Date : 2020-10-24

সরস্বতী পুজোর বিসর্জনে ‘নিঃশব্দে’ বাজল ডিজে! কিভাবে? জানতে পড়ুন…

পশ্চিম বর্ধমান: একদিকে বসন্ত পঞ্চমীর আকাশে বাতাসে প্রেম প্রেম ভাব অন্যদিকে ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা মাধ্যমিক। কোনটা ছেড়ে কোনটা করি অবস্থায় সরস্বতী পুজোর দিনটা এই বছর অনেক পড়ুয়ারই কেটেছে। রাজ্য জুড়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে, তাই বিসর্জনের হুল্লোড়ের উপরও কোপ পড়েছে আদালতের। বাজানো যাবেনা ডিজে, তারস্বরে মাইক। তাই বলে কি আর সুবোধ বালক হয়ে সরস্বতী বিসর্জন করা যায়! সঙ্গীত, বিদ্যার দেবীর বিসর্জন হবে আর নাচ হবে না? বাসে ট্রামে যেখানে সেখানে হেডফোনে পছন্দের গান বাজলে বিসর্জনে কেন বাজবে না?

এমন অভিনব চিন্তা ভাবনা নিয়ে আসানসোলের মিঠানি সাথী ক্লাবের সদস্যরা আয়োজন করেছিল “নিঃশব্দ বিসর্জনে – বিন্দাস আনন্দে”। আইন বাঁচাতে কানে হেডফোন নিয়ে ধুমধাম গানের সঙ্গে দেদার নাচতে নাচতে বিসর্জনের পা মেলালেন মিঠানি সাথী ক্লাবের সদস্যরা। মঙ্গলবার ছিল মাধ্যমিকের প্রথম ভাষার পরীক্ষা। বিকেলে আসানসোল শহরের পথ চলতি মানুষেরা দেখলেন মাইক ডিজে ছাড়া একদল মানুষ রাস্তা দিয়ে আপন মনে নাচতে নাচতে এগিয়ে চলেছে।

কখনো বা কেউ মুখে নানা রকম শব্দ করছে, হাত পা ছুড়ছে। কান্ড দেখে প্রথমে হাস্যকর মনে হলেও শব্দদূষণ রুখতে এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই অভিনব বিসর্জন শোভাযাত্রাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য এই ক্লাবের ডাকের সাজের সরস্বতী প্রতিমার পিছনে এবার দেখা যায় একটি পোস্টার।

সেখানে লেখা “মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের প্রতি আমার রইল আর্শীবাদ”। আর বিসর্জন শোভাযাত্রায় ক্লাবের অভিনব বিসর্জন ভাবনা এবার ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ক্লাবের সদস্য অয়ন চট্টরাজ, শ্রেয়া পাত্র, পল্লবী পাত্ররা বলেন- “মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য শুভকামনা করে কি আর প্রতিমা বিসর্জনের সময় মাইক বাজিয়ে তাদের বিরক্ত করা যায় ? আবার বিসর্জনে একটু কোমর না দোলালে পুজোটাও যেন অসম্পূর্ণ লাগে”।

তাই সাইকেল ভ্যানে মা সরস্বতীকে নিয়ে বিসর্জনের পথে নিঃশব্দ শোভাযাত্রার অভিনব এই উদ্যোগ নজির সৃষ্টি করে গেল। শুধু বিসর্জনে নয়, পুজোর প্রথম থেকেই এই ক্লাবের সদস্যরা পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিল।

তাই মাইকের বদলে হেডফোনে বাজল হিন্দি রিমিক্স ‘আঁখ মারে’ কিংবা ভোজপুরি গান ‘গোরি তেরি চুনরি লাল লাল রে’ থেকে গুরু রানধাওয়ার ‘পাটোলা বানকে’ তাও কাউকে বিরক্ত না করেই! নিঃশব্দ নাচের সঙ্গে সঙ্গে শোভাযাত্রায় ক্লাবের সদস্যরা পরস্পরের সঙ্গে আবির খেলায় মাতে।

নিঃশব্দ এই নাচানাচি দূর থেকে হাসাহাসির কারণ হলেও দিনের শেষে তারাই প্রকৃত শিক্ষা ও মানবিকতার পরিচয় দিলেন আসানসোলের মানুষের কাছে।