Date : 2020-10-31

মধ্যবিত্তের মুখে চওড়া হাসি আনতে আয়কর উর্ধ্বসীমা দ্বিগুণ

নয়াদিল্লি: আসন্ন লোকসভা ভোটের আগে শেষ বারের মতো বাজেট পেশ করল মোদী। মধ্যবিত্ত ভোটব্যঙ্কের কথা মাথায় রেখে শেষ বাজেটে দরাজ ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। আয়করের উর্ধ্বসীমা এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করলেন ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় পিযুষ গোয়েল। বেশকিছু কর ছাড়ের ও প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংসদে শুক্রবার অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের সময় ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী পিযুষ গোয়েল বলেন, ব্যক্তিগত করদাতাদের আয়কর ছাড়ের উর্ধ্বসীমা ২.৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার কথা প্রস্তাব করা হচ্ছে। এর ফলে উপকৃত হবেন দেশের ৩ কোটি মানুষ। এখানেই শেষ নয়, প্রাইভেট ফান্ড ও নির্ধারিত কিছু ইক্যুইটিতে ইনভেস্ট করলে বেতনভোগীদের ক্ষেত্রে ৬.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনও কর দিতে হবে না বলে এদিনে বাজেটে ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী। এরই সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড ট্যাক্স ডিডাকশন ৪০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। এদিন ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী পিযুষ গোয়েল বলেন,

৪০ লক্ষ টাকার কম লেনদেন হলে জিএসটি রিটার্ন লাগবে না। পাঁচ কোটির কম লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা তিন মাস অন্তর জিএসটি রিটার্ন করতে পারবে।
৩ লক্ষ টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা বার্ষিক আয়ে ৫ শতাংশ আয়কর দিতে হবে৷ ৮০ বছরের উর্ধ্বে ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আয়কর থাকছে না৷ ৬০ বছরের নীচের বয়সের নাগরিকদের আয় যদি ৫ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে হয়, তা হলে ২০ শতাংশ আয়কর প্রযোজ্য হবে তাদের ক্ষেত্রে৷ আবার ৬০ বছরের উর্ধ্বের নাগরিকদেরও ২০ শতাংশ আয়কর দিতে লাগবে৷ ১০ লক্ষের বেশি বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে আয়কর ৩০ শতাংশ হবে৷ বাজেটে ঘোষণা অনুসারে প্রত্যক্ষ করের আদায় অনেকটাই বেড়েছে এই সরকারের আমলে এমনটাই দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী পিযুষ গোয়েল। দেশের সমস্ত ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যে তাদের ঋণের টাকা শোধ করেছেন বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া সরকারের নতুন পেনশন স্কিমে শ্রমিকদের মধ্যে যাদের আয় মাসে ১৫০০০ টাকার কম তাদের জন্য ৩০০০ টাকা পেনশন ঘোষণা করেছে সরকার। এতে উপকৃত হতে চলেছে ১০ কোটি শ্রমিক। তবে এই পেনশন পেতে হলে অসংগঠিত শ্রমিকদের মাসে ১০০ টাকা করে দিতে হবে এবং ৬০ বছরের পর পেনশন পাবেন তারা। এদিন বাজেটে গ্র্যাচুইটির সর্বোচ্চ সীমা ১০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে করা হল ৩০ লক্ষ টাকা করা হযেছে। দেশের সংগঠিত ও অসংগঠিত শ্রমিক সহ চাকুরিদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে এই বাজেট। এছাড়া এদিন ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী বাজেট ঘোষণা করতে গিয়ে বলেন দেশে মুদ্রাস্ফীতির কোমর ভেঙে দিয়েছে এই সরকার। ভারতের অর্থনীতি দৃঢ় হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই উর্ধ্বমুখী ছিল সেনসেক্স। বাজেট পেশের পর ১৫০ পয়েন্ট উপরে উঠে গিয়েছে সেনসেক্স। বাজেট শুনতে ইতিমধ্যে সংসদে পৌঁছে গিয়েছেন রাজনাথ সিং, সুষমা স্বরাজ। বাজেট শেষে অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলির অরোগ্য কামনা করেন ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী। শেষ মুহুর্তে সরকার মধ্যবিত্তদের মন কতটা জয় করতে পারল সেই ফলাফল অবশ্য লোকসভা ভোটেই জানা যাবে এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।