Date : 2020-09-30

একুশে জুলাই নিয়ে মমতাকে কটাক্ষ অধীরের, নস্যাৎ করলেন কর্মসংস্থানের দাবি

ভারতের জাতীয় কংগ্রেসে একসময় সতীর্থ হিসাবে কাজ করেছেন দুজনেই। বঙ্গ রাজনীতির সেই দুই জনপ্রিয় মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অধীর চৌধুরী এখন বিপরীত মেরুতে। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গড়ে তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুর্শিদাবাদের রবিনহুড অধীর রয়ে গিয়েছেন কংগ্রেসেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, আর অধীর এখন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা। ২০১১ সালের পরে ২০১৬ সালেও রাজ্যে ঘাসফুল ফুটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা দু-বারের মুখ্যমন্ত্রী। আর অধীর ২০১৯ সালেও কড়া চ্যালেঞ্জ সামলে ফের জয়ী হন বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে। একসময়ের সতীর্থ সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই একুশে জুলাই নিয়ে চড়া ভাষায় বিঁধলেন অধীর।

করোনা আবহে মঙ্গলবার ভার্চুয়াল সভায় বক্তব্য রাখেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন। রাজ্যে কর্মসংস্থান বেড়েছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে তাঁর প্রত্যাশা, ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে সর্ববৃহৎ জয় পেয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক করবে তৃণমূল। মঙ্গলবার দিল্লিতে বসে ভিডিও বার্তায় তৃণমূলের একুশে জুলাইকে নিশানা করেন অধীরবাবু। করোনা সঙ্কটকালে এমন সভার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাজ্যে করোনায় যারা মারা গিয়েছেন তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশে এক মিনিট নীরবতা পালন করা উচিত ছিল বলেই অভিমত তাঁর। প্রশ্ন তোলেন কর্মসংস্থান নিয়েও। অধীরবাবুর প্রশ্ন, রাজ্যে যদি এতই কাজের সুযোগ তাহলে দেশের সর্বত্র বাংলার শ্রমিকরা কাজ করতে যান কেন। মহারাষ্ট্র, কেরল, তামিলনাড়ুর মানুষকে তো কাজ খুঁজতে বাংলায় আসতে হয় না। করোনাকালে বাংলায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে বলেও তোপ দাগেন তিনি। ভুক্তভোগী মানুষ যখন হন্যে হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ঠোক্কর খাচ্ছেন, তখন মুখ্যমন্ত্রী অমিতাভ বচ্চনের সুস্থতা কামনায় প্রার্থনা জানাচ্ছেন। তবে বিতর্ক এড়াতে অধীরবাবু এও বলেন, তিনি নিজেও অমিতাভ বচ্চনের বড় ভক্ত। তিনিও সুস্থতা কামনা করেন অমিতাভের।

একুশে জুলাইয়ের ভার্চুয়াল সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণের সিংহভাগই ছিল বিজেপিকে নিয়ে। এ রাজ্যের কংগ্রেস বা বামেদের নিয়ে তেমন কোনও মন্তব্য করতে দেখা যায়নি তাঁকে। তবে সিপিএমের পুরনো কমরেডদের একাংশ তলে তলে বিজেপিকে সহায়তা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একুশের বিধানসভা ভোট প্রসঙ্গে অধীরবাবু বলেছেন, “তিনি মনে করছেন ভোট আসছে, কিছু একটা চালাকি করব, একটা কোনও মনোরঞ্জন করার মতো স্লোগান তৈরি করব, সব দোষ পরের ঘাড়ে চাপাব, নিজের ঘাড়ে কোনও দোষ নেব না, বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেব আর ভোটের বৈতরণী পার হয়ে যাব। কিন্তু দিদি এবার আপনাকে বলে রাখছি বারবার ঘুঘুতে ধান খেতে পারবে না। এবার আপনার গল্প বাংলায় শেষ।”