Date : 2019-11-19

বৃন্দাবনের অন্নকূটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে কালীকথা! জানুন অন্নকূট উৎসব কী?

ওয়েব ডেস্ক: কার্তিক অমাবস্যার গভীর রাতে হয় মহাকালীর আরাধনা। তন্ত্রের গুহ্য তত্ত্বে যেখান ঈশ্বরের রুদ্র রূপের উপাসনা করা হয়। কিন্তু ভক্তবৎসল ভগবানের কোমল রূপ বড়ই সুন্দর। হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রে একটি কথা বহুদিন ধরেই প্রচলিত, ‘নানা মুনির নানা মত’। আর সেই মতের মিল হয়না কখনওই। তবে যুগে যুগে মহামণীষীরা বার বার বলে গেছেন, ধর্ম মতের যতই ভেদাভেদ করো না কেন? ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। অনেক ক্ষেত্রেই নানা উৎসব মিলিয়ে দিয়েছে সমস্ত ধর্ম ও মতকে। তেমনই হল অন্নকূট উৎসব। অন্নকূট বৈষ্ণবদের উৎসব হলেও কালীপুজোর সঙ্গে কোথাও মিলে গিয়েছে এর নিয়ম কানুন। এ পুজোর পিছনে রয়েছে এক পৌরাণিক কাহিনি। বৃন্দাবনবাসীরা ৫৬ রকম পদের ভোগ দিয়ে বৃষ্টির দেবতা ইন্দ্রের পুজো করত। কৃষ্ণ এক বার বৃন্দাবনবাসীদের ইন্দ্রপূজা করতে নিষেধ করেন।

এতে দেবতা ইন্দ্র রেগে গিয়ে বৃন্দাবনের উপরে মুষলধারে বর্ষণ করেন। বৃন্দাবনবাসীদের ওই বিপদ থেকে রক্ষার জন্য কৃষ্ণ গোবর্ধন পর্বতকে বৃন্দাবনের উপরে ছাতার মতো করে ধরে থাকেন। ইন্দ্র পরাজিত হন। তার পর থেকে কৃষ্ণের নির্দেশে বৃন্দাবনবাসী কার্তিক মাসে অমাবস্যার পরদিন ‘গিরি গোবর্ধন’-এর পুজো আরম্ভ করে। সেই পুজোই অন্নকূট উৎসব। কলকাতার অনেক মন্দির ও পরিবারে অন্নকূট উৎসব হয়।

সেগুলির মধ্যে সব থেকে বড় উৎসব হয় বাগবাজারের মদনমোহন মন্দিরে। অন্নকূট উৎসবে ১১৫ রকম রান্না করা পদ ও ১২০ রকম মিষ্টান্ন দেওয়া হয়। এখানে মোচা, থোড়, কুমড়ো ইত্যাদি সব্জি দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পদের পাশাপাশি ভোগ হিসেবে ফুচকা, আইসক্রিম, কোল্ড-ড্রিংকসও দেওয়া হয়। ভট্টাচার্যবাড়ির অন্নকূটে জাতিভেদ মানা হয় না, যে কোনও বর্ণের মানুষ এসে রান্না করতে পারেন।

রানি রাসমণির কন্যা জগদম্বাদেবী ১৮৭৫-এ ব্যারাকপুর তালপুকুরের অন্নপূর্ণা মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ওই মন্দিরে অন্নকূট উৎসব হয় অন্নপূর্ণাপুজোর দিনে। ওই দিন সকালে মূল পুজো, কুমারীপুজো ও হোমের পরে হয় অন্নকূট। একুশ কিলোগ্রাম চালের ভাত-সহ ৫১ রকম পদ দেওয়া হয় ভোগ হিসেবে। অনেকেই হয়তো জানেন না গোবর্ধন পুজা ও অন্নকূট উৎসবের সঙ্গে জড়িত আছে কালীপুজার অন্নভোগের বিষয়টিও।

সারা রাত ধরে বিভিন্ন মন্দিরে ষোড়শ উপাচারে মাতৃবন্দনার পর রাতে ভোগ না দিয়ে অনেক সময় মায়ের ভোগ হয় পরদিন ভোর বেলা। যদিও তন্ত্র মতে যে যে সতীপীঠে পুজা হয় সেখানে মধ্য রাতেই ভোগ হয়ে যায়। তবুও পরেরদিন ভোগ দেওয়ার প্রচলন রয়েছে বহু জায়গায়।