Date : 2019-06-25

প্রথমবার নাসার লেন্সে ধরা পড়ল কৃষ্ণ গহ্বর

ওয়েব ডেস্ক: ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরের অস্তিত্ব জানতে পারলেও মহাশূণ্যে কতগুলি কৃষ্ণগহ্বর আছে তার হিসেব নেই নাসার কাছে।

এমনকি কৃষ্ণ গহ্বরের ছবিও তুলতে পারেনি নাসা।

এবার টেলিস্কোপ ব্যবহার করে একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী নক্ষত্র ধসে জটিল কালো বস্তু গড়ে ওঠার ছবি তুলতে সক্ষম হল।

তবে নক্ষত্র ধসে তৈরি হওয়া বস্তুটি নিয়ট্রন তারা নাকি মহাশূণ্যে রহস্যের আড়ালে থাকা কৃষ্ণগহ্বর তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষ্ণ গহ্বরের ছবি সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা। সেই নিয়ে বিতর্কের সুত্রপাত।

নাসার তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইতে অবস্থিত মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার অ্যাস্ট্রেরয়েড টেরেস্ট্রিয়াল-ইম্প্যাক্ট লাস্ট অ্যালার্ট সিস্টেম টেলিস্কোপে গত বছরের ১৬ জুন রাতের আকাশে সংক্ষিপ্ত ও অস্বাভাবিক ওই বিস্ফোরণ ধরা পড়ে।

ওই বিস্ফোরণের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এটি ২০১৮ কাউ’।

এই বিস্ফোরণকে ‘দ্য কাউ’ নাম দিয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নাসার গবেষকেরা বলেন, তিনদিনেরও বেশি সময় ধরে আকস্মিক ওই বিস্ফোরণের আভা দেখা যায় যা সাধারণ সুপারনোভার থেকেও উজ্জ্বল।

এরপর কয়েকমাস ধরে এর উজ্জ্বলতা কমতে থাকে।

নাক্ষত্রিক ধ্বংসাবশেষ ঘুরপাক খাওয়ায় ওই উজ্বল আভার সৃষ্টি হয়। রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণা সংক্রান্ত নিবন্ধ।

গবেষকেরা বলছেন, ছিন্নভিন্ন নক্ষত্রটি একটি সাদা বামন যা পৃথিবীর আকারের একটি অধিক উষ্ণ নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ।

এটি সূর্যের মতো একটি নক্ষত্রের সর্বশেষ পর্যায়।

বড় আকারের নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষের মেঘ ধূমায়িত হয়ে এই কৃষ্ণ গহ্বরের সৃষ্টি হয়।

তবে আরেক দল গবেষক ওই তথ্য বিশ্লেষণ করে বলছেন, একটি নক্ষত্র বিস্ফোরণ বা সুপারনোভা থেকে দ্য কাউ নামের কৃষ্ণ গহ্বরের সৃষ্টি হয়েছে।

কাউয়ের বৈশিষ্ট্য দেখে মনে হয়েছে, এত দ্রুত কোনো বস্তু পরিবর্তন হতে পারেন না, আর তথ্য অনুযায়ী কৃষ্ণ গহ্বরের সৃষ্টি এত দ্রুত সম্ভব নয়।

এটি মূলত সুপারনোভা বা এক ধরনের নাক্ষত্রিক বিস্ফোরণ।

এই তত্ত্বই শেষ পর্যন্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন বিজ্ঞানী মহল।