Date : 2019-07-23

দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে দহনের থ্রিলার, জনশূন্য বাস-ট্রেন

ওয়েব ডেস্ক: দেশ জুড়ে ভোটের মরশুম চলছে। গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা গোটা রাজ্যের। সকাল থেকেই ঠাঁ ঠাঁ রোদে জ্বলছে চোখ। কোনও মতে অফিস অথবা গন্তব্যে পৌঁছে হাফ ছেড়ে বাঁচছে মানুষ। বেলা গড়াতেই রৌদ্রের তেজ সহ্য করতে না পেরে পথ মুখো হচ্ছে না কেউই। বৃহস্পতিবার রবীন্দ্র জয়ন্তী উপলক্ষ্যে রাজ্য সরকারের ছুটি ছিল। শুক্রবার কর্মব্যস্ত দিন হলেও দুপুরের পর থেকে লোকসংখ্যা কমে গিয়েছিল। শনিবার অনেক অফিসেই অর্ধ দিবস হওয়ার এবং ছুটি থাকায় কারণে সকাল থেকেই হাতে গোনা লোকজন ছিল রাস্তায়। কর্ম ব্যস্ত সাধারণ দিনে ট্রেনে বাসে তিল ধারণের জায়গা থাকে না।

হাওড়া হোক বা শিয়ালদহ, গলদঘর্ম অবস্থা হয় প্রতিদিন। শনিবার সেই হাওড়া লাইনের ট্রেনে চিত্রটা ছিল একেবারে ভিন্ন। দিনের কর্মব্যস্ত সময়ে ট্রেনে বসে আছে জনা পাঁচেক যাত্রী। শহরে রাস্তায় বাস পর্যাপ্ত পরিমানে থাকলেও লোকসংখ্যা ছিল নগন্য। শনিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ। রোদ থেকে মাথা বাঁচাতে ছাতার সঙ্গে সঙ্গে নাক মুখ ঢাকার জন্য স্কার্ফ ব্যবহার করছেন মেয়েরা। রোদ চশমা, ছাতা ভেদ করে রোদের জ্বালায় জেরবার হচ্ছে মানুষ।

বাসে বা ট্রেনে কোন ভাবে যদি জানলার ধারে একটু বসার মতো জায়গা মেলে তো আকাশের দিকে তাকিয়ে একটু মেঘের প্রতীক্ষা করা করে চলেছেন পথ চলতি মানুষ। তীব্র ক্লান্তিতে কেউ আবার চলার পথে লেবুর শরবতে ভিজিয়ে নিচ্ছেন গলা, কিংবা জিভের নিচে একটা ঝাল লজেন্স নিয়ে গরমেই ঝিমিয়ে পড়ছেন ট্রেনের কামরায়।

উত্তরবঙ্গে দহন জ্বালা এত তীব্র না হলেও দক্ষিণবঙ্গে আগামী আরও ২ দিন নিষ্ঠুর হবে প্রকৃতি। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুসারে চলতি মাসের ১৫ তারিখের পর থেকে ঝড়বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আগামী সপ্তাহের শুরুতে সন্ধ্যের পর কালবৈশাখীর সম্ভাবনার কথা শুনিয়েছে হাওয়া অফিস। প্রবল রোদে সান স্ট্রোকের হাত থেকে বাঁচকে ছায়াশীতল স্থানে থাকতে পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তাররা। প্রয়োজন না থাকলে বাইর মুখো হওয়ার সাহস কেউই পাচ্ছেন না।