Date : 2020-10-26

অকাল বর্ষণের জেরে বিপাকে আলু চাষীরা

বর্ধমান: বসন্তের শুরুতে অকাল বর্ষণের জেরে ব্যপক ক্ষতির মুখে আলু চাষীরা। কালবৈশাখীর তান্ডবে গত ৪ দিনে রাজ্যের বেশ কিছু জেলায় সমস্যার মুখে পড়েছে কৃষিকাজ। যার জেরে আলু চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্ধমান সহ পশ্চিমের বেশ কিছু জেলায় শিলাবৃষ্টির ফলে ক্ষেতের আলুতে পচন ধরতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আলু চাষীদের মাথায় হাত। জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রের খবর, বর্ধমান জেলার ৪টি ব্লকে শিলাবৃষ্টির ফলে ওই ৪টি ব্লকে আলু, পিঁয়াজ, আম ও সজনে চাষে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি দপ্তরের যুগ্ম কৃষি অধিকর্তা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “সোমবার গভীর রাতে পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি ১ ও ২ , মেমারি ১ ও ২, বর্ধমান সদর এবং কালনায় শিলাবৃষ্টির জেরে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রতিটি ব্লক কৃষি আধিকারিককেখতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কতটা ক্ষতি হয়েছে তা বলা সম্ভব নয়।” এরই পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, “জেলার ২৩টি ব্লকের মধ্যে বেশ কয়েকটি ব্লকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির জল আলু জমিতে জমে রয়েছে। দ্রুত সেই জল বার করে দিতে না পারলে আলুর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে”।

আলু চাষিরা জানিয়েছেন, এবছর তারা আলু চাষ করেছিলেন। কিন্তু যেভাবে সোমবার প্রবল শিলাবৃষ্টি হয়েছে তাতে মাটির তলার আলু পচে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের কথায়, জমিতে আলু তুলতে এখনও প্রায় একমাস দেরি। এখনও আলু পোষ্টালো হয়নি। যদিও ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ১০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু সরকারীভাবে কেনার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ১০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু কেনা হলেও পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আলু ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবারই জেলার আলু ব্যবসায়ীদের একটি সম্মেলনও হয় বর্ধমান টাউন হলে। এব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির রাজ্য সম্পাদক লালু মুখার্জ্জী জানিয়েছেন, সরকার যে পরিমাণ আলু কিনতে চাইছেন, তাতে সমস্যার সমাধান হবে না। বাংলার আলুকে রাজ্যের বাইরে পাঠাতে না পারলে এই সমস্যার সমাধান হবে না।