Date : 2022-05-27

হলুদ কার্ড দেখিয়ে স্কুলে প্রবেশ জি ডি বিড়লা র পড়ুয়াদের

নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক ঃ বিভাজন রেখেই সোমবার খুলল জি ডি বিড়লা, অশোকা হল ও মহাদেবী বিড়লা শিশু বিহার স্কুল। যারা সম্পূর্ণ ফি দিয়েছে একমাত্র তারাই এদিন স্কুলে প্রবেশ ও ক্লাস করতে পেরেছে। বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলার অজুহাতে হঠাৎ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল জি ডি বিড়লা সহ অশোকা গ্রুপের স্কুলগুলি। কিন্তুু একদিন পরেই শনিবার স্কুল খোলা নিয়ে নোটিশ জারি করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। যাতে বলা হয়, যারা সম্পূর্ণ ফি দিয়েছে তারাই একমাত্র স্কুলে আসতে পারবে। আর এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের একাংশ।

স্কুলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সোমবার ক্লাস করতে পারল না বেশ কিছু পড়ুয়া। করোনাকালে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ ছিল। আর বাড়িতে অনলাইন ক্লাস করতে করতে একঘেয়েমি এসে গেছি পড়ুয়াদের মধ্যে। করোনার সংক্রমণ নিম্নমুখী হতেই অনলাইন ক্লাসের পাট চুকিয়ে স্কুলে ফিরেছেন পড়ুয়ারা। গত সোমবার থেকে জি ডি বিড়লা সহ অশোকা গ্রুপের স্কুলগুলিতে নতুন শিক্ষাবর্ষে অফলাইনে পঠনপাঠন শুরু হয়। কিন্তু প্রথমদিনই স্কুল চত্ত্বরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সম্পূর্ণ স্কুল ফি না দেওয়ার অপরাধে এদিন জি ডি বিড়লা স্কুলে বেশকিছু পড়ুয়াকে ঢুকতে বাধা দওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকেরা। সন্তানের সঙ্গে এহেন ব্যবহার হওয়ায় বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকেরা। স্কুল চত্বরেই চলে অভিভাবকদের বিক্ষোভ। করোনাকালে অনেকেই আর্থিক সমস্যায় ভুগছেন। তাই জি ডি বিড়লার অনেক অভিভাবকেরই সম্পূর্ণ স্কুল ফি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই বিচারের আসায় সেই সমস্ত অভিভাবকেরা আদালতের দ্বারস্থ হন। দায়ের হয় পিটিশান। চলতি সপ্তাহে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশিকা দেয়, বেসরকারি স্কুলে ফি বকেয়া থাকলেও পড়ুয়াদের ক্লাসে ওঠা আটকানো যাবে না। বাধা দেওয়া যাবে না ক্লাস করার ক্ষেত্রেও। আদালতের এই রায়ে নৈতিকভাবে জয় পান অভিভাবকরা।

এই নির্দেশিকার পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলার বিষয়টিকে সামনে এনে স্কুল ও পড়ুয়ার সুরক্ষা হেতু অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়, “পড়ুয়াদের কথা ভেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আপাতত স্কুল বন্ধ রাখা হচ্ছে।” এদিন সকালে স্কুল কর্তৃপক্ষের জারি করা নোটিশ দেখে স্তম্ভিত অভিভাবক থেকে পড়ুয়ারা। যারা সম্পূর্ণ স্কুল ফি দিয়েছেন সেই সমস্ত অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নির্দেশিকার একদিন পরেই স্কুল খোলার বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্কুল কর্তৃপক্ষ ।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত, যারা সম্পূর্ণ ফি দিয়েছে একমাত্র তারাই স্কুলে আসতে পারবে। আর সেই শর্ত মেনেই সোমবার স্কুলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় পড়ুয়াদের। এদিন পড়ুয়ারা হলুদ আইকার্ড দেখিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে। স্কুল খোলায় খুশি অভিভাবকেরা। তবে কাটল না জটিলতা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন করে ভেদাভেদ এবং বৈষম্যের অভিযোগ উঠল স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তাই যারা এদিন স্কুলের শর্তে ক্লাস করতে পারল না তাদের অভিভাবকেরা ন্যায় বিচারের আসায় আদালতের দারস্থ হন।