Date : 2020-10-29

ছুঁয়ে দেখা নারীত্বের স্বাদ…

ওয়েব ডেস্ক: সোশ্যালিস্ট পার্টি অফ আমেরিকার নেতৃত্বে কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সম সম্মান ও সম বেতনের দাবিতে প্রথম প্রতিবাদ করেছিলেন এক নারী। ১৯০৯ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি সেদিন প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পালন করা হয় নারী দিবস। ১৯১০ সালে ৮ মার্চ শান্তির জন্য বিশাল পদযাত্রার করেন ইউরোপের নারীরা। জাতিসংঘের সদিচ্ছায় সেইদিনটিকেই নারী দিবসের আখ্যা দেওয়া হয়। দিনটি কি শুধুমাত্র জন্মসূত্রে নারীদের জন্যই? একবিংশ শতাব্দীর চৌকাঠ পেরিয়ে অর্জিত নারীত্বের অধিকারী সেই সব নারীদের কথা কি ভুলতে পারি? জন্মসূত্রে পুরুষ পরিচয় পেয়েও স্বেচ্ছায় নারীত্বের স্বাদ পেতে চেয়েছেন এঁরা।

সামাজিক বঞ্চনার সামনে রুখে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন যুদ্ধ চালিয়েছেন অর্ধেক আকাশ হয়ে উঠতে। প্রসঙ্গত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘চিত্রাঙ্গদা’ ছবির সেই সংলাপটি মনে আসে, “আমি সেক্স চেঞ্জ করে নেব”!

হ্যাঁ করে দেখিয়েছেন। স্বেচ্ছায় লিঙ্গ বদলে নারীর পরিচয়ে তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। দেশ পেয়েছে প্রথম রুপান্তরকামী কলেজ প্রিন্সিপাল মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়কে। প্রথম রুপান্তরকামী আইনজীবী হয়েছেন সায়ন্তনী ঘোষ। নারীত্বের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তার রূপ লাবণ্যের বর্ণনা সামনে আনেননি তাঁরা। “আমি তো থার্ড জেন্ডার। মাতৃগর্ভ থেকে তো আর নারী হয়ে জন্মাইনি। আমি হলাম হয়ে হয়ে ওঠা নারী, মানে আদতে আনাড়ি! আসল নারীরা সিলভার হলে আমি হলাম ব্রোঞ্জ।”

এই কথার মধ্যে দিয়ে মানবী বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে সামান্য হলেও পূর্ণ নারী হয়ে ওঠার থেকে আলাদা করেছেন, কেন? চার বছর বয়সে তুতোদাদার যৌনলালসার শিকার, প্রকাশ্যে নিজেকে নারী বলে স্বীকার করা, একের পর এক প্রেম ভেঙে যাওয়া, যাদবপুর থেকে স্নাতকোত্তর এবং এম ফিল, পরে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা, স্কুল-কলেজে শিক্ষকতার চাকরি, রূপান্তরিত হয়ে নারী হিসেবে নবজন্ম, বিয়ে, আর সবশেষে মেয়েদের কলেজে অধ্যক্ষের পদে নির্বাচিত হওয়া। এতটা পথ পেরিয়ে এসে আজ মানবী আগের চেয়ে অনেক আত্মবিশ্বাসী, উদ্যমীও। অন্যদিকে মেঘ ওরফে সায়ন্তনী ঘোষ, হাজরা ল কলেজ থেকে আইনে স্নাতকোত্তরে ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছিলেন মেঘ।

এর পরেই পুরুষ শরীর বদলে ফেলে নারী হয়ে ওঠার প্রয়াস শুরু। কন্টকময় যাত্রাপথে সমাজের কটুক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে তিনি আজ আলিপুর জাজেস কোর্টের কর্মরত আইনজীবী। প্রতিনিয়ত মন ও শরীরের সঙ্গে দ্বন্দ্বে ক্লান্ত সায়ন্তনী নৃত্যশিল্পী রূপে মেলে ধরতে চেয়েছিলেন নিজের নারী সত্ত্বাকে। যে দেশে নারী অর্ধেক আকাশ হতে পেরেছে, বহু সম্মানের অধিকারী হয়েও লাঞ্ছিত হতে হয় নারীকে, সেই দেশে নারীত্ব অর্জনের জন্য লড়াই চলে প্রতিনিয়ত। সত্যিই ‘নারী’ আদ্যপ্রান্ত সত্যিই রহস্যময়ী।