Date : 2019-11-12

পুরীর রথের এই বিশেষ তথ্য অবশ্যেই জেনে রাখুন…

ওয়েব ডেস্ক: বছরের এই একটি সময়, যখন নিজের মন্দির ত্যাগ করে সপরিবারে জগন্নাথ দেব বেড়িয়ে পড়েন ভক্তদের মধ্যে। কারও কারও মত, জগন্নাথ মন্দিরের ভিতরে অহিন্দুদের প্রবেশে নিষেধের নেপথ্যে কিছু রাজনৈতিক কারণ বা পুরনো ঐতিহাসিক সংঘাতের ভূমিকা রয়েছে। তবে ভক্তের চোখে জগন্নাথের রথযাত্রা, ঈশ্বরের মানবলীলার প্রতীক। সমস্ত নিষেধ, গোঁড়ামির উর্ধ্বে ভগবানের এ যেন এক করা উত্তর। কথিত আছে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্য শবর রাজ বিশ্বাবসুর নিবাসে থাকাকালীন নীল মাধবের খোঁজ করতে গিয়ে জগন্নাথ দেবের দর্শন পান।

জগন্নাথ সেবাতেও তাই দয়িতাপতি নামে এক শ্রেনীর শবর বংশোদ্ভুতদের অধিকার রয়েছে। শুধু তাই নয়, উৎকলের জগন্নাথ কার্যত রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। উৎকলবাসীরা মানেন তিনি শুধু ইষ্টদেবতা নন, রাষ্ট্রদেবতাও বটে।

কোনও দেবতার এমন দাপট ভূভারতে আর কোথাও নেই বললেই চলে। হিন্দু পুরাণে বর্ণিত আছে, ‘রথস্থ বাম নং দৃষ্টা পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে’, অর্থাৎ রথের উপর অধিষ্ঠিত জগন্নাথকে যে দেখবে তার আর পূর্ণজন্ম লাভ হবে না।

আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে হয় রথযাত্রা ৷ রথে চেপে মাসির বাড়ি যাচ্ছেন জগন্নাথ, সঙ্গে যাচ্ছেন বলরাম আর সুভদ্রা ৷

বলভদ্রের রথ: তালধ্বজ

সবার আগে অগ্রসর হয়

উচ্চতা ৪৪ ফুট

১৪টি চাকা রয়েছে

মাথার উপর লাল, সবুজ কাপড় দিয়ে ঢাকা

তালধ্বজের সারথির নাম মাতালি

তালধ্বজের রক্ষীর নাম বাসুদেব

রথের মাথায় পতাকার নাম উন্যানী

রথের রশির নাম বাসুকি নাগ

বলভদ্রের রথেও ৯ দেবতা থাকেন

এঁদের মধ্যে আছেন কার্তিক, গণেশ, সর্বমঙ্গলা, মৃত্যুঞ্জয়, মুক্তেশ্বর

তালধ্বজেও থাকে ৪ ঘোড়া

জগন্নাথ দেবের রথ: নান্দীঘোষ

সবার শেষে অগ্রসর হয়

জগন্নাথের রথের নাম নন্দীঘোষ

রথে জগন্নাথের সঙ্গী হন মদনমোহন

নন্দীঘোষের উচ্চতা ৪৫ ফুট, ১৬ চাকা

লাল ও হলুদ কাপড়ে সাজানো হয়

নন্দীঘোষের সারথির নাম দারুকা

রথের মাথায় থাকা পতাকার নাম ত্রৈলোক্যমোহিনী

এই রথে ৪ ঘোড়া থাকে

জগন্নাথের রথের রশির নাম ‘শঙ্খচূড়া নাগুনি’

জগন্নাথের রথে সওয়ার হন আরও ৯ দেবতা

এঁদের মধ্যে আছেন গোবর্ধন, কৃষ্ণ, নরসিংহ, রাম, নারায়ণ, হনুমান, রুদ্র

জগন্নাথের রথে একজন রক্ষীও থাকেন

এই রক্ষীর নাম গারুদা

সুভদ্রার রথ: দর্পদলন

রথে সুভদ্রার সঙ্গী সুদর্শনা

দর্পদলনের উচ্চতা ৪৩ ফুট

এই রথে মোট ১২ চাকা রয়েছে

লাল এবং কালো কাপড়ে সাজানো হয় রথ

দর্পদলনের সারথির নাম অর্জুন

দর্পদলনের মাথায় থাকা পতাকার নাম নদম্বিকা

রথের রশির নাম স্বর্ণচূড়া নাগুনি

সুভদ্রার রথে থাকেন ৯ দেবী

এঁদের মধ্যে রয়েছেন চণ্ডী, চামুণ্ডা, বনদুর্গা, শুলিদুর্গা, শ্যামাকালী, মঙ্গলা, বিমলা

সুভদ্রার রথকেও টেনে নিয়ে যায় ৪ ঘোড়া

পুরীতে রথযাত্রা উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি তুঙ্গে। বহু দর্শনার্থীরা ভিড় জমিয়েছেন শ্রীধামে। জগন্নাথের রথের দড়িতে একবার টান দিয়ে পুণ্যলাভের উদ্দেশ্যে দেশে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে জড়ো হয়েছেন ভক্তরা। একদিকে চলছে রথের দড়িতে টান দেওয়ার তোড়জোড়, অন্যদিকে চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুরীর রথযাত্রা ঘিরে রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। তিনটি রথে চেপে সুসজ্জিত জগন্নাথ, বলরাম আর শুভদ্রা রওনা দিয়েছেন মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে। মহারাজা ইদ্রদ্যুম্নের স্ত্রী গুন্ডিচা দেবী হলেন জগন্নাথের মাসি।