Date : 2022-10-05

নবম, দশমশ্রেণীর নিয়োগ দুর্নীতি ! হাইকোর্টে সশরীরে হাজিরা দিলেন SSC অ্যাডভাইজার এস পি সিনহা

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, রিপোর্টার:- মামলার শুরুতেই প্রশ্ন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের তৎকালীন এসএসসির চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকার বলেছেন গণিতের ৬ জনের রেকমেন্ডেশন লেটার নিয়ে তিনি কিছুই জানেন না। আপনি কি জানেন?
এস পি সিনহা:– আমি জানি না। রেকমেন্ডেশন লেটার দেওয়ার অধিকার আমার ছিল না।
ভুল উত্তর দেওয়ায় এস পি সিনহা কে ধমক বিচারপতির। আপনি শপথ নিয়ে জবানবন্দি দিচ্ছেন আমি যদি বুঝি আপনি ভুল বলছেন আপনাকে প্রেসিডেন্সি জেলে পাঠিয়ে দেবো।
ফের প্রশ্ন বিচারপতি র অশোক কুমার সাহা কার কাছ থেকে চার্জ নিয়েছিচলেন?
এস পি সিনহা:– সৌমিত্র সরকার।
সেই সময় সৌমিত্র সরকার কি চেয়ারম্যান ছিলেন।
এস পি সিনহা জানান না তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।
৫ জন কমিটিতে কনভেনর হিসেবে আপনার কাজ কি ছিল। সরকারের নির্দেশ কি ছিল?
এস পি সিনহা;– আমি কনভেনর হিসাবে ২ টো মিটিং ডেকেছিলাম। উপযুক্ত উপস্থিতি না থাকায় মিটিং হয় নি।
বিচারপতি গাঙ্গুলি কোনও কাউন্সিলিং হয়েছিল?
এস পি সিনহা:- আমি জানি না।
বিচারপতি :- আপনি এড়িয়ে যাচ্ছেন।
এস পি সিনহা:– মিটিং হলে কোনও সিধান্ত হলে সেইমত কাউন্সিলিং হলে আমি জানতাম।
বিচারপতি :— ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এর দেওয়া নথি অনুযায়ী আপনার দেওয়া চিটির ভিত্তিতেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই চিঠি কি আপনার লেখা?
এস পি সিনহা:– না
বিচারপতি:— কেনো আপনি বিশেষ কয়েকজনের রেকমেন্ডেশন লেটার ইস্যু করতে বলেছিলেন?
এস পি সিনহা:– আমি গ্রিভান্স শেলের বিষয় দেখতাম যারা মেডিক্যাল বা অন্য কারণে উপস্থিত হতে পারেনি সেটা বিচার করে দেখে বলতাম।
বিচারপতি :— আপনি সঠিক উত্তর দিন ফের ধমক।
এস পি সিনহা:— কমিটি মেম্বার আলোক সরকার জানেন
বিচারপতি:– আপনি অন্য ৪ সদস্যের সঙ্গে বড় ষড়যন্ত্র করে প্রচুর টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগরর সুপারিশ পত্র দিয়েছেন? আপনার কাছে উত্তর কী আছে?
উপদেষ্টা কমিটির সদস্য
এস পি সিনহা:—
না স্যার, এরকম কিছু হয়নি।

বিচারপতি:–কমিটির সদস্য অলোক কুমার সরকার এসএসসি নিয়ম এড়িয়ে নিয়োগ সুপারিশ পত্র দিয়েছেন টাকার বিনিময়ে, আপনার কি উত্তর ?
এস পি সিনহা:– ডিফার স্যার।
বিচারপতি:- জিজ্ঞাসাবাদে তৎকালীন মন্ত্রী পার্থ চট্টপাধ্যায় এর নাম উঠে এলো
বিচারপতির মন্তব্য এটা পরিষ্কার সি বি আই তদন্তের দরকার
বিচারপতি :– আপনার নিজের কাছে কোনও নথি নেই। আপনি আদালতকে যা বলেছেন সব অসত্য।
এস পি সিনহা:— সত্য মী লর্ড
বিচারপতি:- এস এল এস টি মামলা এস পি সিনহা জিজ্ঞাসাবাদ:–
মামলাকারি র পক্ষের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য :— mr সিনহা আপনাকে নিয়োগ করার সময় কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল?
এস পি সিনহা:- না
বিকাশ :– কে নিয়োগ করেছিল?
এস পি সিনহা:– এস এস সি
বিকাশ :– আপনি কার নির্দেশে রেকমেন্ডেশন লেটার ইস্যু নির্দেশ দিতেন
এস পি সিনহা:– ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ( প্রোগ্রাম অফিসার) নির্দেশে
এস পি সিনহা:– আমি নিজে থেকে নতুন কোনো রেকমেন্ডেশন লেটার জন্য সুপারিশ করিনি।
এস পি সিনহা :– কমিটি মেম্বারের কিছু সুপারিশ এলে আমি সেটা চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়ে দিতাম।
আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্য:– কমিটির কোনও মিটিং হলো না। তারপরেও কমিটির যা দায়িত্ব ছিল সেই কাজটা আপনি নিজে করেন কি করে?
এস পি সিনহা:– আমি গ্রিভানস শেলের কাজ করতাম।
মূল বিষয়টা দেখতেন এক্সামিনেশন কমিটি।
বিকাশ রাঞ্জন ভট্টাচার্য্য :– আপনার কথায় আদালত ও আমরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছি। আপনি কি আদালতকে বিভ্রান্ত করছেন?
এস পি সিনহা:– না
এসপি সিনহা:— তৎকালীন মন্ত্রীর ওএসডি র সুপারিশ এলে আমি সেটা এক্সামিনেশন বিভাগে পাঠিয়ে দিতাম
এস পি সিনহা:– আমি তারপরে কি হতো জানতাম না।
আমি কিছু নাম বা অন্য কিছুতে ভুল থাকলে দেখতাম মামলার পরবর্তী শুনানি ২৫ মার্চ।