Date : 2024-02-28

#দেবীশৈলপুত্রী: কঠোর মনবল পেতে শুদ্ধ ঘৃত অর্পন করুন

ওয়েব ডেস্ক: “বন্দে বাঞ্ছিতলাভায় চন্দ্রার্ধকৃতশেখরাম্ ।
বৃষারূঢাং শূলধরাং শৈলপুত্রীং য়শস্বিনীম্ ॥
পূর্ণেন্দুনিভাঙ্গৌরীং মূলাধারস্থিতাং প্রথমদুর্গাং ত্রিনেত্রাম্ ।
পটাম্বরপরিধানাং রত্নকিরীটাং নানালঙ্কারভূষিতাম্ ॥
প্রফুল্লবদনাং পল্লবাধরাং কান্তকপোলাং তুঙ্গকুচাম্ ।
কমনীয়াং লাবণ্যস্নেহমুখীং ক্ষীণমধ্যাং নিতম্বনীম্ ॥”

এই মন্ত্র জপ করে আজ রাতে দেবী শৈলপুত্রীর আবাহন করুন। নবরাত্রী পুজা শেষ হলে প্রসাদ হিসাবে ঘৃতজাত খাদ্য গ্রহণ করুন। পারলে একজন কুমারী কন্যাকে নতুন বস্ত্র দান করে, ছানা মিষ্টান্নদি খাবার প্রদান করুন।

সেই ত্রেতা যুগের কথা, অযোধ্যার রাজা শ্রী রামচন্দ্র তাঁর স্ত্রী দেবী সীতাকে লঙ্কার নরপতি রাবণের হাত থেকে উদ্ধার করতে আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ৯ টি রাত ধরে শক্তির উপাসনা করেন। ৯টি রাতে আদ্যাশক্তি মহামায়ার ৯টি রূপ কল্পনা করেন তিনি। পুজা করেন যথা উপাচারে। পুরাণে বর্ণিত আছে মা দুর্গার এই নয়টি রূপ শুক্লপক্ষের নবরাত্রী তিথিতে নয়টি শস্যে অবস্থান করেন। এই নয়টি শস্যকে মায়ের নয়টি রূপ মনে করা হয়। মা দুর্গার এই নয়টি রূপ কি? তার মাহাত্ম্য সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক….

শৈলপুত্রী:-

নবরাত্রী জুরে যে নবদুর্গার পুজা হয় তার প্রথম রূপ। পুরাণে কথিত আছে দক্ষযজ্ঞ ধ্বংস করার পর সতীর মৃতদেহ নিয়ে মহেশ্বর যে তান্ডব শুরু করেন তা শান্ত করতে শ্রী বিষ্ণু তার সুদর্শন চক্রে ছিন্নভিন্ন করে সতীর দেহ ৫১ টুকরো করেন যা একান্নপীঠ নামে পরিচিত। সতীর মৃত্যুর পর ত্রিদেবের আহ্বানে দেবী দ্বিতীয় জন্ম নেন পর্বতরাজ হিমালয়ের কন্যা পার্বতী রূপে। তিনি কালক্রমে শৈলপুত্রী নামে পুজিত হন দেবী মহামায়ার রূপ হিসাবে। একবার দেব ও অসুরের যুদ্ধে ব্রহ্ম দেবতাদের জয়ী করেছিলেন। কিন্তু ব্রহ্মের শক্তিকে ভুলে দেবতারা জয়ের গৌরব নিজেরাই নিতে উদ্যত হলেন। ব্রহ্ম তখন নিজে এলেন দেবতাদের দর্পচূর্ণ করতে। তিনি একখণ্ড তৃণ রাখলেন দেবতাদের সম্মুখে। কিন্তু দেবতারা আশ্চর্য হয়ে দেখলেন, অগ্নি সেই তৃণখণ্ডটি দহন করতে বা বায়ু তা একচুল পরিমাণ স্থানান্তরিত করতে অসমর্থ হলেন। তখন ইন্দ্র এলেন সেই জ্যোতির্ময় ব্রহ্মকে জানতে। ব্রহ্ম অন্তর্হিত হলেন। ব্রহ্মশক্তি হৈমবতী রূপে ইন্দ্রের সামনে উপস্থিত হয়ে ব্রহ্মতত্ত্ব ব্যাখ্যা করলেন। দেবী শৈলপুত্রী সম্পর্কে বর্ণিত আছে কালিকা পুরাণে। তবে, মনে হয়, ঔপনিষদ হৈমবতী ও পৌরাণিক শৈলপুত্রী দুই পৃথক দেবী। ‘হৈম’ শব্দের অপর অর্থ হিরণ্ময় বা সোনার মতো উজ্জ্বল। সম্ভবত ব্রহ্মশক্তির জ্যোতির্ময়ী রূপটির কথা স্মরণ করেই উপনিষদে ‘হৈমবতী’ কথাটি ব্যবহৃত হয়েছে; এর সঙ্গে হিমবৎ পর্বতের কোনো সম্পর্ক নেই। উপরন্তু তন্ত্রে দেবতাদের দর্পচূর্ণকারী উমা হৈমবতীর রূপটি একালের বাংলায় কার্তিক শুক্লানবমীতে পূজিতা জগদ্ধাত্রীর অনুরূপ।