Date : 2019-10-24

আজ বিপত্তারিণী ব্রত, এই মন্ত্র জপ করুন…

ওয়েব ডেস্ক: কথায় আছে “বিপদ, সে তো বলে কয়ে আসে না।” দেশের হোক বা দশের, বিপদে পড়লে মাথায় দুঃশ্চিন্তা ছাড়া কিছুই আসে না। বিপদের সময় কিছুই যেন কাজ করতে চায় না। অনেকে বলেন হাল ছেড়ো না, বিশ্বাস রাখে। বিশ্বাস, সে নিজের ওপর হোক বা ঈশ্বরের উপর, বিপদে পড়লে ত্রাহি ত্রাহি রব করেন সকলেই। বাংলার মঙ্গলকাব্যের পৃষ্ঠায় রয়েছে সেই বিপদের সময় মনের জোর পাওয়ার টোটকা। লোকজ দেবী মা বিপত্তারিণীর পায়ে হত্যে দিয়ে পড়েন মা বোনেরা। হিন্দু ধর্মের ৩৩ কোটি দেবদেবীর মধ্যে কে এই বিপত্তারিণী চণ্ডী মাতা?

আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে জগন্নাথ দেব রথযাত্রা করেন। এই সময় সারা দেশ জুড়ে চলে গুপ্ত নবরাত্রী। শুক্লপক্ষে রথযাত্রা থেকে উল্টোরথ পর্যন্ত যে দুটি শনিবার ও মঙ্গলবার পড়ে সেই দিনেই বিপত্তারিণী পুজা হয়।

পুরাণে বর্ণিত আছে শুম্ভ নিশুম্ভ নামে দুই দৈত্যর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে দেবগণ স্বর্গচ্যুত হয়ে শ্রী বিষ্ণুর নির্দেশে হিমালয়ে দেবী মহামায়ার তপস্যা করেন। মহাদেবের অর্ধাঙ্গিনী শ্রী শ্রী চণ্ডী দেবতাদের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে সারা দেন। শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করার জন্য দেবী শ্রী শ্রী চণ্ডীর কোষ থেকে জ্যোর্তিময়ী দেবী কৌশিকীর সৃষ্টি হয়।

তিনি দেবতাদের অভয় দান করেন। শুম্ভ নিশুম্ভের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন দেবী কৌশিকী। কিন্তু দুরাচারী দৈত্য শুম্ভ ও নিশুম্ভ দেবীর সঙ্গে যুদ্ধ করার পরিবর্তে কোটি চন্দ্রপ্রভাসম দেবী কৌশিকীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়।

এই দেবী মোহাচ্ছন্ন শুম্ভাসুরকে অদ্বৈত জ্ঞান দান করে বলেছিলেন- “ ঐকেবাহং জগত্যত্র দ্বিতীয়া কা মমাপরা । পশ্যৈতা দুষ্ট ময্যেব বিশন্তো মদবিভূতয়ঃ ।। ” ( এই জগতে এক আমিই আছি । আমি ছাড়া আমার সাহায্যকারিনী আর কে আছে? ওরে দুষ্ট ভাল করে দেখ , ব্রহ্মাণী প্রভৃতি শক্তি আমারই অভিন্না বিভুতি বা শক্তি । এই দেখ তারা আমার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে ।) এরপর তিনি শুম্ভ ও নিশুম্ভকে পরাজিত করে দেবতাদের বিপদমুক্ত করেন। পুরাণ বর্ণিত দেবীর এই রূপকে বিপত্তারিণী রূপ বলা হয়। বাংলায় মল্লরাজের রাজত্বকাল থেকে এই ব্রতের প্রচলন শুরু হয়।

ব্রতের উপকরণ:

ব্রতপালনের উপকরণ সামান্য । ঘট‚ আমের পল্লব‚ শীষ সমেত ডাব‚ একটি নৈবেদ্য‚ তেরোরকম ফুল‚ দু ভাগে কাটা তেরো রকম ফল । আলাদা চুবড়িতে তেরোটা গোটা ফল‚ তেরো গাছি লালসুতো‚ তেরোটি দুর্বা‚ তেরোটি পান ও তেরোটি সুপুরি দিতে হয় ।

ব্রতের আগের দিন নিরামিষ আহার করলে ভাল ব্রতের দিন পুজো করে ব্রতকথা শুনে ফল-মিষ্টি বা তেরোটি লুচি খেয়ে উপবাস ভাঙেন ভক্তরা। লাল সুতোয় তেরোটি গিঁট দিয়ে তেরোটি দূর্বা বাঁধতে হয়। মেয়েদের বাম ও ছেলেদের ডান হাতে পড়েন এই ডোর। যজমানেরা সাধ্যমতো দানদক্ষিণা দেন পুজারী ব্রাহ্মণকে। বাংলার পাশাপাশি এই ব্রত পালন হয় বিহার ওড়িশা ও ঝাড়খন্ডেও।

বিপত্তারিণী ব্রতের মন্ত্র:

মাসি পূণ্যতমেবিপ্রমাধবে মাধবপ্রিয়ে। ন বম্যাং শুক্লপক্ষে চবাসরে মঙ্গল শুভে। সর্পঋক্ষে চ মধ্যাহ্নেজানকী জনকালয়ে। আবির্ভূতা স্বয়ং দেবীযোগেষু শোভনেষুচ।নমঃ সর্ব মঙ্গল্যেশিবে সর্বার্থসাধিকে শরণ্যে ত্রম্বক্যে গৌরী নারায়ণী নমস্তুতে।।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতো পুজার নির্ঘন্ট:

বাংলা তারিখ: ২১ আষাঢ় ১৪২৬, শনিবার

ইং তারিখ: ০৬/০৭/২০১৯।

অথবা

বাংলা তারিখ: ২৪ আষাঢ় ১৪২৬, মঙ্গলবার।

ইং তারিখ: ০৯/০৭/২০১৯