Date : 2019-12-11

আষাঢ়ের পর এবার ভরা শ্রাবণেও নিরাশ করতে পারে!….

ওয়েব ডেস্ক: মার্চের শেষ থেকেই তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে গোটা দেশ। মে-জুন পার হয়ে গেলেও দেখা নেই ভারী বৃষ্টির। বৃষ্টির জন্য হাপিত্যেস করে থেকে কেটে গেছে ভরা আষাঢ় মাস। এখনও বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ৭০ শতাংশ। নিম্নচাপের সম্ভবনা সৃষ্টি হলেও মেঘলা আকাশে দেখা নেই একফোঁটা বৃষ্টির। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা সৃষ্টি হলেও এক বিন্দু জল আকাশ থেকে পড়ার সম্ভবনা নেই বলেই জানাচ্ছেন আবাহাওয়াবিদরা।

তাদের কথায় এই বছর বর্ষায় বৃষ্টির ঘাটতি চরম আকার নেওয়ার কারণ এল নিনো। এর ফলে জলভাগের বদলে স্থলভাগে তৈরী হয়েছে একাধিক ছোট ছোট নিম্নচাপ বলয়। পর্যাপ্ত জলীয় বাস্পের অভাবে বৃষ্টির কোন দেখাই আপাতত নেই। উল্টে ছিটেফোঁটা বৃষ্টিতে বাড়তে পারে অস্বস্তি। অন্যদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে বিপর্যস্ত দক্ষিণবঙ্গ।

উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমান আপাতত কিছুটা কমলেও বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। সেখানে বেশ কয়েকটি নদীর জলে প্লাবিত হয়েছে ৫ জেলার অনেক গ্রাম ও পুর অঞ্চল। আবহাওয়া দফতর সূত্রের খবর, গত কাল যে নিম্নচাপ রাজস্থান থেকে উত্তর পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত অক্ষরেখা বরাবর ছিল, সেটা সরে গিয়ে উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর অর্থাৎ ওড়িশা লাগোয়া উপকূলে সরে গিয়েছে। তাই বেশির ভাগ বৃষ্টিই হবে ওড়িশা উপকূলে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে হাল্কা ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে বিকেলের দিকে।

কিন্তু অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বজায় থাকবে একই রকম। উত্তরে বৃষ্টির প্রভাবে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও দক্ষিণে কবে বৃষ্টি শুরু হবে সেই নিয়ে আশারবাণী শোনাতে পারছে না হাওয়া অফিস। এদিকে জুলাইয়ে অসহ্য দহনের সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে জলীয় বাস্প। ফলে প্যাচপ্যাচে ঘামের থেকে রেহাই মিলছে না শহরবাসীর। গ্রামাঞ্চলে অনাবৃষ্টির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষি ক্ষেত্রে।

এইরকম পরিস্থিতি আর কিছুদিন থাকলে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে খরা পরিস্থিতি দেখা দেবে। এমনকি এরফলে শীতও প্রভাবিত হতে পারে এই বছর। অনাবৃষ্টির ফলে বাঙালীর রূপোলী শস্য ইলিশের দেখা নেই। প্রজনন ঋতুতে ফাঁকা ট্রলার ফিরে আসছে মাঝ সমুদ্র থেকে। তবে কি এল নিনোর প্রভাবে ভরা আষাঢ়ের পর এবার নিরাশ করবে শ্রাবণও!