Date : 2020-10-23

টুসু দেবীর অগমনে অাধুনিকতার ছোঁয়া

পুরুলিয়া: জেলার সংস্কৃতি নিয়ে পুরুলিয়ার মানুষের আবেগ আজও অটুট আছে। পুরুলিয়ার বার্ষিক আমলাতোড়ায় দেখা গেল সেই টুসু এখন আর কোন লৌকিক দেবী নন, বরং তিনি এখন পুরুলিয়া জেলা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। টুসু নিয়ে জেলার মানুষের আবেগ আরেকবার স্পষ্ট হয়ে গেল বুধবার বিকেলে হুড়ার আমলাতোড়ায় বার্ষিক টুসু চৌডলের প্রতিযোগিতায়। মকর সংক্রান্তির পর টুসু পরব শেষ হয়ে গেলেও সেই টুসু দেবীর দেখা মিলল। মলাতোড়া টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ময়দানে নানান আকারের ও রঙের টুসু দেখতে এদিন ভিড় জমালেন সব বয়সের মানুষ। সাদা থেকে গোলাপী। হলুদ থেকে লাল টুসুর নানান রূপ দেখে উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারলেন না দর্শকরা। এরই সঙ্গে ছিল টুসুর সুরেলা গান। সব মিলিয়ে টুসু উৎসবের শেষেও জমজমাট পুরুলিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব। প্রতি বছরই পুরুলিয়া জেলার সংস্কৃতিকে নব প্রজম্নের কাছে তুলে ধরতে টুসু চৌডল ও টুসু গানের প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা করা হয় আমলাতোড়ায়। এদিন মোট ৩০ টি টুসুর দল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে দুঃশাসনের গীতের আখড়া টুসু দল।

প্রথম স্থানাধিকারী টুসুর দলের হাতে তুলে দেওয়া হয় নগদ সাত লক্ষ টাকা। এদিন প্রতিযোগিতা দেখার জন্য আমলাতোড়ার দেবেন মাহাত টিচার্স ট্রেনিং কলেজের মাঠে ভিড় জমান পুরুলিয়া ছাড়াও বিভিন্ন জেলার মানুষজন। উৎসবে কলকাতা থেকে অনেক আলোকচিত্রী আসেন। তারা অভিভুত হয়েছেন এই উৎসব দেখে। প্রতিযোগিতা শুরু হবার পর টুসুর চৌডলে এসেছে অভিনবত্ব। মানুষের মন ছুটে আকারেও অনেক বেড়েছে এই চৌডল। তিরিশ থেকে পঞ্চাশ ফুট পর্যন্ত উঁচু হচ্ছে বেশ কিছু চৌডল। প্রতিযোগিতা এই গানের গুনগত মানও অনেক উন্নত হয়েছে। এই প্রতিযোগিতার উদ্যোক্তা জগদীশ মাহাতো বলেন ২০১২ থেকে হয়ে আসছে আমলাতোড়ার টুসু প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ব্যাবহারের মাধ্যমে মহিলারা টুসুর গানকে দিয়েছেন আধুনিকতার ছোঁয়া। নতুন প্রজন্মও এতে আকৃষ্ট হচ্ছে। প্রতিযোগিতা শুরু প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, তারা লক্ষ্য করেছিলেন বর্তমান প্রজন্মের কাছে ক্রমশ ব্রাত্য হয়ে যাচ্ছে টুসুর মত পুরুলিয়ার সংস্কৃতি। স্মার্ট ফোন ইন্টারনেটের যুগে একেবারেই সেকেলে হয়ে পড়েছিল টুসু গান। এই পরিস্থিতিতেই এই সংস্কৃতিকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে তারা বড় আকারের শুরু করেন টুসু প্রতিযোগিতা। জেলা প্রশাসন সহ আরও বহু সংস্থা এখন আয়োজন করছে এই ধরনের প্রতিযোগিতার। এতে আলাদা একটা আকর্ষণ তৈরি হয়েছে জেলার নব প্রজন্মের মধ্যে।