Date : 2019-06-27

বিপর্যয়ের তথ্যতলাশে কালীঘাটে বৈঠক…

ওয়েব ডেস্ক: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু হতেই তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৪২টি আসনের ৪২টিতে জয় লাভের চ্যালেঞ্জ রেখেছিলেন। সারা ভারত জুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচারের মুখ হয়ে উঠতে “মহাগঠবন্ধনের” আহ্বান করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

সেই চেষ্টা কার্যত ভেস্তে গেল। সপ্তদশ লোকসভা ভোটের ফলাফল গণনা শুরু হতেই গেরুয়া ঝড়ে ধস্ত হতে শুরু করল বিরোধী জোটের দুর্গ। রাজ্যেও প্রতিটি আসনে বিজেপি রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে তৃণমূলকে। নির্বাচনের ফলাফলে স্বভাবতই আশাহত তৃণমূল কংগ্রেস। এই চুড়ান্ত হতাশাজনক ফলাফলের কারণ বিশ্লেষণ করতে শনিবার তৃণমূল নেত্রীর বাসভবনে বৈঠকে বসতে চলেছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন জেলা সভাপতি ও ব্লক স্তরের নেতৃত্ব। হতাশাজনক ফলাফলের কারণ হিসাবে দলের অন্দরেই উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন। শনিবার বৈঠকে সেই বিষয়গুলিকে তুলে এনে আলোচনা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে খবর।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার দল বিরোধী কার্যকলাপের জেরে দল মুকুলপুত্র শুভ্রাংশুকে ৬ বছরের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়। শনিবার কালীঘাটের বৈঠকে নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের জন্য জেলা স্তরে দায়িত্বে থাকা নেতৃত্বকে প্রশ্ন করা হতে পারে। এছাড়া দলের জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদেরও উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে এদিনের বৈঠকে।

দলের অভ্যন্তরে জল্পনা উঠেছে, এদিন বৈঠকে কয়েকজন নেতার রদবদল হতে পারে, দায়িত্বের থেকে অব্যহতিও পেতে পারেন কয়েকজন। দলের ব্যর্থতার পাশাপাশি উঠে আসছে বাম ভোট ভাগাভাগির জেরে বিজেপির লাভবান হওয়ার বিষয়টি।

বাম-কংগ্রেসের ভোট ভাগাভাগির ফলে লাভ হয়নি তৃণমূলের। সেই ভোট ফের তৃণমূলে টেনে আনতে আশু পরিকল্পনার প্রয়োজন বলে মনে করছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। লোকসভা লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হলেও ২০২১-এর রণকৌশল তৈরি করতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে তৃণমূল শিবিরে। এই বৈঠকে সেই ইঙ্গিতই মিলতে পারে বলে অনুমান রাজনৈতিক মহলের।