Date : 2021-10-22

Durga Puja 2021 : বারোয়ারি পুজোতে কঠোর বিধি নিষেধ ডিভিশন বেঞ্চের

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায় ,রিপোর্টার : দুর্গাপূজার অতিরিক্ত ভিড় এবং করোনা বিধি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলায় গত বছরের হাইকোর্টের বিধিনিষেধ মেনেই এ বছরও পুজোর আয়োজন করা হবে। করোনা আবহে তাই এ বছরও মণ্ডপে দর্শকদের ‘নো এন্ট্রি’।  শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টে এমনই জানিয়েছে রাজ্য সরকার। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগের বছরের নির্দেশই বহাল থাকবে পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে। রাজ্য সরকারের এই হলফনামার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ তাতেই সায় দিয়েছে। এই নিয়ে উচ্চ আদালতে দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হলফনামা দিয়ে একথা জানায় রাজ্য সরকার। একই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে কালীপুজোতেও।

২০২০ রায় বহাল ২০২১ সেও বলবৎ রাখলেন হাইকোর্ট। ২০২১ সালের শারদীয় উৎসবে দর্শনার্থী এবং পুজো উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট কি কি নির্দেশিকা জারি করলেন তা দেখে নেওয়া যাক একনজরে। সারা রাজ্যে ৩৪হাজার বারোয়ারি দুর্গাপূজা উদ্যোক্তাদের কড়া বিধিনিষেধের মধ্যেই করতে হবে ২০২১শে দুর্গাপূজা। কি কি বিধিনিষেধ জারি করলেন কলকাতা হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল ও বিচারপতি রাজর্ষি ভারদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ।

১- পুজোর দিনগুলিতে সকাল ৮টার মধ্যে সমস্ত বারোয়ারি পূজা কমিটি গুলিকে একটি তালিকা মণ্ডপের বাইরে ঝুলিয়ে দিতে হবে।কারা পূজা কাজের সঙ্গে যুক্ত।

২- দুর্গাপূজার দিনগুলোতে ঢাকি থাকবে নো এন্ট্রি জনের বাইরে অর্থাৎ বাফার জনের।তবে তাঁদের করোনা বিধি মানতে হবে। মাস্ক ,সিনিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক।

৩- ছোট বারোয়ারি পূজা কমিটির ক্ষেত্রে ২০জনের নামের তালিকা এবং বড় পুজো গুলির ক্ষেত্রে ৬০ নামের তালিকা ঝুলিয়ে রাখতে হবে।কিন্তু ছোট পুজো গুলির ক্ষেত্রে ১৫ জন এবং বড় পূজা গুলির ক্ষেত্রে ৪৫ জনের বেশি মণ্ডপে র ভেতরে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।যেখানে প্রতিমা থাকবে তাঁর ৩০০ স্কয়ার ফিটের মধ্যেই তাঁদের থাকতে হবে।

৪- করোনা আবহের মধ্যে রাজ্য পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের উদ্দেশ্যে আদালতের নির্দেশ দর্শনার্থীদের মধ্যে উপযুক্ত শারীরিক ব্যবধান রাখতে হবে।

৫- প্রত্যেক পূজা মণ্ডপের প্রবেশদ্বারে পর্যাপ্ত পরিমাণে মাস্ক, স্যানিটাইজার, ও স্যানিটাইজার ট্যানেলের ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে।

৬- পুলিশকর্মী কর্তব্যরত পুলিশ কর্মী এবং ক্লাব সদস্যদের স্বেচ্ছাসেবক ফেস মাস্ক, ফেস শিল্ড, পরিধান করতে হবে।

৭- পুজো মণ্ডপে থাকা স্বেচ্ছাসেবক এবং ট্রাফিক পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে পুজো মণ্ডপের ভেতরে কোনো রকম জমায়েত না হয়।

৮- পুজো মণ্ডপের ভেতরে কোন ব্যক্তিকেই বিনা মাস্ক পড়ে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

৯- প্রবেশদ্বারে কোন রকম রেলিং দিয়ে আটকানো যাবে না। প্রবেশদ্বার সর্বক্ষন খোলা রাখতে হবে।কোন ভাবেই সেখানে ভিড় যাতে না হয়, পাশাপাশি দর্শনার্থীরা সেখানে শারীরিক দুরুত্ব মেনে প্রতিমা দর্শন করবেন।

১০- কলকাতা পুলিশ এলাকায় ৩০০০ দুর্গাপূজা হয়।সেই সমস্ত বারোয়ারি পূজাকমিটি ও উদ্যোতা দের একটি ম্যাপ পুলিশের কাছে আগেই জমা দিতে হবে।

১১- জনস্বার্থের জন্য জন্য ছোট পূজা মন্ডপ গুলি ৫ মিটার ও বড় পূজা মন্ডপ গুলির ক্ষেত্রে ১০ মিটার নো এন্ট্রি জোন রাখতে হবে।

১২- এবারেও নিষেধাজ্ঞা জারি থাকছে পূজার অঞ্জলি। ভার্চুয়ালি দিতে হবে অঞ্জলি।

১৩- সিঁদুর খেলা যাবে না।নিরঞ্জনে ও জারি থাকবে কঠোর বিধি নিষেধ।

তবে দুই হাজার কুড়ি সালের কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের রায় কার্যকর করায় আদালতে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন রাজ্য সরকার সেই প্রশংসা এবছর কতটা বজায় থাকবে কারণ হাইকোর্টের আইনজীবী মহলের একাংশ মনে করছেন ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত মধ্যরাতের জনতা কার্ফু শিথিল হয়থাকছে রাজ্য জুড়ে। কতটা ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে প্রশাসন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।