Date : 2020-06-02

ভোপালের দুঃস্বপ্ন ফিরল ভাইজাগে, পলিমার কারখানায় গ্যাস লিক করে মৃত কমপক্ষে ১১

কেউ রাস্তায় পড়ে ছটফট করছেন, কেউ বমি করছেন, কেউ নিথর হয়ে পড়ে রয়েছেন। কেউ মাস্ক পরা অবস্থাতেই নিজের শ্বাসকষ্টের কথা বোঝানোর চেষ্টা করছেন। এদের সকলেরই শ্বাসযন্ত্রে ঢুকে গিয়েছে স্টাইরিন গ্যাস। বৃহস্পতিবার সকালে বিশাখাপত্তনমের দক্ষিণ শহরতলির কাছে গোপালপত্তনম এলাকায় এলজি পলিমার ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের কারখানা থেকে নির্গত গ্যাস এমনই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

এই কারখানায় মূলত পলিয়েস্টার পলিথিন তৈরি হয়। সেই কাজে ব্যবহার করা হয় স্টাইরিন নামে এক ধরনের গ্যাস। যা মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বুধবার রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ কারখানা থেকে গ্যাস লিক করতে শুরু করে। সেই সময় কারখানায় শুধু নিরাপত্তাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। গ্যাসের প্রভাবে তারা সকলেই অচৈতন্য হয়ে পড়েন। বাইরের কেউ এই ঘটনার কথা টের পাননি। ভোর সাড়ে চারটে থেকে স্থানীয় বহু মানুষের চোখ জ্বালা, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর তৎপর হয় পুলিশ ও প্রশাসন। দ্রুত এলাকা খালি করে উদ্ধারের কাজ শুরু হয়। একে একে পৌঁছয় এনডিআরএফ ও নৌবাহিনীর কর্মীরা। গুরুতর অসুস্থদের কিং জর্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অনেককেই ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়।

করোনার মধ্যেই এই খবর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি জানতে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডিকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী। অমিত শাহ ও রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে একদফা বৈঠক করেন তিনি। এরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার এলজি পলিমারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৮৪ সালের ৩ ডিসেম্বর মধ্যপ্রদেশের ভোপালে গ্যাস দুর্ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ইউনিয়ন কার্বাইডের কারখানা থেকে নির্গত মিথাইল আইসোসায়ানাইড কেড়ে নিয়েছিল ৩৭৮৭ জনের প্রাণ। সেই দুঃস্বপ্নের স্মৃতিই যেন ফিরল বিশাখাপত্তনমের ঘটনায়।