Date : 2020-11-01

এই প্রথমবার থিয়েটারে কালপুরুষ

ওয়েব ডেস্ক: সম্প্রতি সমরেশ মজুমদারের কালপুরুষ প্রথমবার থিয়েটারে অভিনীত হল। নির্দেশনা ও অন্যতম চরিত্রে দেখা গিয়েছিল সিতাংশু খাটুয়াকে। সমরেশ মজুমদারের কালজয়ী উপন্যাস
অবলম্বনে নাটক কালপুরুষ। লেখক সৃষ্ট অমর চরিত্র অনিমেষের জীবনচক্রের তৃতীয় খণ্ড কালপুরুষ। কেন্দ্রীয় চরিত্র অনিমেষ ও মাধবীলতার একমাত্র ছেলে অর্ক। বস্তির পরিবেশে আর পাঁচটা রাস্তার ছেলের সঙ্গে মিশে বখাটে হয়ে ওঠে অর্ক। তার সঙ্গীদের নাম কয়লা, খুরকি, কিলা, কোয়া, বিলু। দেখা যায়, অনিমেষ বা মাধবীলতার আদর্শের বিপরীতে অর্ক জীবনের খারাপ দিকগুলোর প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু তার মধ্যে এইসব ছাড়াও ছিল পরপোকারীতা, সারল্যতা।

তবে দুই ভিন্ন মেরুর নারী অর্কর জীবনে প্রবেশে অর্ক পড়ে এক দ্বন্দ্বের মধ্যে। নাম উর্মিমালা ও ঝিমলি। এরপর অনিমেষ মাধবী আর অর্ককে নিয়ে জলপাইগুড়ি যায়। কিন্তু সেখানে বাবা মায়ের মান অভিমানে এক অজানা সত্য জানতে পারে অর্ক। জানতে পারে তার বাবা মায়ের সামাজিক বিয়ে হয়নি। তাই অর্ক নিজেকে বেজন্মা ভাবে। তবে সেই দূরত্ব গাঢ় হতে পারেনা। আবার তিনজনের মান অভিমান ভেঙে এক হওয়ার ছবি ফুটে ওঠে। আর এই যাত্রায় অর্কর সঙ্গী হয় উর্মিমালা। এখান থেকে গল্প মোড় নেয় অন্যদিকে।

বস্তিবাসীদের নিরন্তর অভাব আর অনাহারের তাড়নার প্রতিরোধে অর্কর নেতৃত্বে তৈরি হয় যৌথ তহবিল। অনেকগুলি পরিবার নিয়ে বারোয়ারি হেঁশেল। কিন্তু অর্কর এই নেতৃত্ব আর জনপ্রিয়তাকে ক্ষমতাশীল দল সুনজরে দেখে না। অর্ককে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তখন মাধবীলতা আর উর্মির নেতৃত্বে গোটা বস্তিবাসী একজোট হয়। অর্কর অসমাপ্ত কাজের দায়িত্ব তুলে নেয় উর্মি। একজোট হয়ে সর্বজনের হিতের বার্তা দিয়ে শেষ হয় এই নাটক।