Date : 2019-10-17

“উমা এলো ঘরে”: ধুতি ছেড়ে কোর্ট প্যান্ট! এ কোন মহিষাসুর!….

ওয়েব ডেস্ক: “তোর অসুর কুলকে দেখ…

কেমন দিব্য বেড়ায় দাপিয়ে দিবস রজনী।।

এই গো মা তোর ত্রিনয়ন দেখেও কেন দেখেনি।।”

সঙ্গীত শিল্পী লোপামুদ্রার মিত্রের কন্ঠে এই দুই কলি গান অত্যন্ত জনপ্রিয়। সত্যি যেন তাই। অসুর, সে তো অন্য কোন প্রাণী নয়। মানুষের কু-প্রবৃত্তি, হিংসার, ষড়রিপুর প্রকাশ। তাঁর আলাদা রূপ কল্পনা করে নেওয়া হয়।

৮. বনেদি বাড়ি- দক্ষিণ কলকাতার দে বাড়ির পুজো

কলকাতার বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো মানেই সাবেকি মুর্তি। তবে প্রতিটি মুর্তিতেই কিছু না কিছু অভিনবত্বের ছোঁয়া থাকে। পূর্বপুরুষের আমল থেকেই সেই ঐতিহ্যকে পালন করে আসলেও অনেক বনেদি বাড়িতে অনেক নিয়মই কালের নিয়মে বাতিল হয়েছে। এই বছর ১৫০ বছরে পা দিচ্ছে ভাবানীপুরের দে বাড়ির পুজো। বনেদি বাড়ির পুজো শুরু হওয়ার পিছনে সাধারণত স্বপ্নাদেশ অথবা কোন অলৌকিক ঘটনা থাকে। দক্ষিণ কলকাতার এই বনেদি বাড়ির পুজোর ইতিহাসটা একটু অন্যরকম। পুজোর মুর্তি ঘিরে রয়েছে অদ্ভুত গল্প। সাধারণ আর চারটে সাবেকি দুর্গা প্রতিমায় অসুরের গায়ের রঙ সবুজ হয় আর অসুরের পরনে থাকে সাদা অথবা কালো বা অন্য রঙের ধুতি।

কিন্তু দে বাড়ির দুর্গাপুজোয় অসুরের গায়ের রঙ শ্বেতবর্ণ। পরনে সাহেবদের মতো কোর্ট-প্যান্ট। এমনকি সোনালী রঙের চুল দেখা যায়। কিন্ত কেন! এমন অদ্ভুত সাজের কারণ ঔপনিবেশিক ভারতে ব্রিটিশ শাসনের প্রতি প্রতিবাদ। মা দুর্গাকে ভারতমাতা হিসাবে কল্পনা করা হত আর অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসকরা এখানে অসুরের মতো।

দে বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু হয় গৃহস্বামী রামলাল দে-এর হাত ধরে ১৯৭০ সালে। দেশ জুড়ে তখন চলছে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও আন্দোলন। কথিত আছে গৃহকর্তা রামলাল দে একদিন তাঁর বাড়ির সামনে এক মহিলাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে। রামলাল দে তাঁদের প্রশ্ন করলে কোন উত্তর না দিয়েই তাঁরা ঘরে প্রবেশ করেন।

কিন্তু ঘরের মধ্যে তাদের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার তিনরাত্রের মধ্যে স্বপ্নাদেশ হয়। রামলাল দে বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু করেন। তবে অসুরের এমন রূপ কেন তা ঠিক করে বলতে পারেনি দে বাড়ির সদস্যরা। বাড়িতে পুজোর জন্য কঠামো প্রস্তুত করা হয় রথের দিন থেকেই। তবে জন্মাষ্টমীর দিন সেই কাঠামোয় প্রথম মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। সাবেকি নিয়ম অনুসারে কাঠামো ভাসান দেওয়া হয় না। কাঠামো তুলে এনে ঠাকুর দালানেই রেখে দেওয়া হয় পরের বছরের মুর্তি তৈরির জন্য। চতুর্থীর দিন বাড়ির মহিলারা মিলিত ভাবে প্রতিমা সাজিয়ে তোলেন। নারকেল দিয়ে বাড়িতেই তৈরি করা হয় হরেক রকম মিষ্টি।