Date : 2020-10-31

ভ্যালেন্টাইন উইক নাকি ফেলে আসা সরস্বতী পুজো, কি বললেন অভিনেতা রোহিত মুখোপাধ্যায়…

ওয়েব ডেস্ক: চলছে প্রেমের সপ্তাহ অর্থাৎ ভ্যালেন্টাইন উইক। ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গিয়েছে রোজ ডে, প্রোপজ ডে, চকোলেট ডে, টেডি ডে, প্রমিস ডে, হাগ ডে। আর বাকি কিস ডে ও ভ্যালেন্টাইনস ডে-য়ের। এসবের অর্থ বলতে একটাই। ভালোবাসার ভালোথাকা। নব প্রজন্মের কাছে এই দিনগুলি যতটা গুরুত্বপূর্ণ আগেকার দিনে অবশ্য এই দিনগুলির তেমন মাহাত্ম্য ছিল না। মাহাত্ম্য বলা হয়তো ভুল, আদতে এই দিনগুলির তেমন চাহিদা ছিল না প্রবীণ প্রজন্মের কাছে। ভালোবাসার কোনও নির্দিষ্ট দিন হয় না। এতেই আজও তাদের বিশ্বাস। কিন্তু যুগের হাওয়ায় তাল তো মেলাতেই হয়। রোজ ডে নিয়ে কি বললেন অভিনেতা রোহিত মুখোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: শ্রীদেবীর মৃত্যুবার্ষিকীতে কি করলেন কাপুর পরিবার?

প্রশ্ন: রোজ ডে। আগে এই দিনের তেমন চল না থাকলেও সাম্প্রতিক কালে এই দিনগুলির গুরুত্ব বেড়েছে। কেমন লাগছে?
রোহিত: যেকোনও ভালো জিনিস নতুন করে শিখতে ভালোই লাগে। তবে যে দিনটা পালন করার জন্য এক সপ্তাহ আগে থেকে এই দিনগুলো শুরু হয়েছে এই রোজ ডে জানতে জানতে আমাদের অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। একদিন আমার স্ত্রী আমাকে বলছে, ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে সবাই গিফট দিচ্ছে, তুমি কিছু দেবে না? আমি সেদিন জানতে পারলাম ভ্যালেন্টাইনস ডে-র ব্যাপারে। যখন জানলে সুবিধা হত তখন আর জানা হয়ে ওঠেনি। তখন আসলে এত সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ছিল না যে সার্চ করলেই জানা যাবে। তবে ভালো একটা নতুন জিনিস শুরু হয়েছে, এটা তো খারাপ কিছু নয়। ফুল সবসময় সুন্দর এবং গোলাপ তো খুবই সুন্দর। আমাদের ছোটবেলায় গোলাপ বেশ দামি ফুল ছিল। মানে কিনতে গেলে বেশ টাকা পয়সা দিতে হত। এখনও বেশ দামি। আমি আবার পড়ে শুনলাম গোলাপের কিন্তু অনেক রঙও আছে। মানে কি উদ্দেশ্যে দিচ্ছেন সেটা বুঝে নিয়ে রঙ বাছতে হবে। বিশেষ উদ্দেশ্যে আপনি সাদা বা হলুদ গোলাপ দিয়ে দিলে একেবারে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। এসব ক্রমশ শিখছি আর কি। যাইহোক শিক্ষার তো শেষ হয় না। ইয়ং জেনারেশন এগুলো পালন করে ভালোই লাগে। এটা আদতে অনুভূতি প্রকাশ। ভালোবাসার প্রকাশ।

প্রশ্ন: যে দিনের জন্য এই রোজ ডে মানে ভ্যালেন্টাইনস ডে অর্থাৎ প্রেম দিবস। এই প্রেম দিবসের জন্য কাউকে গোলাপ দিয়ে ওঠা হয়েছে কি?
রোহিত: না। আসলে আমাদের সময় একটা ভয় ছিল। পড়াশোনা তাড়াতাড়ি শেষ করলে বেকার হওয়াটা একেবারে অবধারিত। আমার হায়ার এডুকেশনের পর থিয়েটার নিয়ে যেহেতু ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম গ্র্যাজুয়েশনের পর আর এগোতে পারিনি। আসলে অভিনয়ে থেকে হায়ার এডুকেশন বেশ সমস্যা। কারণ যত হায়ার লেভেলে পড়াশোনা শুরু হয় সাবজেক্ট কমে যআয় ঠিকই, কিন্তু সেই বিষয়ের গভীরতা ততটাই বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুন: মুখ খুললেন ভূমিপুত্র সুরজিৎ

আর সেই সময়টা আমি দিতে পারিনি বলে গ্র্যাজুয়েশনের পর আর এগোতে পারিনি। আর থিয়েটার করছে মানে উচ্ছন্নে যাওয়া একটি ছেলে। সুতরাং তখন বেকারত্বের ভয় এবং জ্বালা দুটোই শুরু হয়ে গেল। বাড়ি থেকে একটা চাপের ব্যাপার থাকে। কিছু একটা করতে হবে। সেক্ষেত্রে চাকরি পাওয়ার প্রচেষ্টা, চাকরি পাওয়া আর চাকরি করা। আর এর মাঝে এসব করার জন্য যেসময়টা পাওয়া দরকার তার আগেই আমার বিয়ে হয়ে যায়। তখন চিঠি লেখার চল ছিল। তবে সেটা হয়ে ওঠেনি আর কি।

প্রশ্ন: তারমানে অনেক কিছুই বাকি থেকে গিয়েছে?
রোহিত: হ্যাঁ, অনেক কিছুই বাকি থেকে গিয়েছে। তবে বাকি থেকে গিয়েছে বলে দুঃখের তুলনায় আনন্দটাই বেশি। কারণ আমি দেখেছি, গোলাপ যেমন আছে তাতে অনেক কাঁটাও থাকে। এটা অভিজ্ঞতা দিয়ে দেখেছি। কাঁটা সামলে গোলাপ নিয়ে খেলা করা কিন্তু বেশ শক্ত কাজ।
প্রশ্ন: বাকি থাকার যেমন দুঃখ নেই তার মানে নতুন করে এগুলো উদযাপন করার কোনও প্ল্যানিংও নেই?
রোহিত: নতুন করে উদযাপন করার অনেক ঝামেলা আছে। কেননা এখন যার এগুলো পাওয়ার অধিকার তার তো অধিকারবোধ অনেক উচ্চস্তরের। তখন একটা লাল গোলাপ দিতে গিয়ে তার পিছনে যে টোটাল খরচ হবে সেটা খুব একটা কম হবে না।

আরও পড়ুন: রাজনীতি নাকি গান, সাফ জানালেন গায়ক পর্ণাভ

তখন বলবে গোলাপ যখন দিচ্ছ তাহলে চলো সেলিব্রেট করি, তাহলে কয়েকজনকে ডাকি, একটু খাওয়া-দাওয়াও হোক। তো এটাকে একটা উৎসবের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকবে। এই জন্য সুচতুর ভাবে এড়িয়ে যাওয়াই শ্রেয়। এই যেমন সরস্বতী পুজো রয়েছে সামনে। এই করতে হবে ওই করতে হবে। এইসব করে কাটিয়ে যাওয়া আর কি। তবে এই যে সরস্বতী পুজো তা কিন্তু দেশী ভ্যালেন্টাইনস ডে। আজ হয়তো আন্তর্জাতিক ভ্যালেন্টাইনস ডে পালিত হচ্ছে। আমাদের সময় এই দিনটা পালন হতো সরস্বতী পুজোর মাধ্যমে। সরস্বতী পুজোটা কিন্তু খুব মজার ছিল। সেখানে গোলাপ, পাঞ্জাবি, শাড়ি, পুস্পাঞ্জলি দেওয়া, ছেলেদের স্কুলের ছেলেরা মেয়েদের স্কুলে নেমন্তন্ন করতে যাওয়া ইত্যাদি সেটা একটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল।


প্রশ্ন: সেই অভিজ্ঞতার কথা একটু শোনা হোক তাহলে…
রোহিত: সেই অভিজ্ঞতার কথা বলেত, যখন ক্লাস টেনে উঠলাম তখন দায়িত্ব পড়ল যে মেয়েদের স্কুলে নেমন্তন্ন করতে যেতে হবে। তখন একটা বাছাবাছি পর্ব চলত। কে কোন স্কুলে যাবে। বাড়ি ফেরার পথে এমন অনেক মুখ চোখে পড়ত যেগুলো আকর্ষণ করেছিল। তো সেই ভাবে স্কুল বাছাই পর্ব চলত। তবে এর মধ্যে সমস্যা হতো কমন ইন্টারেস্টের। যেমন দুটো গ্রুপের মধ্যে একদল বলত ওই স্কুল আরেক দলেরও হয়তো সেই স্কুলেই যআওয়ার ঝোঁক বেশি। এই ব্যাপারগুলো তখন ছিল।
প্রশ্ন: এখনকার প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা আগের সময় দেখেনি। তারা রোজ ডে নিয়ে বেশ খুশি। আর যারা আগের সময়টা দেখেছি আবার এই সময়ও দেখছি তাদের কাছে কি কোনও ভাবে এই সময়টাকে খাপ খাওয়াতে কোখাও সমস্যা হচ্ছে?

স্বপরিবারে অভিনেতা রোহিত মুখোপাধ্যায়


রোহিত: না, খাপ খাওয়ানোটা অসুবিধাজনক নয়। তবে একটা জিনিস লক্ষ করছি আমরা যারা আমাদের পূর্বসুরীদের যেমন দেখেছি অর্থাৎ বড়দের সামনে কিছি জিনিস লুকিয়ে যেতে হয় বা একটু সম্ভ্রম দেখাতে হয় যেগুলো আজ যেন নেই। একটু যেন স্বাধীনচেতা মনোভাব বেড়েছে। এটা ঠিক সমালোচনা নয়। তবে আমার মনে হয় ভালোবাসা তো শুধুমাত্র একটি পুরুষ বা একটি নারীতে বা একটি বালক বা বালিকার মধ্যে হয় না, ভালোবাসা তো সকলকে নিয়ে হয়, বিভিন্ন সম্পর্ক নিয়ে হয়।

আরও পড়ুন: সঞ্চালক ছাড়া ২০১৯ অস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হতে চলেছে

প্রশ্ন: রোজ ডে উপলক্ষে এই প্রজন্মকে কি টিপস দেবে?
রোহিত: রোজ ডে-র জন্য এই প্রজন্মকে টিপস বলতে, গোলাপ দাও, গোলাপের রঙ বদলে গেলে ভয় পেয়ে যেও না বা দুঃখ পেয়ো না। একটা কথা মনে রেখো গোলাপ শুধু প্রেমিক বা প্রেমিকার জন্য নয়, গোলাপ তোমার আশেপাশের সকল মানুষের জন্য, যাদের তুমি ভালোবাসো।