Date : 2020-10-26

দুর্বার আশ্রম দেখাতে পারবে আলোর দিশা?

দক্ষিণ ২৪ পরগনা: একবিংশ শতাব্দীতেও নিষিদ্ধ পল্লি সম্পর্কে মানুষের ধারণা এখনো রুদ্ধ হয়ে আছে। অনেকেই যৌনপল্লির নাম শুনলে তির্যক মনোভাব ব্যক্ত করেন। শিক্ষিত সমাজের কাছে তাদের নিয়ে আলোচনা করাই রুচিহীনতার পরিচয়। কিন্তু আজও অন্ধকার জগৎ থেকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে পারেনি তারা। তবে সমাজ স্বীকৃতিকে তাচ্ছিল্য করার প্রবনতা তাদের মধ্যে বিন্দু মাত্র নেই। যৌনপল্লির অন্ধকারে মিলিয়ে যাওয়া এসব জীবনে ফের প্রদীপ জ্বালাতে এগিয়ে এসেছে দুর্বার প্রগতি সংগঠন।

সূর্যালোকে পর্দার আড়ালে থেকে রাতের রাজপথ আলোকিত করার জীবন গুলিকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে দুর্বার প্রগতি সংগঠন নতুন দিশা দেখিয়েছে। প্রশাসন কঠোর হলেও আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে আজও কত মহিলা,শিশু নর পিশাচের লালসার শিকার হয়ে বিক্রি হয়ে যায় যৌনপল্লিতে। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ভুলিয়ে নিয়ে গিয়ে সেখানে নিষিদ্ধপল্লীতে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এমন অনেক নিদর্শন আছে যেখানে দুর্বার এর সহযোগিতায় পাচার হয়ে যাওয়া মহিলা এবং শিশুরা নিজের বাড়িতে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছে।

কিন্তু যারা তলিয়ে গেছে অন্ধকার দুনিয়ায় এবার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে দুর্বার সংগঠন। বিশেষ করে যৌনকর্মীদের সন্তান যারা জন্মের সূত্রে সমাজিক ভাবে বঞ্চনার শিকার সেই সব শিশু কিশোরদের কথা মাথায় রেখে দুর্বার প্রগতি সংগঠনের তরফে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে আশ্রম নির্মান করা হয়েছে। এই আশ্রমে যেমন আছে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা তেমনই বেঁচে থাকার ঠিকানা খুঁজে পাবে তারা।

৩০ বিঘা জমির উপর তৈরি এই আশ্রমে থাকতে পারবে জেলা ও শহরের যৌনকর্মীদের ছেলেমেয়েরা। এবং চেষ্টা করা হবে পাচার হয়ে আসা ছেলে মেয়েদের তাদের পরিবারে কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। তবে যেসব পরিবারের সদস্যরা আজ আর আগের মতো তাদের বুকে টেনে নেয়নি তাদের বর্তমান স্থান হয়েছে এই দুর্বার এর আশ্রমে।

দুর্বার প্রগতি সংগঠনের সাহায্যে যথেষ্ট খুশি আনন্দ উপভোগ করছে পাচার হওয়া ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা। সকালবেলা আর পাঁচটা বাচ্চাদের মত তারাও স্নান করে খাওয়া দাওয়া করে স্কুলে পৌঁছে যাচ্ছে। স্কুল থেকে ফিরে খেলার মাঠে আর পাঁচটা বাচ্চাদের মত তারাও খেলছে। তবে সমাজের মূল স্রোতের বিরুদ্ধে বয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তারা কতটা সক্ষম হবে সেটা সময় বলে দেবে।