Date : 2022-01-29

তৈলাক্ত চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদানের ভূমিকা

তৈলাক্ত চুলের কারণে সমস্যায় পড়েন অনেকেই। ত্বকের মত চুলের খেয়াল রাখাও অত্যন্ত জরুরি। আর বাইরে খেকে চুলের যত্ন নিলেই হবেনা। চুল ভালো রাখতে হলে সুষম খাওয়ার মাধ্যমে ভিতর থেকে যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক এক জনের চুলের ধরন এক এক রকম । তাই চুলের ধরন বুঝে প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত। তৈলাক্ত চুলের খেয়াল রাখা একটু কঠিন ,কিন্তু অসম্ভব নয়। তৈলাক্ত চুলে তেল দেওয়া যায় না। হেয়ার মাস্ক লাগালেও চুল আরও তৈলাক্ত হয়ে যায়, তখন বিরক্তিতে পরেন অনেকে। কিন্তু এই বিরক্তি আর নয়। চুলকে আরও সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর করে তুলতে আছে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান। যেমন-

নারকেল – আমাদের ত্বক ও চুলের জন্য নারকেলের জুরি মেলা ভার। নারকেল তেল যেমন আমাদের চুলের জন্য উপকারি, ঠিক তেমনি নারকেলের দুধও আমাদের চুলের জন্য খুব উপকারি। তাজা নারকেলের দুধের সঙ্গে একটি পাতিলেবুর রস এবং কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। তারপর সেটি মাথায় ভালো করে মাসাজ করে 3-4 ঘন্টা রাখার পরে ধুয়ে ফেলতে হব। তৈলাক্ত চুলের জন্য হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা ঠিক নয়। অনেক মনে করেন তৈলাক্ত চুলে কান্ডিশনারের কনো প্রয়োজন নেয়। কিন্তু এই ধারনা একদমই ঠিক নয়। যাঁদের চুল তৈলাক্ত তাঁরা স্কাল্প ছেড়ে চুলে কন্ডিশনার দিতে পারেন। তবে কেউ যদি বাজারের চলতি কন্ডিশনার ব্যবহার করতে না চান তহলে খুব সহজে ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন কন্ডিশনার। আর সেটিও খুব কম খরচে ও কোনো ক্যমিকাল ছাড়া।

পেঁয়াজ – নতুন চুল গজাতে ,চুলকে আরও সিল্কি ও সুন্দর করতে পেঁয়াজ এর ব্যতিক্রম নেয়। তবে অনেকে পেঁয়াজের গন্ধের জন্য ব্যবহার করতে চান না। কিন্তু সেটিও খুব সহজেই দূর করা যায়। কয়েকটি পেঁয়াজ ও কিছু বাঁধাকপি এক সঙ্গে পেস্ট করে একটি তামার পাত্রে সারারাত রেখে দিতে হব। পরের দিন সকালে এই পেস্টের সঙ্গে 4-5 ফোঁটা এসেনসিয়াল অয়েল ও কয়েক ফোঁটা ভেষজ তেল দিতে হবে। এর ফলে পেঁয়াজের গন্ধ আর থাকবেনা। মাথায় লাগানোর 30 মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে। সপ্তাহে এক বার এটি ব্যবহার করলে চুল আরও সুন্দর হবে।

মেথি – চুল পড়া রোধ করতে , নতুন চুল গজাতে এবং খুশকি দূর করতে মেথি খুব কার্যকারি। মাথা থেকে খুশকি দূর করতে হলে একটি পাত্রে কিছু মেথি নিতে হবে। তারপর তাতে জল দিয়ে সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। পরের দিন সকালে মেথি ও জল এক সঙ্গে পেস্ট করতে হবে। সেই পেস্টের মধ্যে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস দিয়ে মাথায় লাগিয়ে 30 মিনিট রেখে দিতে হবে। তারপর শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দুবার এটি ব্যবহার করলে খুশকির হাত থেকে অনেকটাই রেহায় মিলবে।
আপেল সাইডার ভিনিগার – এক চা চামচ আপেল সাইডার ভিনিগার এক মগ জলে মিশিয়ে মাথায় দিলে চুলের থেকে তেল কমে যায় ঠিকই কিন্তু চুল পড়ার সম্ভবনা থাকে প্রবল। সে জন্য এই পদ্ধতি বেশি প্রয়োগ না করা ভালো।

টিপস- চুলকে সুন্দর রাখতে হলে সবসময় ভেষজ শ্যাম্পু, তেল ও কন্ডিশনার ব্যবহার করা ভালো। নিম, তিলসী,অ্যালভেরা,পাতিলেবু,মেথি ও অন্যান্য প্রকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলে চুল পড়া কমে, খুশকির সমস্যা কমে ও চুল প্রানবন্ত হয়। সবসময় মনে রাখা উচিত প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যতিক্রম হয়না।