Date : 2020-10-30

এবার অন্য শরীরে বাঁচবে ছোট্ট রায়েলি

ওয়েব ডেস্ক: সে আসার আনন্দ যত ছিল তার চেয়েও গভীর ছিল তাকে হারিয়ে ফেলার ভয়। গর্ভাবস্থার ১৮ সপ্তাহেই চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন দুঃসংবাদটি। যে সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর জন্য পথ চেয়ে বসে ছিলেন তাঁরা, জন্মের পর সবমিলিয়ে বরাতজোরে সে বাঁচবে হয়তো আধ ঘণ্টা মাত্র। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, টেনেসির ক্রিস্টা ডেভিস ও তাঁর প্রেমিক ডেরেক লভেটের ভাবী সন্তান এক বিরল রোগে আক্রান্ত। আর এই কারণে তার মস্তিষ্ক ও করোটির কিছুটা অংশ কোনোদিনই তৈরি হবে না। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, সময়ের আগেই শিশুটির প্রসব করাতে হবে নয়তো,তার জন্মের পরে তার অঙ্গদান করা যেতে পারে। প্রথমে খানিকটা ভেঙে পড়লেও দ্বিতীয় পথটাই বেছে নেন ক্রিস্টা-লভেট। ক্রিস্টা জানিয়েছেন,বড়দিনের সময়ে জন্মায় রায়েলি। হাতে সময় খুব কম, এমনটা ধরে নিয়েই নাড়ি কাটার আগে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু বাবা-মা’কে অবাক করে সব আশঙ্কা উড়িয়ে, জন্মের পরে কোনো কিছুর সাহায্য ছাড়াই শ্বাস নিতে থাকে খুদে। সদ্যোজাত রায়েলি জীবনের সাত দিন শিশুবিভাগ বা নিকু-র বদলে তার বাবা-মা’র সঙ্গেই ছিল । একেব্বারে প্রাণোবন্ত, চনমনে। পাশাপাশি চলছিল অঙ্গদানের প্রস্তুতি। মৃত্যুর পর সিদ্ধান্তমতো শিশুটির হৃৎপিন্ডের দু’টি ভাল্ভ অন্য দুই শিশুকে দেওয়া হয়। তার ফুসফুস গবেষণায় দান করা হয়। বাবা-মা’র সিদ্ধান্তে এক রত্তি মেয়েটা বেঁচে থাকবে অন্য শরীরে।