Date : 2019-08-23

অমিতের রোড শো ঘিরে ধুন্ধুমারের জের, ৩২৪ ধারার প্রয়োগ কমিশনের

ওয়েব ডেস্ক: নির্বাচনী প্রচারকে ঘিরে রাজ্যে হিংসাত্বক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করল নির্বাচন কমিশন। স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোন রাজ্যে ৩২৪ ধারা প্রয়োগ করল নির্বাচন কমিশন।

শেষ দফা নির্বাচনে নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হল নির্বাচনী প্রচার। সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রচার কমিয়ে দেওয়া হল ২৪ ঘন্টা।

নিয়ম অনুসারে শুক্রবার পর্যন্ত শেষ দফার নির্বাচনী প্রচার করতে পারত রাজনৈতিক দলগুলি।

৩২৪ ধারা প্রয়োগের কারণে বৃহস্পতিবারই শেষ বারের মতো নির্বাচনী প্রচার করতে পারবেন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। এই ধারা শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই বহাল করা হল।

নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির ইশারায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র সচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

রাজীব কুমারকে অব্যহতি দেওয়া হয় রাজ্যের এডিজি সিআইডির দায়িত্ব থেকে। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরে চিঠি দেওয়ার কারণে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ একটি জনসভায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজে বাধা দিলে যে কোন আধিকারিককে স্ব-পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারেন।

মন্তব্যের কিছুদিনের মধ্যে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্বের গাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় কমিশনকে জানালেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

উপ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈনের বক্তব্য, গত ২৪ ঘন্টায় রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারে হিংসা ছড়ানোর ঘটনা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন।

দমদম, বারাসত, বসিরহাট, জয়নগর, মথুরাপুর, ডায়মন্ড হারবার, যাদবপুর, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ১৯ মে।

এই সব কেন্দ্রে আগামী কাল ১৬ মে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলিকে প্রচার কাজ শেষ করতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে।

রাজ্যে প্রচারকার্যের সময়সীমাকে কমিয়ে দেওয়ায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস ও বিএসপি।

ঘটনার তীব্র সমালোচনা করা হয় এই দুই দলের পক্ষ থেকেই।