Date : 2019-08-26

সম্পত্তির দাবিতে অসুস্থ বাবাকে নির্মম অত্যাচার দুই ছেলের

নদিয়া: একসময় যে দুটো হাতে সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে, বয়সের ভারে ক্রমশ অক্ষম হতে থাকে সেই হাত। মজবুত একটা সাহারার কাঁধ খুঁজে বেড়ায় সেই দুটো হাত। কিন্তু যে সন্তানকে এতদিন ধরে সে তিলে তিলে বড় করে তুলেছে সেই সন্তানই যখন অক্ষম হাত দুটিকে ধরতে অস্বীকার করে! এমন ঘটনার নজির এখন কিছু কম নয়। সম্পত্তির লোভে অসুস্থ বৃদ্ধ পিতার উপর পুত্রের জুলুমের অভিযোগ উঠল নদিয়ার শান্তিপুরে। ছেলের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে নিজের বাড়ী ছেড়ে বন্ধুর বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছেন অসহায় ওই বৃদ্ধ। সূত্রের খবর, শান্তিপুরের ফুলিয়া কলোনির বাসিন্দা ৬৫ বছরের খোকন চন্দ্র দাস পেশায় একজন তাঁত শিল্পী ছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর দুই ছেলে কৃষ্ণ দাস ও বিষ্ণু দাসকে নিয়ে থাকতেন বৃদ্ধ। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে খোকন বাবুর চিকিৎসার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসার খরচ চালানোর জন্য নিজের দুই ছেলের থেকে টাকা না পেয়ে বাড়ি বেঁচে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন খোকন বাবু। অভিযোগ সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ বাঁধে দুই ছেলের সাথে। বাড়ি নিজেদের মানে লিখিয়ে নেওয়ার জন্য খোকন বাবুকে চাপ দিতে থাকে তার দুই ছেলে। ছেলেদের দাবি না মানায় খোকন বাবুর উপর চলতে থাকে অমানবিক নির্যাতন। অভিযোগ,দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন ওই বৃদ্ধ। কিন্তু অভিযোগ পেয়েও ছেলেদের বিরুদ্ধে কোন রকম ব্যবস্থা নেই নি পুলিশ। ফলে বৃদ্ধের উপর ছেলেদের নির্যাতন আরও বেড়েছে। রবিবার বৃদ্ধ ছেলেদের অত্যাচারের কথা শান্তিপুর থানায় জানালে পুলিশ খোকন বাবুর বাড়ী যায়।অভিযোগ,পুলিশের কাছে সাহায্য চাওয়ায় ও বাড়িতে পুলিশ যাওয়ার অপরাধে মঙ্গলবার দুপুরে ও রাতেও বৃদ্ধাকে ব্যাপক মারধর করে তার ছেলেরা। রাতে কোনক্রমে দুই ছেলের হাত থেকে রেহাই পেতে বাড়ী থেকে পালিয়ে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে যান বৃদ্ধ। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে খোকন বাবুকে উদ্ধার করে তার বন্ধুর বাড়ীতে পৌঁছে দেয়। বুধবার আবার শান্তিপুর থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন বৃদ্ধ খোকন চন্দ্র দাস। এখন পুলিশ অভিযুক্ত ছেলেদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে কিনা সেই দিকেই তাকিয়ে অসহায় বৃদ্ধ খোকন বাবু।