Date : 2020-10-27

শতবর্ষের বর্ণময় অধ্যায়কে পেছনে ফেলে অমৃতলোকের পথে বড়মা

ওয়েব ডেস্ক: ঘড়ির কাঁটায় তখন ৮ টা ৫২ মিনিট, ফাল্গুনী অমাবস্যার নিকষ কালো আকাশে নক্ষত্রলোকের পথে যাত্রা করলেন বড়মা। মাতৃহারা মতুয়া সন্তানরা অনাথ হয়ে গেলেন চিরতরে। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, বার্ধক্য জনিত কারণে ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন বীণাপাণি দেবী। বেশ কয়েকদিন ধরে কল্যাণী জে এন এম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রবিবার অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় গ্রিন করিডর করে কলকাতায় নিয়ে আসা হয় বড়মাকে। ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয় তাঁকে।

মঙ্গলবার বিকেলে বড়মাকে হাসপাতালে দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই ডাক্তাররা তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার কথা জানান। তাঁর মৃত্যুতে দীর্ঘ শতবর্ষের সংগ্রামী জীবনের যবনিকা পতন হল। ১৯১৯ সালে বরিশালের জব্দকাঠি গ্রামে বীণাপাণিদেবীর জন্ম হয়। খুব কম বয়সে বিয়ে হয় ফরিদপুরের প্রমথরঞ্জন ঠাকুরের সঙ্গে। দেশভাগের পর স্বামী প্রমথরঞ্জনের সঙ্গে মতুয়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের হাত ধরে আসেন বনগাঁর অশোকনগরে। তবে মতুয়া সম্প্রদায়ের যে সেখানেই উত্থান হয়েছিল এমনটা নয়।

ওপার বাংলায় থাকাকালীন প্রমথরঞ্জনের দাদু হরিচাঁদ প্রবর্তন করেছিলেন বৈষ্ণব ধর্মের এই নতুন শাখার। পরবর্তীকালে তা এগিয়ে নিয়ে যান প্রাক্তন সাংসদ প্রমথরঞ্জন ও তাঁর স্ত্রী বীণাপাণি দেবী। দিন দিন বাড়তে থাকে ভক্তের সংখ্যা৷ জীবনভর মতুয়াদের অধিকারের ও মর্যাদার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন বড়মা৷ জনপ্রিয়তার জন্য অশোকনগরে কাছে প্রমথরঞ্জন ও বীণাপাণি দেবীর বসতবাড়ি আর মতুয়াদের প্রধান কার্যালয় গড়ে ওঠায় সমগ্র অঞ্চল আজ ঠাকুরনগর নামে খ্যাত। প্রমথরঞ্জন ঠাকুর স্বাধীনতা সংগ্রামের অংশ নিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম বিধানসভার নির্বাচিত মতুয়া সম্প্রদায়ের বিধায়ক।

বীণাপাণি দেবী স্বামীর লড়াইকে জারি রেখেছিলেন, মতুয়া ধর্মের বিস্তার লাভের জন্য বিশেষ ভুূুমিকা পালন করেন। সময় অসময়ে তাঁর কাছে ছুুটে এসেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বড়মার আশীর্বাদ নিয়ে নেমেছেন মতুয়া অধ্যুষিত ঠাকুরনগর অঞ্চলে ভোটর ময়দানে মানুষের মন পেতে। লোকসভা ভোটের আগে এখন ঠাকুরনগর অভিভাবক শূন্য।