Date : 2022-05-26

গ্রীষ্মের শুরুতেই রক্তের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। রক্তদানের মধ্য দিয়েই রক্তসঙ্কট মিটবে।

শাহিনা ইয়াসমিন, সাংবাদিক:-আমরা জানি রক্তদান জীবনদান। রক্তসঙ্কট থেকে বাঁচতে প্রতিবছর রক্তদান শিবির করা হয়। তবে কোভিড, লকডাউন এবং তীব্র গরমের কারণে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তার ফলে হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে রক্তের সংকট দেখা দিচ্ছে।


কোভিড, লকডাউন পরিস্থিতির পর সে ভাবে রক্তদান শিবির সংগঠিত হয়নি। তার ফলে রক্তদানের পরিমাণ কমেছে। এই সবের মধ্যে তীব্র গরম যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলকাতার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি। যেখানে জেলায় কোথাও ৪১ ডিগ্রি কোথাও ৪২ডিগ্রি ও ৪৩ ডিগ্রির তাপমাত্রা। এই পরিস্থিতিতে মানুষ রক্ত দিতে ভয় পাচ্ছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ক্লাব, প্রতিষ্ঠান যে ধারাবাহিক ভাবে রক্তদান শিবির করে সেটাও হচ্ছেনা। সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রোগী ও রোগীর পরিবারদের। প্রতিদিন রাজ্যে ৪ হাজার ইউনিট রক্তের প্রয়োজন। রাজ্যে বছরে ১৫ লক্ষ ইউনিট রক্ত লাগে৤ কিন্তু চাহিদা- জোগানে ঘাটতি থাকে ২ লক্ষ ইউনিট। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত রক্ত সংকট দেখা যায়। কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে যে কোভিড ও লকডাউনের জেরে রক্তদান শিবির কমেছে। এ ছাড়া রক্তদানে প্রাপ্তিযোগ যুক্ত হয়েছে। উপহারের আশায় রক্তদাতাদের একাংশ উতসাহিত তাই এখন উপহার নেই বলেই রক্তদাতা কমেছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বহু রক্তদান শিবির করে। পুলিশের পক্ষ থেকেও রক্তদান শিবির করা হয়ে থাকে। লকডাউনের কারণে সেই ধারাবাহিকতা বন্ধ হয়েছে। রাজ্যে ৮৪টি সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক, ৩৫টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক এবং ১৬টি কেন্দ্রীয় সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক রয়েছে। সব ব্লাড ব্যাঙ্কে একই পরিস্থিতি। মেডিক্যাল ব্লাড ব্যাঙ্কের সম্পাদক ডি আশিস জানাচ্ছেন রক্তসঙ্কটের কারণে সমস্যার মুখে পড়ছেন থ্যালাসেমিয়া রোগীরা এবং ক্যান্সার রোগী, গর্ভবতী মা, হার্ট ও কিডনির সমস্যাজনিত রোগীরা। দুর্ঘটনার শিকার যারা হন তারা সময় মতো রক্ত পাচ্ছে না৤রক্ত সঙ্কট পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মিডলম্যানরা ব্যবসা করছে।


মানিকতলা ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত নিতে যারা আসছেন তাঁদের একাংশের বক্তব্য যেখানে দু ইউনিট রক্ত প্রয়োজন কিন্তু সেখানে এক ইউনিট রক্ত পাচ্ছেন।
ব্লাড নিয়ে যেতে রোগীর পরিবারের যাতে অসুবিধা না হয় তার জন্য মানিকতলা ব্লাড ব্যাঙ্কের বাইরে রয়েছে একটি দোকান। দোকানের মালিক রোহিত চৌধুরী। যেখানে পাওয়া যাচ্ছে বালতি, শোলার বাক্স ও বরফ। গরমে যাতে রক্ত ভালো থাকে তার জন্য বালতি বা শোলার বাক্সের ভিতরে বরফ দিয়ে রক্ত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাস্তার দূরত্ব অনুযায়ী নির্ভর করছে দাম।


আমার প্রিয়জনকে বাঁচাতে আমাকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে জানান মেডিকেল ব্লাড ব্যাঙ্কের সম্পাদক ডি. আশিস। তিনি বলেন রক্তের সমস্যা মেটাতে রক্তদান শিবিরের পাশাপাশি সরাসরি ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়ে রক্ত দেওয়া হোক। যতবেশি রক্তদান হবে, দ্রুততার সঙ্গে রক্তসংকট মিটবে।