Date : 2022-10-01

CBI’র মঞ্চে দাঁড়িয়েই মন্তব্য,”ভোটের আগে সিবিআই বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামে। আবার ভোট মিটলেই সিবিআই শীতঘুমে চলে যান” : এন ভি রমণা

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়,সাংবাদিক:- এত দিন বিরোধী দলের নেতারা বার বার অভিযোগ তুলেছেন। শুক্রবার খোদ প্রধান বিচারপতি এন ভি রমণা সিবিআইয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়েই বললেন, সিবিআই তার ‘সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তা’-র ফলে নিজের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ নিয়ে নিজেই প্রশ্ন চিহ্নের মুখে পড়েন। আগে সিবিআইয়ের নিরপেক্ষতার জন্য সিবিআইয়ের হাতে তদন্তের ভার দেওয়ার জন্য আদালতে আর্জির পাহাড় জমত। এখন সময়ের সঙ্গে সিবিআই নিজেই আতশকাচের তলায় চলে এসেছে।
শুক্রবার প্রধান বিচারপতি বলেন, “বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কখনও এমন হয়েছে পুলিশ অফিসাররা হেনস্তার সম্মুখীন হয়েছেন।” কিন্তু তাতে দমে যাওয়া উচিৎ নয় বলে মত রামানার। তিনি জানিয়েছেন,”এই সময় সিবিআই-এর উচিৎ সমাজে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া সম্মান, বৈধতা এবং মানুষের বিশ্বাস ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করা।” প্রধান বিচারপতির মতে , “যদি রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেআঁতাত না ভাঙেন, তাহলে সাধারণ মানুষের ভরসা কোনওদিন ফিরে আসবে না।”

সিবিআই অফিসারেরা যাতে শাসকের ধামাধরা না হয়ে ওঠেন, তার জন্য প্রধান বিচারপতির বার্তা, ‘‘রাজনৈতিক সরকার সময়ের সঙ্গে বদলে যাবে। আপনাদের প্রতিষ্ঠান পাকাপাকি থাকবে। আপস করবেন না, স্বাধীন হোন। নিয়মের বই মেনে চলুন।’’ ক্ষমতার বদলের পরে হেনস্থার শিকার হয়ে অনেকেই আদালতের দ্বারস্থ হন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এক সময় সুপ্রিম কোর্টই সিবিআইকে ‘খাঁচার তোতা’ বলে আখ্যা দিয়েছিল। এ দিন সিবিআইয়ের আয়োজিত সংস্থার প্রথম অধিকর্তা ডি পি কোহলি স্মারক বক্তৃতায় প্রধান বিচারপতি বলেছেন, সিবিআইয়ের উপর মানুষের আস্থা ফেরাতে হলে রাজনৈতিক শাসক শিবির ও প্রশাসনের সঙ্গে সিবিআইয়ের আঁতাত ভাঙতে হবে। দুর্নীতির অভিযোগের ফলে পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।
সাম্প্রতিক অতীতে সিবিআই আদৌ নিরপেক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিন প্রধান বিচারপতি বলেন, সঠিক সুযোগ সুবিধা বা পরিকাঠামো নেই তদন্তকারী দলগুলির কাছে। পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে প্রমাণ সংগ্রহেও ঘাটতি থেকেই যায় বলে দাবি করেছেন তিনি। তবুও রামানা মনে করেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়া থেকে বেরোতে না পারলে সিবিআই মর্যাদা ফিরে পাবে না।
সিবিআইয়ের অনুষ্ঠানে এসে সিবিআই সম্পর্কে প্রধান বিচারপতির এই কড়া সমালোচনার সাথে মন্তব্য স্বাভাবিক ভাবেই সরকার ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। প্রধান বিচারপতি নিজেই তাঁর ‘গণতন্ত্র: তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা ও দায়িত্ব’ শীর্ষক বক্তৃতার শুরুতে বলেছেন, ‘‘যখন সিবিআই অধিকর্তা আমাকে আমন্ত্রণ জানাতে এলেন, আমি তখনই ওঁকে বলেছিলাম, আমাকে কিছু সমালোচনামূলক কথা বলতে হবে। আশা করি, উনি আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিজের বিপদ
ডেকে আনেননি।’’
তাই নিজেদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখার দায় অধিকারিকদেরই নিতে হবে। অফিসারদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষ-সহ সকলের মনে প্রশ্ন জাগছে বলে দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এন ভি রামানা। সেই সঙ্গে পুলিশের দুর্নীতির উল্লেখ করেছেন তিনি।
প্রধান বিচারপতির মতে সিবিআই এবং ইডি, এসএফ ও মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে এক ছাতার তলায় আনার।এই সংস্থাগুলোকে নিরপেক্ষ অবস্থান দেওয়া এই মুহূর্তে জরুরি কাজ।