Date : 2019-11-22

রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে খণ্ডযুদ্ধ এনআরএস-এ, গুরুতর জখম ২ ইন্টার্ন, চলছে কর্মবিরতি…

কলকাতা: সোমবার রাতে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এনআরএস হাসপাতাল। জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে রোগীর পরিবারের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সূত্রের খবর, রবিবার সন্ধ্যায় ট্যাঙরার বিবি বাগানের বাসিন্দা মহম্মদ সাহিদ নামে এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের তরফে অভিযোগ, এদিন বিকেলের পর থেকে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।

চিকিৎসকদের জানানো হলেও তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখেনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে  হাসপাতালে রোগীর পরিবারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে জুনিয়র ডাক্তাররা। একের পর এক লাঠি ইট নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয় দুই পক্ষের বমধ্যে। মুহুর্তের মধ্যে হাসপাতাল চত্বর রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

রোগীর পরিবারের লোকজনের ছোঁড়া ইটে মাথা ফেটে যায় জুনিয়র ডাক্তারদের। এই ঘটনার জেরে ২ জন ইন্টার্ন আহত হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের নিউরো সাইন্স ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার জেরে হাসপাতালে পরিষেবা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। রোগী নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানো অ্যাম্বুলেন্সগুলিকে মূল ফটকের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। হাসপাতাল ফাঁকা করে একে একে পালিয়ে যায় রোগীর পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে পৌঁছান ডেপুটি কমিশনার-সহ সুপার সৌরভ চট্টোপাধ্যায় ও প্রিন্সিপাল শৈবাল মুখার্জি। এতেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি পরিস্থিতি। সোমবার রাত থেকেই জুনিয়র ডাক্তাররা ঘটনার প্রতিবাদে ধরনায় বসেন।

এমনকি রোগীর পরিবারের তরফে জুনিয়র ডাক্তারদের মারধর করার ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি তোলা হয়। অন্যদিকে রোগীর পরিবারের তরফে ডাক্তারদের মারধর করার ঘটনা অস্বীকার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য হাসপাতালের চরম বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে গেলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে।

হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা প্রদীপ মিত্র। এদিকে এনআরএস-এর কাণ্ডের জেরে কলকাতা ,মুর্শিদাবাদ ও সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে জুনিয়র ডাক্তারদের তরফে। দোষীদের শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদী কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা হাসপাতাল চত্বর জুড়ে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে ঘটনায় অভিযুক্ত কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে এন্টালি থানার পুলিশ। চলছে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা। অন্যদিকে এখনও পর্যন্ত এনআরএস-এর মূল ফটক বন্ধ।