Date : 2022-10-02

ফের মহাজীবন

রুমঝুম সামন্ত,নিউজ ডেস্ক; বিদ্যালয়ের চৌকাঠ পেরনোর সুযোগ মেলেনি কোনও দিন। কিন্তু দেশের হেন কোনও নামী বিশ্ববিদ্যালয় নেই যেখানে তিনি বক্তব্য বলেননি। জীবিকার খোঁজে তাকে যেতে হয়েছিল দণ্ডকারণ্যে। মধ্যভারতের নকশাল আন্দোলন ও শ্রমিক নেতা শংকর গুহনিয়োগীর সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল তাঁর। নানা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ফলে জেলে যেতে হয়। জেলে থাকাকলীন মনোনিবেশ করেন পড়াশোনায়। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে কখনও মালবাহক, কখনও শ্রমিক, কখনও কুলি আবার কখনও মজুরের কাজ করেছেন তিনি। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেই লিখেছেন দলিত সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। কলকাতায় রিক্সা চালকের কাজ করার সময় লেখিকা মহাশ্বেতা দেবীর সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। মূলত তাঁরই উতসাহে সাহিত্য জগতে পরিচিতি হয় মনোরঞ্জন ব্যাপারীর। এবছর জয়পুর সাহিত্য উত্্সবের অন্যতম বক্তা ছিলেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী।

সাহিত্যের পাঠকদের কাছে তাঁর লেখা অন্য এক অভিজ্ঞতা। মুটে-মজুরি, ছাগল চরানো, চায়ের দোকানের বয় থেকে মেথরের কাজ। ছত্তীশগঢ়ে জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে তা বিক্রি করা। এছাড়া নৈশপ্রহরীর কাজও করেছেন তিনি। এক সময় দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দপুরে হেলেন কেলার বধির বিদ্যালয়ে রাধুনির কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি রাজ্যের তৃণমূল বিধায়ক। 2021 বিধানসভা নির্বাচনে হুগলির বলাগড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি জয়ী হন। বড়ই হেলাফেলার জীবন। সমাজে প্রান্তে থেকে মোট বয়ে, রিক্সাটেনে অথবা বনের কাঠ কেটে বুজেছে জঠরের আগুন। তথাকথিত ভদ্র সমাজ যাদের সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলে। সেই উড়ো খৈ জীবন থেকেই তৈরি হয়েছে দুর্লভ সাহিত্য। যার ছটায় আলোকিত হয়েছে বাংলা সাহিত্য।