Date : 2020-10-23

চোখেই প্রেমের প্রকাশ পায়: অলকানন্দা রায়

ওয়েব ডেস্ক: প্রেম সপ্তাহ এবার অন্তিম পর্যায়। আজ ভ্যালেনটাইনস ডে। প্রেমের দিন, ভালোবাসার দিন। তবে কি তা শুধুই প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে আবদ্ধ থাকে নাকি ছড়িয়ে পড়ে বৃহত্তর জগতে? প্রেম মানেই আমরা বুঝি কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসা আদানপ্রদানের কথা। আদতে সন্তান-বাবা-মা, বন্ধু, জীবপ্রেম সবই এই প্রেমদিবসের অঙ্গ। ভালোবাসা একটা অনুভূতি, নিষ্পাপ একটা শব্দ। তবুও আন্তর্জাতিক প্রেম দিবসের আগে গোটা সপ্তাহ ধরে চলে প্রেমের সপ্তাহ অর্থাৎ ভ্যালেন্টাইন উইক। যেখানে দিনগুলো ভাগ করে নেওয়া হয় রোজ ডে, প্রপোজ ডে, কিস ডে ইত্যাদির মাধ্যমে। সবকটি দিনই প্রেম দিবসের সঙ্গে সংযুক্ত। প্রেম যেমন আবেগ তেমনই তার বহিপ্রকাশ প্রপোজাল বা প্রস্তাব। আর সেই বিষয়টির জন্য ভ্যালেন্টাইন উইকে জায়গা করে নিয়েছে প্রপোজ ডে। তবে যাঁর কাছে নৃত্যই প্রথম ভালোবাসা, যিনি ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় ধ্রুপদী নৃত্যচর্চায় নিজস্ব নৃত্যশৈলী গড়ে তোলা শিল্পী। ভরতনাট্যম থেকে ওডিশি ও রাশিয়ান ব্যালে থেকে রবীন্দ্রনৃত্য অবগাহন করেছেন সব নৃত্যধারাতেই। তিনি বিশ্বাস করেন সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি দিয়ে নৃত্য শিক্ষা সম্ভব নয়। তাকে রপ্ত করতে গেলে চাই নাচের প্রতি ভালোবাসা। তিনি অলকনন্দা রায়। তাঁর কাছে ভ্যালেন্টাইন উইক বা প্রপোজ ডে কতটা স্পেশাল জানালেন আরপ্লাসকে।

প্রশ্ন: প্রেম বলতেই একটা অনুভূতি সবার মধ্যে জেগে ওঠে। তোমার মধ্যে প্রেম বলতে কি অনুভূতি জাগে?
অলকনন্দা রায়: প্রেম মানে ভালোলাগা, ভালোবাসা। যে-ই হোক না কেন যেভাবেই হোক না কেন। এটা আসলে একটা বন্ডিং-এর ব্যাপার। আমার কাউকে ভালোলাগে, তার আমাকে ভালোলাগে। সেটা পুরুষ নারী বলে কোনও ব্যাপার নেই। প্রেম কথাটা আমরা অন্যভাবে বুঝি বা দেখে এসেছি। কথায় আছে, কৃষ্ণ প্রেমে মগ্ন। তাই, ইট ক্যান বি ডিভাইন নারী-পুরুষ, মা-সন্তান, নাতি-নাতনি। আমি এখন এগুলো ভাবি। কারণ সেই বয়সে এসে পৌঁছেছি তো। তাই প্রেমটা আমার কাছে ভীষণ সুন্দর একটা সম্পর্কের ব্যাপার।

আরও পড়ুন: নতুন বউয়ের সঙ্গে কি করলেন কিং খান?


প্রশ্ন: তোমার কাজ বৃহত্তর প্রেমকে ঘিরে। কিন্তু তার আগে যেটা জানার, প্রেমের জন্য প্রকাশ করার গুরুত্ব একটা থাকেই। তাই প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রপোজের গুরুত্ব বা প্রয়োজন ঠিক কতটা?
অলকনন্দা রায়: আমার মনে হয় প্রকাশ করাটা ভীষণ প্রয়োজন। কেননা যাকে তোমার ভালোলাগে তাকে তো বলতে হবে যে তোমার তাকে ভালোলাগে। আসলে কোথাও যেন ওই প্রপোজ করার মধ্যে তারও ভালোলাগা জড়িয়ে থাকে। যেমন ধরো তোমার যদি আমাকে ভালোলাগে আর সেটা যদি তুমি আমাকে বলো তাহলে কি আমার ভালোলাগবে না? অবশ্যই ভালোলাগবে। সেজন্যই প্রেম বলো, ভালোবাসা বলো বা প্রপোজাল বলো কোথাও যেন আমরা আটকে গিয়েছি। নিজেদের আরও উদার করাটাও দরকার আমাদের। ভালোলাগাকে প্রকাশ করার মধ্যে আমি কোনও অন্যায় দেখি না। আমি তো কাউকে হিংসা করছি না, কারোর ওপর রাগ করছি না। আমি তাকে ভালোবাসছি।

প্রশ্ন: কিন্তু আমাদের সমাজে অনেক রকম বাঁধা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বলেও বলা হয়ে ওঠে না। সেক্ষেত্রে কি বলবে তুমি?
অলকনন্দা রায়: আবার সেই একই জায়গায় চলে যাচ্ছি। যেখানে সমাজ আছে, যেখানে বাঁধা আছে। ধরো আমার এক ছাত্রী, বয়স অনেক অল্প অর্থাৎ বাচ্চা। তাকে যদি আমি বলিতোমায় ভআলোবাসি সেক্ষেত্রে তো সমাজ কিছু বলবে না। সেই ভালোবাসাটাও কিন্তু ওয়ান টাইপ অফ প্রপোজিং। আমরা যদি সবসময় নারী পুরুষের ভালোবাসায় আটকে থাকি তাহলে তো পুরো পৃথিবীটাই অনেকটা ছোট হয়ে যায়। কত মানুষকে ভালোবাসার আছে। আমি মনে করি সেটা প্রকাশ করাটাই তো প্রপোজাল।
প্রশ্ন: ধরো তোমাকে যদি আমি জিজ্ঞাসা করি প্পোজ করার বেস্ট উপায় কি, তাহলে তুমি কি বেছে নেবে?
অলকনন্দা রায়: এখন এগুলো আমাকে জিজ্ঞাসা করলে না আমাকে অতীতে যেতে হবে। ওইসব অনেক কিছু পেরিয়ে চলে এসেছি। আমার কিন্তু অনেক বয়স। আমার বয়স বলতেও কোনও অসুবিধা নেই। দেখো আমার মনে হয় সবসময় যে বলতে হবে তা নয়। একটা মানুষের ভাইভ কাজ করে। তবে আমার মনে পড়ে না নিজে থেকে আমি কোনও দিনও কাউকে বলেছি বলে। আসলে বলার প্রয়োজন হয়নি।
প্রশ্ন: তোমার বলার হয়তো প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু যাকে তুমি ভালোবেসেছো সে তোমার কাছে আগেই এসে উপস্থিত হয়েছে।
অলকনন্দা রায়: হয়তো… (হাসি)



প্রশ্ন: কিন্তু সেই সৌভাগ্য তো সকলের হয় না। অনেকের কাছে এমনও হয় যে কেউ কারোর থেকে ভালোবাসা পেতে চাইছে। সেক্ষেত্রে তোমার কি মনে হয় ভালোবাসা প্রকাশ করার ভঙ্গিমা ঠিক কেমন হওয়া উচিৎ?
অলকনন্দা রায়: আমার মনে হয় চোখই কথা বলে। চোখ দিয়ে অনেক কিছু প্রকাশ করা যায়। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, বিহেভিওয়র সব কিছুর মধ্যে দিয়েই প্রকাশ পেয়ে যায়। একটা ফুল দিয়ে বললেই যে আমার তোমাকে ভালোলাগে তা কিন্তু সবসময় না-ও হতে পারে। আমার মনে হয় ওগুলো বলার কোনও প্রয়োজন পড়ে না।
প্রশ্ন: প্রপোজ ডে, কিস ডে, রোজ ডে, ভ্যালেন্টাইনস ডে এগুলো তোমাদের ছোটবেলায় ছিল না। বলা যেতে পারে বঙ্গ সংস্কৃতিতে এসবের জায়গা ছিল না। তবে বর্তমানে এগুলো এসেছে। প্রেমে যোগ হয়। তুমি এই পরিবর্তনের ধারাটাকে কিভাবে দেখছো?

আরও পড়ুন: ভ্যালেন্টাইন উইক নাকি ফেলে আসা সরস্বতী পুজো, কি বললেন অভিনেতা রোহিত মুখোপাধ্যায়

অলকানন্দা রায়: ভ্যালেন্টাইনস ডে হিসাবে প্রেমকে দেখতে গেলে তা কিন্তু এখন পাল্টে গিয়েছে। ভ্যালেন্টাইনস ডে তে মনে হয় ওই একদিনের প্রেম হয়। আসলে আমি সবসময় ছোটদের সঙ্গেই সময় কাটাই। আমার বয়সি মানুষদের সঙ্গে আর কতটুকু সময়ই বা কাটানো হয়। আমি ওদের দেখি। আমার দূর থেকে দেখতে মজা লাগে। কিন্তু সেই গভীর প্রেম এখন অনেক কম দেখি। আবার এ-ও দেখি ভ্যালেন্টাইনস ডে শেষ প্রেমও শেষ। আমাদের সময় সবকিছুতেই একটা বাঁধা ছিল। আবার কখনও এটা করো না, এটা অনুচিৎ।যে কারণএ বোধহয় কিছু পাওয়াটাও তখন কঠিন ছিল। হয়তো সেই জন্যই সেটা পেলে আর ছাড়ার কথা ভাবা হতো না। তবে এখন যেন পাওয়া আর ছাড়া দুটোই সহজ হয়ে গিয়েছে। তবে If they are happy, it’s ok. একটা মানুষকে ভালোবাসায় বদলে দেওয়া, তার মন-প্রাণ নিজের করে নেওয়া এটা একটা অনুভূতি। সেটাই ভালোবাসা।

প্রশ্ন: কিন্তু প্রেমে প্রতারণাও হয়…
অলকানন্দা রায়: হয়, নিশ্চয়ই হয়। কিন্তু এই সপ্তাহে না হয় একটু পজেটিভ দিকটাই দেখি। আমি ভীষণ পজিটিভ পার্সন। আমি কখনও নেগেটিভ জিনিসটাকে ধরে রাখি না। কারণ সবকিছুরই ভালোমন্দ আছে।আমাদের সময়ও ভালোমন্দ ছিল, এখনও আছে। তাই আমি সবসময় ভালোটা গ্রহম করতে শিখি।
প্রশ্ন: যেসব ছেলেমেয়েরা ভালোবাসা পাওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে তাদের জন্য তোমার টিপস…
অলকনন্দা রায়: সঠিক ভালোবাসাটা চিনে নিতে হবে নিজেদের। নিজেকেও নিখাদ ভালোবাসা দিতে হবে। কি পাবোর আশা থেকে বেরিয়ে একটু নিঃস্বার্থ ভালোবাসাটাও প্রয়োজন। বর্তমানে লোকে একটু বেশি প্র্যাক্টিক্যাল হয়ে গিয়েছে। আবেগটা যেন কোথাও কম হয়েছে। এর পাশাপাশি শান্তিটাও কোথাও যেন ক্ষণস্থায়ী হয়ে গিয়েছে।