব সংগঠনের নেতা নিশিথ প্রামাণিককে বহিষ্কার করা হয়। এরপরেই ৮ জানুয়ারি রাসমেলার মাঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় লোক জমায়েত নিয়ে রবীন্দ্রনাথবাবুর ব্যাপক তৎপরতা দেখা যায়। ওই সভার দিন গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে জেলার নেতৃত্বকে কড়া ভাবে সতর্ক করে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেড সমাবেশে দলী কর্মী সমর্থকদের নিয়েও রবীন্দ্রনাথ বাবুর তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। এদিন নিউ কোচবিহার স্টেশনে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী অনুগামী এক তৃণমূল কর্মী বলেন, “অনেকেই ভেবেছিলেন একে গোষ্ঠী কোন্দলে জেরবার, তার উপর এই শীতে খুব বেশী লোক কোচবিহার থেকে ব্রিগেডের সভায় যাবে না। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ বাবু নিজে মাঠে নেমেছেন। কাজেই এই জেলা যে ২১ জুলাইয়ের সভার মত এবারের ব্রিগেড সভাতেও লোক ভরাতে সক্ষম হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।”