Date : 2022-10-05

ইউপিএ সরকারের তুলনায় মোদী সরকারের জমানায় এফডিআই ৬৫শতাংশ বৃদ্ধি : নির্মলা সীতারামণ

মাম্পি রায়, নিউজ ডেস্ক : মোদী সরকারের জমানায় এফডিআই ৬৫শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মোদী সরকারের সময় দেশে এফডিআই ছিল ৫০০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ইউপিএ সরকারের ১০ বছরে প্রাপ্ত এফডিআইয়ের পরিমাণের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেশি। কারণ বিনিয়োগকারীরা বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপরে বেশি আস্থা রাখছেন। ফিনান্স বিল ২০২২ এবং অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন বিল, ২০২২ নিয়ে আলোচনার সময় একথা জানান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ।  আলোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, UNCTAD-র রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ গ্রহণকারী দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত। ২০২০-২১ সালে FDI প্রবাহ ছিল ৮১.৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের আর্থিক বছরে এর পরিমাণ ছিল ৭৪.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।  তিনি আরও বলেন কোভিড মহামারী সত্ত্বেও সরকার সম্পদ সংগ্রহের জন্য কর গ্রহণ করেনি।  অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে তহবিল তৈরির জন্যও কোনও কর বৃদ্ধি করেনি সরকার।

মঙ্গলবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রভাব প্রায় সব দেশেই পড়েছে। সাপ্লাই চেনটাও ভেঙে পড়েছে। নতুন বাজারও তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে পুরনো বাজারগুলিও অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ২০২২ ফিনান্স বিল এবং অ্যাপ্রোপিয়েশন বিল ২০২২ নিয়ে আলোচনা হয় সংসদে। তাতেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানান, UNCTAD-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ভারত এখনও প্রত্যক্ষ বিদেশি  বিনিয়োগ গ্রহণকারী দেশগুলির মধ্যে বিশ্বের প্রথম পাঁচে রয়েছে।

অন্যদিকে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাপী বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগজনক রিপোর্ট দিয়েছে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত একটি দরিদ্র দেশ, যেখানে ধনী দরিদ্রের বৈষম্য অনেক বেশি। ২০২১-এর জনসংখ্যার প্রথম ১ শতাংশ মানুষের হাতে জাতীয় আয়ের ৫ ভাগের ১ ভাগ রয়েছে। একেবারে নীচের স্তরের অর্ধেকাংশের হাতে রয়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ। গতবছর ডিসেম্বর পর্যন্ত এমনই ভয়াবহ বৈষম্যের কথা তুলে ধরেছে ওয়ার্ল্ড ইনইক্যুয়ালিটি ল্যাব। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভারতে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার জাতীয় গড় আয় ২ লক্ষ ৪হাজার ২০০টাকা। সবচেয়ে নীচে থাকা ৫০ শতাংশের আয় মাত্র ৫৩হাজার ৬১০টাকা। যা শীর্ষে থাকা ১০ শতাংশ মানুষের আয়ের ২০গুণ বেশি। এটি সংখ্যায় ধরলে দাঁড়ায় ১১ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫২০টাকা।  ওয়ার্ল্ড ইনইক্যুয়ালিটি ল্যাবের এই রিপোর্ট খারিজ করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ।