Date : 2020-12-03

চৈতন্য অন্তর্ধানের কিনারা করতে গিয়ে গবেষক মৃত্যু রহস্য আঁধারে

ওয়েব ডেস্ক: ১৫৩৩ সালের ২৯ জুন গান গাইতে গইতে পুরীর মন্দিরে ঢুকে ছিলেন নবদ্বীপের গোরাচাঁদ। কিন্তু চন্দ্রে গ্রহণ সেদিনই লেগেছিল। দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও মন্দির থেকে বেড়িয়ে আসেননি মহাপ্রভু। কোথায় গেছিলেন তিনি সেই প্রশ্নের উত্তর তাঁর জন্মের ৫০০ বছর পরেও খুঁজে পায়নি কেউ। রহস্য ,মিথ আর কাহিনীর আড়লে সত্যকে ধামা চাপা দিয়ে রাখা আছে। চৈতন্যের অবতার জন্মকে প্রমান করার জন্য তাঁর ভক্তরা বলেন পুরীতে শ্রী বিগ্রহে বিলীন হয়ে গেছিলেন তিনি, কেউ আবার মহাভারতে শ্রী কৃষ্ণের মৃত্যু সঙ্গে তার মিল তৈরি করতে ধনুষ্টঙ্কারের গল্প বলেন।

ওই সময় থেকে সাড়ে চারশো বছর বাদে সেই রহস্যই ভেদ করতে গিয়েছিলেন “কঁহা গেলে তোমা পাই” নামক চৈতন্য অনুসন্ধানী গ্রন্থের লেখক জয়দেব মুখোপাধ্যায়। ১৯৯৫ সালের ১৭ এপ্রিল অস্বাভাবিকভাবে মারা যান৷ চৈতন্য দেব অন্তর্ধান হয়েছিলেন, কিন্তু জয়দেব বাবু? অন্তর্তদন্ত বলছে, জয়দেববাবুকেও খুন করা হয়েছে। জনপ্রিয় একটি পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যায় ‘চৈতন্য খুনের কিনারা করতে গিয়ে খুন’ শীর্ষক বিশেষ নিবন্ধ লিখেছিলেন অরূপ বসু৷ লেখক প্রশ্ন তোলেন, জয়দেব মুখোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু কেন আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হল? তিনি দাবি করেছেন ওই গবেষক পুরীতে খুনই হয়েছিলেন৷

সেক্ষেত্রে তড়িঘড়ি ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে পুরো বিষয় ধামাচাপা দিয়ে দেয় ওড়িশা পুলিশ, এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনেন লেখক। প্রথমে সংবাদ মাধ্যমে গবেষক জয়দেব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর বের হলেও পরবর্তী সময়ে সেই খবরের কোনও ফলো-আপ দেখা গেল না কেন? “কঁহা গেলে তোমা পাই” গ্রন্থটির প্রথম খণ্ড বের হলেও দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশের আগেই মারা যান জয়দেববাবু৷ যদিও দ্বিতীয় খণ্ডের রসদ জোগাড় হয়ে গিয়েছিল তাঁর৷ এরপরেই মৃত্যু হয় তাঁর। ১৯৭৬ সালের ৫ আগস্ট চৈতন্য গবেষক জয়দেব মুখোপাধ্যায়কে পাঠানো একটি চিঠিতে চৈতন্য গবেষক ডঃ নীহাররঞ্জন রায় লিখেছিলেন, “চৈতন্যদেবকে গুম খুন করা হয়েছিল পুরীতেই এবং চৈতন্যদেবের দেহের কোনও অবশেষের চিহ্নও রাখা হয়নি কোথাও। এবং তা হয়নি বলেই তিনটি কিংবদন্তী প্রচারের প্রয়োজন হয়েছিল।…এই বয়সে শহীদ হওয়ার ইচ্ছে নেই বলে বলতে পারবো না, ঠিক কোথায় চৈতন্যকে খুন করা হয়েছিল।”

প্রসঙ্গত স্বর্গদ্বারে এখন যে চৈতন্যমূর্তিটি দেখতে পাওয়া যায়, সেটাও জয়দেববাবুর উদ্যোগেই স্থাপন হয়েছিল৷ শ্রীচৈতন্যের সংস্পর্শে কলিঙ্গের সেই সময়কার রাজা প্রতাপরুদ্র এতটাই আবিষ্ট হয়ে যান যে, তাঁর উপর পুরীর পাণ্ডাদের প্রভাব কমে আসে৷ মহাপ্রভুর মহিমায় রাজা ক্রমশ যুদ্ধবিরোধী হয়ে পড়ায় যুদ্ধবাজ এবং যুদ্ধের সরঞ্জাম বিক্রেতারাও অসুবিধায় পড়েছিল৷ সাহসী প্রবন্ধিক অরূপ বসু চৈতন্য গবেষক জয়দেব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু নিয়ে এভাবেই সত্য তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু তাতে যেমন জট খোলেনি চৈতন্য অন্তর্ধান রহস্যের তেমন তদন্ত হয়নি গবেষক জয়দেব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর।