Date : 2022-05-27

অক্রূর দত্ত লেনে লতা মঙ্গেশকর

শাহিনা ইয়াসমিন, রিপোর্টার : লতা মঙ্গেশকর নামেই সুরের ছটা। সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের সুরের বিচরণ ছিল গোটা ভারতীয় উপমহাদেশে। কিংবদন্তি লতাজির পায়ের ধুলো বহুবার পড়েছে কলকাতায়। কলকাতার অলিতেগলিতে রয়েছে সেই ইতিহাস। সেই আখ্যান নিয়েই একটি বিশেষ প্রতিবেদন।

মধ্য কলকাতার ১৬ নং অক্রুর দত্ত লেন। এই রাস্তা ধরে কিছুদূর এগিয়ে এলেই দেখতে পাওয়া যাবে নীল রঙের দোতলা বাড়ি। বাড়ির সদর দরজার পাশে দেওয়ালে একটা সাইন বোর্ড। লেখা আছে অজিত ঘোষ মিউজিক অ্যাকাডেমি। শৈলেন্দ্র স্মৃতি সঙ্গীত বিদ্যালয় নামেও পরিচিত এই সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান। বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতেই একটি দরজা যেখানে তালা মারা। তালা খুলতেই ইতিহাসের পাতা খুলে গেল। সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে জড়িয়ে এই বাড়ির বহু স্মৃতি। কোকিলকন্ঠী লতা মঙ্গেশকরের প্রায়শয় এই বাড়িতে আনাগোনা ছিল। এমনটাই জানালেন এই বাড়ির মালিক তথা সঙ্গীত শিল্পী অসিত কুমার ঘোষ। জানা যাচ্ছে মধ্য কলকাতার এই বাড়িতে একসময় থাকতেন প্রবাদ প্রতিম কম্পোজার তথা সঙ্গীত পরিচালক ভি বালসারা। সালটা ছিল ১৯৬৪। পরিচালক প্রহ্লাদ শর্মার হিন্দী সিনেমা বিদ্যাপতির গানের জন্য সঙ্গীত পরিচালক ভি বালসারা বেছে নিয়েছিলেন লতাজিকে। গানের বোল ছিল “মোরে নয়না শাবণ ভাদো”। এই গানটি গাওয়ার জন্য কোনও পারিশ্রমিক নেননি লতাজি। জানালেন সঙ্গীত শিল্পী অসিত কুমার ঘোষ।

এই গানের রের্কড হয়েছিল হিন্দুস্তান রের্কডসে। যেটি অক্রুর দত্ত লেনের মধ্যেই পড়ে। সেবাড়িটিও ঘুরে দেখা গেল। সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকারের ব্যবহার ছিল অমায়িক। তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ অসিতবাবু।
শুধু এখানেই শেষ নয়, বহুবার গানের টানে অক্রুর দত্ত লেনে এসেছিলেন লতাজি। শুধু লতাজি একাই নয়, বহু বড় বড় সঙ্গীত শিল্পী, গায়ক গায়িকা এই বাড়িতে এসেছিলেন। এই বাড়ির আনাচেকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সেইসব স্মৃতি। রয়েছে সেইসময়কার বাদ্যযন্ত্র।