Date : 2019-09-19

আজ বিনায়ক চতুর্থী, গণপতি সম্পর্কে জেনে নিন ১০টি অজানা তথ্য….

ওয়েব ডেস্ক: সারা দেশজুড়ে মহাসমারহে পালিত হচ্ছে গনেশ চতুর্থী। হিন্দুশাস্ত্র মতে গনপতি বা গনেশের পুজো যে কোন শুভকার্য শুরু করার আগে করা হয়েছে থাকে। সমস্ত হিন্দু দেবদেবীর মধ্যে গনেশের পুজো সর্বাগ্রে করা হয়। দেশের পশ্চিমে মহারাষ্ট্রে গনেশ পুজো সবচেয়ে ধুমধাম করে পালন করা হয়। এই পর্যন্ত প্রায় সকলেরই জানা, কিন্তু গনেশের সৃষ্টি সংক্রান্ত ১০টি অজানা তথ্য রয়েছে হিন্দু পুরান ও মহাকাব্যে।

১ম:- পুরাণে বর্ণিত আছে দেবী পার্বতী তাঁর দুই সখী জয়া এবং বিজয়ার পরামর্শে নিজের শরীর হলুদ ও চন্দনে চর্চিত করেন। সেই হলুদ-চন্দনের লেপন দিয়েই নাকি গনেশকে নিজেই সৃষ্টি করেন পার্বতী। ভোলানাথ যা বলেন নন্দি অক্ষরে অক্ষরে তা পালন করেন। কিন্তু পার্বতীর জন্য এমন কেউ নেই। তাই পার্বতীর জন্যও এমন কারোর থাকা উচিত যে দেবীর কথা সর্বদা মেনে চলবে। নন্দী হলেন মহাদেবের প্রমথগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। পার্বতী সৃষ্ট গনেশকে যদিও পরবর্তীকালে গৌরী নন্দন গনেশ হিসাবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

২য়:- এক একটি পুরাণে গনেশকে এক এক ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। শিব পুরাণে বর্ণিত আছে গনেশের গায়ের রঙ সবুজ।

৩য়:- গনেশকে কোথাও তাঁর জ্যেষ্ঠ মাতা পার্বতীর জ্যেষ্ঠপুত্র বলা হয় আবার কোথাও কনিষ্ঠ পুত্র বলে বর্ণনা করা হয়েছে। গনেশ বা গণপতি নাম স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেবের প্রদত্ত নাম। গণের দেবতা হলেন গনেশ। অর্থাৎ সমস্ত মানুষই তাঁর আরাধনা করতে পারেন।

৪র্থ:- গণেশের প্রায় ১০৮টি নাম আছে। প্রাচীন সংস্কৃত অভিধান অমরকোষ গ্রন্থে‘গণেশ’ নামের আটটি সমার্থক শব্দ পাওয়া যায়। ‘বিনায়ক’, ‘বিঘ্নরাজ’ (যা ‘বিঘ্নেশ’ নামেরও সমার্থক), ‘দ্বৈমাতুর’ (যাঁর দুইজন মা),[২১] ‘গণাধিপ’ (যা ‘গণপতি’ ও ‘গণেশ’ নামেরও সমার্থক), ‘একদন্ত’ (যাঁর একটি দাঁত, এখানে গণেশের হস্তীমুণ্ডের বাইরের দাঁতের কথা বলা হয়েছে), ‘হেরম্ব’, ‘লম্বোদর’ (যাঁর স্ফীত উদর) ও ‘গজানন’ (যাঁর হাতির মতো মাথা)। মারাঠি ভাষায় বলা হয় ‘বিনায়ক’, ‘বিঘ্নেষ’,’বিঘ্নেশ্বর’। তামিল ভাষায় দুটি জনপ্রিয় নাম হল পিল্লাই ও পিল্লাইয়ার। ‘পিল্লাই’ শব্দের অর্থ ‘শিশু’ এবং ‘পিল্লাইয়ার’ শব্দের অর্থ ‘মহান শিশু’। তবে‘পিল্লাইয়ার’ নামটির মূল ‘পিল্লে’ শব্দটির আদি অর্থ সম্ভবত ‘হস্তীশাবক। বর্মি ভাষায় গণেশ ‘মহা পেইন্নে’। থাইল্যান্ডে গণেশের জনপ্রিয় নামটি হল ‘ফ্রা ফিকানেত’। শ্রীলঙ্কার সিংহল বৌদ্ধ অঞ্চলগুলিতে গণেশ ‘গণ দেবিয়ো’ নামে পরিচিত।

৫ম:- পুরাণমতে গণেশের হাতে পাঁচ রাক্ষসের নিধন হয়েছিল। অহন্তাসুর (অহমের প্রতীক), মায়াসুর (মায়ার প্রতীক), লোবাসুর (লোভের প্রতীক), কামাসুর (কামের প্রতীক) এবং ক্রোধাসুর (ক্রোধের প্রতীক)।

৬ষ্ঠ:- কোন কোন জায়গায় লোকাচার অনুসারে বিশ্বাস করা হয় গনেশ চতুর্থীর চাঁদে তাকানো অশাস্ত্রীয় ও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বলা হয়, চন্দ্রদেব নাকি গণেশের গজমুখ দেখে হাসিতে ফেটে পড়েছিলেন। তাতে ক্রুদ্ধ হয়ে গণেশ ঠাকুর চাঁদকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে যদি কেউ গণেশ চতুর্থী থেকে অনন্ত চতুর্দশী পর্যন্ত চাঁদের দিকে তাকায় তাহলে ওই ব্যক্তির জীবনে সমস্যা ঘনিয়ে আসবে।

৭ম:- পুরাণমতে ঋদ্ধি ও সিদ্ধির সঙ্গে বিবাহ হয় গণপতির। তাঁর দুই সন্তান হল ক্ষেম বা শুভ ও লাভ।

৮ম:- ১৯৮৩ সালে মহারাষ্ট্রে লোকমণ্য তিলক প্রথম সার্বজনীনভাবে গণেশ চতুর্থীর পুজো শুরু করেন।

৯ম:- ২০১৪ সালে শুধু মুম্বইতে ১০,০০০ সার্বজনীন মণ্ডপে গণেশ ঠাকুরের পুজো করা হয়েছিল। এছাড়া বাড়ির ঠাকুরের সংখ্যা ছিল ১,৮০,৬৫০। প্রতিবছর এই সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে।

১০ম:- মহারাষ্ট্র ছাড়াও গণেশ চতুর্থী কর্ণাটক এবং অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশেও ধুমধামের সঙ্গে পালিত হয়। ভারতের বাইরে নেপালের তেরাই অঞ্চলে গণেশ চতুর্থী পালিত হয়।