Date : 2019-11-18

ভূতের সঙ্গে চতুর্দশীর সম্পর্ক কি! জেনে নিন ভূত কিভাবে নেমে আসে?…

ওয়েব ডেস্ক: কার্তিক মাস, এমনিতেই রাত বড় দিন ছোট। বিকেল পড়তে পড়তেই অন্ধকার হয়ে আসে চারদিক। কার্তিক মাসের অমাবস্যার রাত নিয়ে অসংখ্য কিংবদন্তি যেমন আছে তেমনই আছে কুসংস্কারের পাহাড়। কালীপুজোর আগের চতুর্দশীর রাতকে বলা হয় ভূত চতুর্দশী। এখন প্রশ্ন হল এতো চতুর্দশী থাকতে হঠাৎ এই দিনটিকেই কেন ভূতেদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে? শুধু ভূত চতুর্দশী নয় এই দিনটিকে নরক চতুর্দশীও বলা হয়। আমাদের মধ্যে প্রচলিত আছে মা কালীর বাহন হলেন ডাকিনী ও যোগিনী। মা শ্মশানবাসীনি তাই ভূতেদের সঙ্গে তাঁর ওঠা বসা।

তাই কালী পুজোর আগের দিন তাঁর বাহনরা আগে নেমে আসেন। কিন্তু এসব নেহাতই ছেলে ভুলানো কথা। পুরাণে বরং উল্টো কথা বলা হচ্ছে। নরক চতুর্দশীর সঙ্গে জড়িত আছে নরকাসুরের বধ হওয়ার কিংবদন্তি। স্বর্গের সমস্ত দেবী, অপ্সরাকে বন্দি করে নিয়ে গিয়েছিলেন নরকাসুর। এদিকে মহাদেবের আশির্বাদে সে অপরাজেয় শক্তির অদিকারী হয়ে ওঠে। দানব রাজা বলি ওরফে নরকাসুরের তাণ্ডবে অস্থির দেবতারা ভগবান বিষ্ণুর স্মরণাপন্ন হন। তিনি রাজা বলির বা নরকাসুরের কাছে দ্বিজ বামন বেশ ধারণ করে গিয়ে ত্রিপাদ জমি প্রার্থনা করেন।

বলি সেই জমি বামন অবতাররূপী বিষ্ণুকে জমি দিতে গেলে ভগবান বিশাল রূপ ধারণ করেন এবং একটি পা পাতালে অন্য পা পৃথিবীতে এবং আরও একটি পা রাখার জন্য স্থান চান বলির কাছে। রাজা বলি উপায় না দেখে মাথা নিচু করেন ভগবানের কাছে এবং ক্ষমা চান। শেষে ভগবান তাঁর তৃতীয় পদটি বলির মাথার উপর রাখেন। এরপর ভগবান বিষ্ণু ১৬০০০ দেবীকে উদ্ধার করেন নরকাসুরের হাত থেকে।

অন্য একটি কিংবদন্তিতে বর্ণিত আছে, যে পথে মহালয়ার দিন পূর্ব পুরুষরা জল ও পিণ্ড গ্রহণের উদ্দেশ্যে মর্তে আসেন তাদের প্রেতলোকে ফিরে যাওয়ার জন্য পথ দেখাতেই এই দিনে দীপ দান করা হয়। আর মানুষ পরলোক জগতের ভূত প্রেতকে দূরে রাখতে ১৪ শাক খেয়ে, ১৪ প্রদীপ জ্বালিয়ে এবং ১৪ ফোঁটা দিয়ে এই তিথিকে উদযাপন করে থাকে বহুকাল থেকেই।

১৪টি শাক কী কী? (১) ওল (২) কেঁউ (৩) বেতো (৪) সরষে (৫) কালকাসুন্দে (৬) নিম (৭) জয়ন্তী (৮) শাঞ্চে (৯) হিলঞ্চ (১০) পলতা (১১) গুলঞ্চ (১২) ভাটপাতা (১৩) শুষণী (১৪) শৌলফ

তিথিটা চতুর্দশী তাই ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়ে থাকে পরোলোকগত পিতৃপুরুষ, প্রেতাত্মা, ধর্ম, বিষ্ণু, কান্তারপতি বা অরণে অধিষ্ঠিত দেবতার উদ্দেশে।