Date : 2019-09-19

ধ্বংসস্তুপ হয়ে যাচ্ছে বৌবাজার, আদালতের নির্দেশে আপাতত বন্ধ হল মেট্রোর কাজ….

কলকাতা: কাজ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম বেনজির বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হল ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পকে। হাওড়া থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত মেট্রোর কাজ চলাকালীন হঠাৎ-ই টানেল বোরিং মেশিনের মাটির নিচে সঞ্চলনের ফলে ভেঙে পড়তে শুরু করে বৌবাজারের দুর্গা পিতুরি লেনের বেশ কয়েকটি বাড়ি। বিশেষজ্ঞরা দেখতে পান সেই মুহুর্তে বেরিং মেশিন ভেদ করে টানেলর মধ্যে হু হু করে জল ভর্তি হতে থাকে। সিমেন্ট বা রাসায়নিক ব্যবহার করেও আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না সেই জলকে।

মাটি পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা জানতে পারেন, ওই অঞ্চলে একটি অ্যাকুইফার স্তর থাকার কারণেই হঠাৎ এই বিপর্যয় ঘটে। প্রশ্ন হল ওই স্তরে যে কাদা জল রয়েছে, মাটি পরীক্ষা করার পরেও কেন জানতে পারলেন না বিশেষজ্ঞরা? পুরসভার আধিকারিকদের বক্তব্য, গঙ্গার কাছাকাছি ওই অঞ্চল অবস্থিত হওয়ায় পলি মাটির স্তর রয়েছে মাটির নীচে। ফলে ওয়াটার পকেট থাকার সম্ভবনাও ছিল প্রবল। কিন্তু মাটি পরীক্ষার পরেও বিশেষজ্ঞরা কোনভাবেই সন্ধান করতে পারেননি ওই স্থানে ওয়াটার পকেটের।

ঘটনার পর মেট্রোরেলের তরফ থেকে দায় স্বীকার করে সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মেরামত করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার, বিপর্যয় প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি করেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য হাউজিং প্রজেক্ট তৈরি করে দিতে হবে কলকাতা মেট্রো রেল করপরেশন লিমিটেডকে। এদিকে মেট্রো নিয়ে আগেই মামলা দায়ের করেছিল একটি স্বেচ্ছাসেব সংস্থা। গতকাল আইনজীবী ঋজু ঘোষাল হাইকোর্টে সেই মামলাটি উল্লেখ করে বলেন, বউবাজারে মেট্রো বিপর্যয়ের জেরে ৩২৩টি পরিবার বিপদে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মামলাটি যাতে দ্রুত শোনা হয় আর্জি জানান তিনি। আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে আজকে শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি টি ডি রাধাকৃষ্ণণের ডিভিশন বেঞ্চ মেট্রোর কাছে বিপর্যয়ের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চায়। এদিন হাইকোর্টে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানান, ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইঞ্জিনিয়াররা আসছেন কলকাতায়। মাটি পরীক্ষা করে তারা দেখবেন এই বিপর্যয় কি কারণে ঘটল। মেট্রোর জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের তরফে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।

একইসঙ্গে আদালত আরও জানিয়েছে, মূল্যবান সামগ্রী নেওয়ার জন্য ৩২৩টি পরিবারের একজন করে নিজেদের বাড়িতে ঢুকতে পারবেন। রিপোর্ট জমা দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর কাজ। প্রসঙ্গত, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পে ৯.৮ কিলোমিটার সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। বাকি রয়েছে আর ১ কিলোমিটার সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ। ওই ১ কিলোমিটারের কাজই এখন বন্ধ থাকবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অত্যন্ত দামী ওই টানেল বোরিং মেশিন আপাতত ভূ-গর্ভে এমনিই পড়ে থাকবে। মানুষের প্রাণের কথা ভেবে এখন আপাতত কাজ শুরু হচ্ছে না।