Date : 2019-07-23

বিরিয়ানির হাঁড়ি লাল কাপড়ে মোড়া থাকে কেন জানেন?

ওয়েব ডেস্ক: লখনউর নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ-র হাত ধরে প্রথমবার কলকাতায় এসেছিল বিরিয়ানি। তারপর তিনি এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন…কলকাতার মানুষের মন। ইতিহাস বলছে, ১৮৫৬ সালের ৬ মে কলকাতায় পৌঁছান নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ। বিরিয়ানিতে আলুর প্রচলন নাকি ওয়াজিদ আলি শাহই প্রথম করেছিলেন।

আরও পড়ুন: অফিস টাইমের আগে বেরোলেই মিলবে খাবার…

শহরের রাস্তাঘাটের আনাচে কানাচে, অলিতে গলিতে এখন বিরিয়ানির দোকান। দোকানের একশো মিটারের মধ্যে এসে পড়লেই নাকে বিরিয়ানির গন্ধ আর লাল কাপড়ে মোড়া বিরিয়ানির বিশাল হাঁড়ি চোখে পড়তে বাধ্য। পেটে তেমন জায়গা খালি নেই, কিন্তু অবলীলায় বিরিয়ানির দোকান পেরিয়ে চলে যাবেন… এমন একটা ঘাড়ে দুটো মাথা খুব কম মানুষেরই আছে।

চিকেন বিরিয়ানি, মটন বিরিয়ানি, এগ বিরিয়ানি, আলু বিরিয়ানি বা ভেজ বিরিয়ানি— যাই হোক না কেন, বিরিয়ানির পাত্রটি সব দোকানেই একটা লাল কাপড়ে মোড়া থাকে। কোনও দিন ভেবে দেখেছেন কী, সাদা, নীল, হলুদ বা অন্য কোনও রঙের কাপড়ে কেন মোড়া থাকেনা বিরিয়ানির হাঁড়ি? ইতিহাসের ব্যাখ্যা থেকে জানা যায়, সম্রাট হুমায়ুনের খাদ্য পরিবেশনে দরবারি রীতি অনুযায়ী, রুপোলি পাত্রের খাবারগুলোর জন্য লাল কাপড় এবং ধাতব ও চিনামাটির জন্য সাদা কাপড়ে ঢেকে নিয়ে আসা হতো।

আরও পড়ুন: বিএমডব্লিউতে চড়ে স্বর্গে পাড়ি দিলেন এই ব্যক্তি

পরবর্তী কালে মুঘল দরবারেও এই রীতি অনুসরণ করা হয়। খাদ্য পরিবেশনের এই রীতি ও রঙের ব্যবহার লখনউয়ের নবাবরাও অনুসরণ করতেন। সেই থেকেই বিরিয়ানির পাত্র লাল কাপড়ে ঢাকার রীতি চলে আসছে। তবে এ ক্ষেত্রেও মতবিরোধ রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, ইতিহাস বা ঐতিহ্যের রীতি মেনে নয়, ব্যবসার খাতিরে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই বিরিয়ানির পাত্র লাল কাপড়ে মুড়ে রাখা হয়।