Date : 2019-11-19

#মহাবিদ্যা: দেবী কালিকার ৫০ টি মুণ্ড স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের প্রতীক….

ওয়েব ডেস্ক: বৃহদ্ধর্ম পুরাণ ও বিষ্ণু পুরাণে বর্ণিত আছে দেবী সতী মধ্যে থেকে শক্তি স্বরূপ দশজন দেবী প্রকাশিত হয়েছিলেন। নিজের আত্ম পরিচয় দিতে তিনি নিজের দশটি শক্তির প্রকাশ ঘটিয়ে ছিলেন। আপাত ব্যাখ্যায় যা দশমহাবিদ্যা হিসাবে পরিচিত। মহাবিদ্যা কথাটি এসেছে সংস্কৃত থেকে। “মহা” অর্থাৎ মহৎ বা মহান। “বিদ্যা” অর্থাৎ প্রকাশ, স্বরূপ। দাক্ষায়নী সতী শঙ্করের শক্তি স্বরূপ, সত্ত, রজঃ ও তম গুণ সম্পন্ন দেবীর এই দশটি প্রকাশের অর্থ জড়িত আছে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত শক্তি তত্ত্বের সঙ্গে।

এই দশমহাবিদ্যার প্রথম বিদ্যা হলেন,

দেবী কালিকা

দেবী কালী বা কালিকা সম্পর্কে বলার আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন হিন্দু ধর্মে আদপে যে সমস্ত দেব-দেবর কথা বলা আছে তাঁরা সকলেই প্রতীক স্বরূপ। ধর্ম ও জীবনের গূঢ় তত্ত্বকে বোঝাতে এই সব দেব-দেবীর রূপের বিবরণ দেওয়া আছে মাত্র। বেদে বলা আছে নিরাকার, নির্গুন পরম ব্রহ্মের কথা। তিনি মায়ার আশ্রয় নিয়ে নিজের মহিমা প্রকাশ করেন। এই মায়াই হল আদ্যা শক্তি। তিনি প্রকৃতি স্বরূপা, ত্রিগুণাত্ত্বিকা। প্রচলিত কালী মূর্তি বলতে আমরা যা বুঝি তা হল, দেবী চতুর্ভুজা, এলো কেশি, নগ্না, লোল জিহ্বা, কৃষ্ণকায়, মুণ্ডমালিনী, ত্রিনয়নী, দেবীর পদতলে শায়িত শিব।

জেনে নিন এই এক একটি প্রতীকের মানে কি বোঝায়…..

মুক্তকেশরাশি:- দেবীর মস্তকে মুক্ত কেশের অর্থ অনেক ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। কারও মতে এই মুক্ত কেশ অনন্ত ব্রহ্মাণ্ডের প্রতীক আবার কারও মতে এই কেশ অনন্ত জ্ঞান ও বৈরাগ্যের প্রতীক।

কৃষ্ণকায়া:- দেবী কৃষ্ণকায়। এর কারণ তিনি যে কোন বর্ণ ও রঙের উর্ধ্বে। সমস্ত রঙ যাঁর মধ্যে বিলীন হয়েছে। তাই তিনি কৃষ্ণকায়। দেবীকে কখনও গাঢ় নীল বর্ণেরও কল্পনা করা হয়। তিনি সমস্ত কিছু কলুষতা হরণ করেন তাই তিনি কৃষ্ণকায়। তিনি গগন সম অসীম তাই তিনি কৃষ্ণবর্ণ রূপ ধারণ করেছেন।

দেবী ত্রিনয়নী:- তাঁর তৃতীয় নয়ন জ্ঞান ও শক্তির প্রতীক। চন্দ্র, সূর্য ও অগ্নির ন্যায় প্রকাশ তাঁর ত্রিনয়ন। আবার আদি, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকেও ইঙ্গিত করে এই ত্রিনয়ন।

লোল জিহ্বা:- দেবী কালিকার লোল জিহ্বা ও বিকশিত দন্ত সত্ত্বগুণের প্রতীক। দাঁত দ্বারা জিহ্বাকে চেপে ধরে রাখেন। এর অর্থ ত্যাগের দ্বারা ভোগকে সংবরণ করা।

মুণ্ডমালিনী:- দেবীর গলায় রয়েছে মোট ৫০টি মুণ্ডমালা। এগুলি প্রতিটি স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের প্রকাশ। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি স্বরবর্ণ ও ৩৬টি ব্যাঞ্জনবর্ণ। এই স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ আসলে প্রতিটি বীজ মন্ত্র ও স্বরের প্রতীক। দেবী নিজে শব্দব্রহ্মস্বরূপিনী। তাই তিনি সমস্ত শব্দকে ধারণ করেছেন।

চতুর্ভুজা:- তাঁর ডানদিকের উপরের হাতে রয়েছে বরাভয় মুদ্রা, নীচের হাতে আশীর্বাদ মুদ্রা। কারণ দেবী তাঁর সন্তানদের যেমন রক্ষা করেন, তেমনই ভক্তের মনোবাঞ্ছাও পূর্ণ করেন। বাঁ দিকের উপরের হাতে তিনি ধরে রয়েছেন তরবারি, আর নীচের হাতে একটি কর্তিত মুণ্ড। অর্থাৎ জ্ঞান অসির আঘাতে তিনি যেমন জীবকুলকে মায়াবন্ধন থেকে মুক্তির পথপ্রদর্শন করতে পারেন, তেমনই মায়াচ্ছন্ন জীবের মস্তিষ্কে প্রদান করতে পারেন প্রজ্ঞা কিংবা বিশেষ জ্ঞান।

পদতলে শিব শায়িত:- শিব স্থিতি তাই সে শব স্বরূপ। দেবী গতি স্বরূপ। স্থিতি ও গতির সম্মেলিত শক্তি ব্যাতিত সৃষ্টি সম্ভব নয়। দেবীর বামপদ মহাদেবের বুকের উপর রাখা।

দেবী নগ্না:- দেবী অসীম শক্তির প্রকাশ তাই তিনি কখনই আবৃত নন। অনন্ত ব্রহ্মাণ্ড কখনওই আবৃত থাকতে পারে না। তাই দেবী দিগম্বরী।