Date : 2020-11-01

অনাদরেও তিলোত্তমার ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে হাওড়া ব্রিজ

হাওড়া : কলকাতার বুকে যখন ভেঙে পড়ছে একের পর এক সেতু, বাংলা ও বাঙালির ৭৫ বছরের ইতিহাসের যাত্রাপথের সাক্ষ্য বহন করে তখনও অক্ষত রয়েছে হাওড়া ব্রিজ। ১৯৪৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি হাওড়া ব্রিজ খুলে দেওয়া হয়েছিল সাধারণ মানুষের জন্য। পূর্ব ও পশ্চিম কলকাতার মধ্যে একমাত্র যোগসূত্র ছিল এই ব্রিজ। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতিদিন পারাপার হওয়ার পথ এই ব্রিজ। ১৯৮৯ সালের তৎকালীন কলকাতা পুরসভার মেয়র কমল বসু ব্রিজের মুখে ঝরনা দেওয়া পার্ক বানিয়েছিলেন এলাকার সৌন্দর্য্যায়নের জন্য।

কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে পার্কটির রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় ওয়েলকাম বোর্ড খুলে গেছে। রোদে জলে নষ্ট হয়েছে স্ট্যাচুগুলি। এমনকি রাতের অন্ধকারে এই পার্কের মধ্য অসামাজিক কাজকর্ম চলে এমনটাই অভিযোগ করছেন এলাকার মানুষ। নোংরা আবর্জনায় ভরে আছে পার্কের চারপাশ। এই সমস্ত বিষয় সম্পর্কে জানানো হলে কলকাতা পুরসভার মেয়র পরিষদ দেবাশীষ কুমার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

গত কয়েক বছরে বদলেছে কলকাতা শহরের চেহারা। গলি থেকে রাজপথ ঝলমলে হয়েছে। তারই মাঝে তিলোত্তমার গরিমান্নিত ইতিহাসের সাক্ষী এই ব্রিজের সৌন্দর্য্য মলিন হতে বসেছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় হুগলি নদীর উপর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ঝুলন্ত সেতু ছিল হাওড়া ব্রিজ। বর্তমানে এটা বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম ঝুলন্ত সেতু।

৭৫ বছর পেড়িয়ে আজও ‘চির যুবক’-এর তকমা ধরে রেখেছে হাওড়া ব্রিজ। কিন্তু শুনলে অবাক হবেন, এই ব্রিজের একটি নাটবল্টুও নেই। বরং লোহা বেঁকিয়ে নাটবল্টুর মতো ব্যাবহার করা হয়েছে ব্রিজ নির্মানের সময়। ব্রিজ তৈরিতে লেগেছিল ২৬৫০০ টন লোহা। যার মধ্যে ২৩০০০ টন লোহাই এসেছিল টাটা স্টিল থেকে।

হাওড়া ব্রিজে নেই কোনও পিলার। দুই মাথায় শুধু দুটি সাপোর্ট রয়েছে। বাকি ব্রিজের অংশ ঝুলন্ত। পোর্ট ট্রাস্টের ইঞ্জিনিয়ার জে ম্যাকগ্লাসান চেয়েছিলেন হাওড়া ব্রিজকে ভাসমান ব্রিজে তকমা দিতে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। রোজ এই ব্রিজের উপর দিয়ে কম করে ১ লক্ষ গাড়ি যাতায়াত করে। অন্তত দেড় লক্ষ নিত্যযাত্রীর রোজের যাতায়াতের রাস্তা এই ব্রিজ। নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সম্মান জানিয়ে ১৯৬৫ সালের ১৪ জুন এই ব্রিজের নাম বদলে রাখা হয় রবীন্দ্র সেতু। যদিও শহর আজও ইতিহাসের ধারাকে বজায় রেখে প্রচলিত নামেই চেনে হাওড়া ব্রিজকে।