Date : 2019-11-22

জলশূন্য হতে পারে ২১টি শহর, চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট নীতি আয়োগের

ওয়েব ডেস্ক: ১৪ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে মৌসুমী বায়ু। নির্দিষ্ট সময়ের থেকে প্রায় ১৫দিন কেটে গেলেও উত্তর ভারত জুড়ে দেখা নেই বৃষ্টির। ফলে প্রবল দাবদাহে দেশজুড়ে তীব্র জলসংকট দেখা দিতে শুরু করেছে। দেশের ৯১টি জলাধারের মধ্যে ৪৯টিতেই জলস্তর স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই নেমে গেছে। তাছাড়া গরমে উত্তরভারত জুড়ে প্রায় ১৫টি জলাধার শূন্য হয়েছে। এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভূগর্ভস্থ জল সংকটের কারণে আগামী দু বছরের মধ্যে দেশের ২১টি নগরীতে পানীয় জলের যোগান দেওয়া অসম্ভব হয়ে যাবে।

এমনই উদ্বেগজনক রিপোর্ট পেশ করল বেশ কয়েকটি রাজ্যের জল সম্পদ মন্ত্রকের তরফে। ভারতে ২১ টি প্রধান শহরগুলোতে ২০৩০ এর মধ্যেই ভূগর্ভস্থ পানীয় জল ফুরিয়ে যাবে বলে তথ্য পেশ করা হয়েছে,যার প্রভাব পড়বে ১০০ মিলিয়ন নাগরিকের উপর।তীব্র পানীয় জলের সংকট বয়ে নিয়ে আসবে দেশবাসীর খাদ্য নিরাপত্তার চরম অভাব।

কৃষি নির্ভর দেশ হওয়ায় জল সংকটের ফলে বন্ধ হতে পারে চাষ-আবাদ। এই দেশের ৮০ শতাংশ জলসম্পদ ব্যবহৃত হয় কৃষিকার্যে। নীতি আয়োগের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি বছরেই জলসংকটের কারণে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। তাছাড়া পরিশ্রুত পানীয় জলের অভাবে জলবাহিত রোগের প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে দেশজুড়ে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে জলসংকটে মহারাষ্ট্র সবচেয়ে চিন্তাজনক জায়গায় রয়েছে। তুলনামূলক ভাবে গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ এবং অন্ধ্রপ্রদেশ অপেক্ষাকৃত ভালো জায়গায় রয়েছে। নীতি আয়োগের রিপোর্ট অনুযায়ী ১২ কোটি মানুষ শুধুমাত্র পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বিশেষ করে ভূ-গর্ভস্থ জলের সঞ্চয়ের জন্য জলের অপচয় বন্ধ করতে হবে শীঘ্রই। পুকুর, জলাশয়ের খননের উদ্যোগ নিতে হবে সরকারের তরফে। বিশেষ করে কলকাতার মতো শহর যেখানে রোজ মাথা পিছু ২৮০ লিটার জল সরবরাহ করে কলকাতা পুরসভা।

বিনামূল্যে জলের অপচয়ও হয় দেদার ফলে জলসংকটের মুখে পড়তে পারে শহর। ইতিমধ্যে এমন সমস্যায় ভুগছে দেশের দক্ষিণের শহর চেন্নাই। বিশ্ব উষ্ণায়ণের জন্য প্রতি বছরই একটু একটু করে কমছে বৃষ্টির পরিমান, ফলে ভূগর্ভস্থ জলের সঞ্চয় কমছে ধিরে ধিরে। তাই রাশ না টানলে আগামী ৫ থেকে ৬ বছরের মধ্যে ভূগর্ভস্থ জলস্তর বিপজ্জনক ভাবে কমে আসতে পারে এমনটাই বলা হয়েছে নীতি আয়োগ রিপোর্টে।