Date : 2022-06-30

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলায় হাইকোর্টে ধাক্কা খেল রাজ্য শিশু সুরক্ষা অধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়,সাংবাদিক : কমিশনের চেয়ারম্যান নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। পরিষ্কার জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। করোনা অতিমারিতে ২০২১ শের বিধানসভা নির্বাচন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন রাজ্যে আট দফার ভোট ঘোষণা ও পরিচালনার জন্য বহু শিশুর ক্ষতি হয়েছে। করোনা আক্রান্ত শিশুদের কাছে সঠিক সময়ে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু শিশুর প্রাণ গিয়েছে। তাই ক্ষতিপূরণ দিক নির্বাচন কমিশন। এই মর্মে অভিযোগ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান অনন্যা চক্রবর্তী। সম্প্রতি সেই মামলার রায়ে বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, নিজেদের হাতে থাকা ক্ষমতার প্রয়োগ না করে একটি আর বহির্ভূতভাবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন কমিশনের চেয়ারপার্সন। কমিশনের হাতে প্রচুর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও শিশুমৃত্যুর কোনরকম কারণ খুঁজতে তাদের হাতে দেওয়া ক্ষমতার ১৩, ১৪ এবং ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ না করেই। অর্থাৎ শিশু মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান বা কমিশনের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক না করেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন চেয়ারপারসন। তিনি নিজের অধিকার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। তাই মামলাটি প্রিম্যাচিওর এবং সেটিকে খারিজ করে দেওয়া হল।
-পর্যবেক্ষন হাইকোর্টের।
১- জাতীয় নির্বাচন কমিশনের গাফিলতির কারণে শিশুমৃত্যু হয়েছে কিনা তা অনুসন্ধান করে দেখার সুযোগ রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের ছিল।
আদালতের দরজা বন্ধ নয়। অনুসন্ধানের পর যদি শিশু সুরক্ষা কমিশন নির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে কারো গাফিলতি খুঁজে বের করতে পারত তাহলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ তাদের ছিল। – পর্যবেক্ষন হাইকোর্টের
২-২০০৫ সালের শিশু সুরক্ষা অধিকার আইনের জাতীয় ও রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের হাতে একাধিক ক্ষমতা দেওয়া আছে। শিশুদের অধিকার খর্ব হলে তারা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারেন। – পর্যবেক্ষন হাইকোর্টের।
৩-তদন্ত বা অনুসন্ধান করার ক্ষমতা কমিশনের আছে।
এক্ষেত্রে রাজ্য কমিশন সেরকম কিছু করেছে বলে মনে হচ্ছে না। – পর্যবেক্ষন হাইকোর্টের
৪/যখন রাজ্য কমিশনের হাতে ক্ষমতা আছে তখন আদালত প্রত্যাশা করে যে রাজ্য কমিশন প্রথমে শিশু মৃত্যুর তদন্ত করবে এবং তারপর তাদের সুপারিশ যদি রাজ্য মেনে না নেয় সেক্ষেত্রে তারা আদালতের দ্বারস্থ হবেন। – পর্যবেক্ষন হাইকোর্টের
৫-যেকোন মৃত্যুই অত্যন্ত দুঃখের। শিশুরা দেশের সম্পদ।
যখনই কোন শিশুর অধিকার হরণ করা হবে তখনই বিন্দুমাত্র দেরি না করে কমিশনগুলির উচিত পদক্ষেপ করা এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া।- পর্যবেক্ষন হাইকোর্টের।
৬-আদালত এটা প্রত্যাশা করে রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন আইন, নিজের ক্ষমতা এবং কর্তব্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকবেন। এবং নিজের ক্ষমতার প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট সুপারিশ নিয়ে তারপর আদালতের দ্বারস্থ হবেন।