Date : 2020-10-25

দান বাবার কাছে মানত করতে কাঁকসায় মানুষের ঢল

পশ্চিম বর্ধমান: জাতি ধর্ম নির্বিশেষে মেলা মানুষের মিলন ক্ষেত্র। গ্রীষ্মের সময়টা বাদ দিয়ে প্রায় সারা বছর বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে নানা রকম মেলা অনুষ্ঠিত হয়। কেঁদুলির জয়দেবের মেলা, ঘুটিয়ারি শরিফের মেলার মতো বিখ্যাত না হলেও পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসার দান বাবার মেলা অঞ্চলের মানুষের কাছে বিশাল মাহাত্ম্য রাখে। বসন্তের প্রারম্ভে ৬৪ বছর ধরে কাঁকসার এই মেলা চলে আসছে।

এলাকার মানুষের কাছে দান বাবার মাহাত্ম্য প্রচুর। দূর-দুরান্ত থেকে মানুষ এসে দান বাবার কাছে মানত করে, পুজো দিয়ে যায়। কে এই দান বাবা? তিনি আসলে সৈয়দ পাহাড়ি শাহ। গরিব-দুঃখী মানুষদের সাহায্য করতেন মুক্ত হস্তে। এই দানধর্ম বাবাকে মহান ও অমর করে রেখেছে এলাকার মানুষের কাছে।

তাঁর মৃত্যুর পর সমাধিস্থল তৈরি করা হয়। সেই সমাধিস্থলকে ঘিরেই বসে এই মেলা। এছাড়া এলাকার মানুষের বিশ্বাস বাবা স্থুলদেহ ত্যাগ করলেও মানুষ আজও তাঁর কাছে এসে কিছু চাইলে খালি হাতে ফিরে যায় না। ধর্ম সম্প্রদায় নির্বিশেষে দান বাবার মেলা আসলে সমস্ত ধর্মের মানুষের মিলন ক্ষেত্র।

বাবার সমাধিতে মাথা ঠুঁকে বহু কঙ্খিত আশা পূরণ করতে চান সকলেই। মুসলিম, শিখ, হিন্দু মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। জাতি ধর্ম সব কিছুর উর্ধেই মানুষের বিশ্বাস। বিশ্বাসের টানে বাবার সমাধিতে চাদর,ফুল চড়িয়ে যান অনেকেই। মেলায় কাওয়ালি শিল্পীরা গানের আসর নিয়ে হাজির হয়।

২৫ ফাল্গুন থেকে চলে সাত দিন ধরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জমজমাট থাকে মেলা প্রাঙ্গন। এই মেলায় যাতে কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য সদা সতর্ক থাকে বর্ধমান জেলা প্রশাসন। পর্যাপ্ত পরিমানে পুলিশ মোতায়েন করা থাকে মেলা প্রাঙ্গনে। এছাড়া থাকে ২৪ ঘন্টার মেডিকেল টিম।

মেলার মাহাত্ম্য যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তাতে আগামী দিনে এই মেলার পরিকাঠামো আরও উন্নত করার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে মেলা পরিচালন কমিটি। ধর্মের অগে বিশ্বাস আর তা থেকেই ভক্তি আসে। সেখানে থাকেনা সামাজিক ভেদাভেদের বেড়া জাল। দান বাবার সমাধি আসলে বহু মানুষের একক বিশ্বাসের মিলন ক্ষেত্র।