Date : 2022-05-26

ফের বিতর্কের কেন্দ্রে বেসরকারি স্কুল। স্কুলের একগুচ্ছ শর্ত মেনে স্বাক্ষর অভিভাবকদের

নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক : নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতেই ফের বিতর্কের কেন্দ্রে বেসরকারি স্কুল। এবার মুচলেকা বিতর্ক। স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করতে হলে একগুচ্ছ শর্ত মেনে স্বাক্ষর করতে হচ্ছে অভিভাবকদের। যা মুচলেকার সমান। এই ব্যবস্থা ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন অভিভাবকদের একাংশ।

সম্প্রতি স্কুল ফি নিয়ে বিতর্ক দানাবাঁধে জি ডি বিড়লা সহ অশোকা গ্রুপের স্কুলগুলিতে। বেতন বাকি থাকায় স্কুলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি একাংশ পড়ুয়াকে। ন্যায় বিচারে আদালতের দারস্থ হন অভিভাবকেরা। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় করোনা পরিস্থিতির জেরে বেতন বকেয়া থাকলেও পড়ুয়াদের স্কুলে ঢুকতে দিতে হবে। ক্লাস প্রমোশন থেকে রিপোর্ট কার্ড সবই দিতে হবে। স্বাভাবিক ভাবে আদালতের রায়ে ধাক্কা খায় জি ডি বিড়লা সহ অশোকা গ্রুপের স্কুলগুলি। তবে রিপোর্ট কার্ডে বেতন বাকি থাকার কথা উল্লেখ করায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আর এবার কয়েকটি বেসরকারি স্কুলের আচারণ বিধি তৈরি নিয়ে নয়া বিতর্ক। এই স্কুলগুলিতে সন্তানকে ভর্তি করার আগে বেশ কয়েকটি শর্ত মানতে বাধ্য বলে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যা মুচলেকার সমান। এর ফলে অভিভাবকদের স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

স্কুলের সুনাম নষ্ট হয়,এমন কোনও বয়ান দেওয়া বা লেখা যাবে না নেটমাধ্যম, সংবাদপত্র কিংবা বৈদ্যুতিন মাধ্যমে। স্কুলের ফি কত তা জেনেই সন্তানকে ভর্তি করা হচ্ছে।তাই এই নিয়ে পরে আপত্তি তোলা যাবে না।স্কুলের ফি দেওয়ার আর্থিক ক্ষমতা আছে এবংস্কুলের সব দাবি মেনেই সন্তানকে ভর্তি করা হয়েছে।
বিক্ষোভ বা আন্দোলন করে স্কুল কর্তৃপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে না।স্কুলের সিদ্ধান্ত বদল করার দাবি তোলা যাবে না। স্কুল চত্ত্বরে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারবে।এমন কি অপরাধ বুঝে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াকে বহিষ্কার পর্যন্ত করা যাবে।বেশ কয়েকটি বেসরকারি স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করতে অভিভাবকদের দিয়ে এমনই শর্তে স্বাক্ষর করানে হচ্ছে। যা নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে।

শিক্ষার অধিকার দেশে সংবিধান স্বীকৃত। এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অর্থ ব্যক্তির মৌলিক অধিকার খর্ব করা। শিক্ষার অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হয় স্কুলে পঠনপাঠনের মধ্যে দিয়ে। সেখানেই যদি কর্তৃপক্ষের স্বার্থবাহী শর্তাবলী মানতে বাধ্য করা হয় যা সরাসরি স্কুলের শিক্ষার অত্যাবশ্যকীয় বিষয় নয়, তাহলে পড়ুয়াদের মৌলিক অধিকার রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।