Date : 2020-10-26

পুলওয়ামায় প্রাণ গেল বাঙালি জওয়ান বাবলু সাঁতরার, শোকস্তব্ধ গোটা গ্রাম

হাওড়া: মাত্র আর কটা দিন চাকরি ছিল। সখ করে বানিয়েছিলেন বাড়িটা। অবসর নিয়ে একটু সময় কাটাবেন মা ও স্ত্রী-এর সঙ্গে, মেয়েকে মানুষ করবেন। এক বছর অবশ্য লাগল না, কয়েক দিনেই বাড়িতে ফিরে এলেন তিনি, জাতীয় পতাকা জড়িয়ে কফিন বন্দি হয়ে। বৃহস্পতিবার লেটাপোরার কাছে অনন্তনাগ হাইওয়েতে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি জওয়ানদের কনভয়ের মধ্যে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই জইশ-ই-মহম্মদ গোষ্ঠির তরফে নাশকতার ঘটনা স্বীকার করে নেওয়া হয়। প্রকাশ্যে আসে নাশকতার ঘটনায় অভিযুক্ত ফিদায়েঁ জঙ্গি আদিল আহমেদ ওরফে ওয়াকারের ভিডিও বার্তা। ততক্ষণে সব শেষ। গাড়ির যন্ত্রাংশ আর নিহত জওয়ানদের দেহাংশ কুন্ডলী পাকিয়ে পরে আছে এদিক ওদিক। ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে অনন্তনাগ হাসপাতালে নিয়ে যায় জওয়ানরা।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জঙ্গি হামলার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই দেশের জওয়ান পরিবারগুলি দুঃশ্চিন্তায় ভেঙে পড়ে। সেই শহিদ মিছিলে বাদ পড়ল না এই রাজ্যের ছেলের বাবলু সাঁতরার নাম। নাশকতার ঘটনার পর বিভিন্ন মাধ্যম থেকে বাবলু সাঁতরার শহিদ হওয়ার খবর আসে হাওড়ার বাউড়িয়া চককাশী গ্রামে তাঁর পরিবারের কাছে। সিআরপিএফ-এ কর্মরত থাকার সময় প্রথমে তাঁকে জঙ্গল মহলের পর হিমাচল প্রদেশ এবং সব শেষে কাশ্মীরে বদলি করা হয়। দেড়মাস আগেই বাড়ি থেকে ঘুরে গেছেন তিনি, কথা ছিল কাজ শেষ করে খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবেন। ফেরা হল না ঘরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শহিদ জওয়ানদের নামের তালিকা দেখে আকাশ ভেঙে পড়ে তার স্ত্রীয়ের মাথায়। ৪৪ জনের নামের তালিকার মধ্যে নাম রেয়েছে তাঁর স্বামী বাবলুর। তিনি ছিলেন ৩৫ নম্বর ব্যাটেলিয়নের জওয়ান। ৫৪ নম্বর ব্যাটেলিয়নে হামলা হওয়ায় সেই ঘটনার আঁচ এসে পড়ে বাকি গাড়িগুলিতে। ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় তাঁর দেহ।

বাবাকে হারিয়ে পাঁচ ভাইবোনের সংসার চালাতে তাঁকে লড়তে হয়েছিল অনেক। কলেজে পড়ার সময়ই চাকরি পেয়ে যান আর্মিতে। সেই লড়াই পরিবর্তিত হয়েছিল দেশের জন্য। সংসারে আত্মীয় পরিজনকে একটু সুখে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। বুধবার রাতেও স্ত্রী-এর সাথে কথা বলেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরেই সব শেষ হয়ে যায়। ঘটনার খবর আসতেই একরাশ হতাশা নিয়ে গ্রামের মানুষেরা কান্নায় ভেঙে পড়ে বাবলুর বাড়ির সামনে। ছোট্ট মেয়েটি তখনও বুঝতে পারেনি কফিনবন্দি দেহে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েছেন তার বাবা।