Date : 2022-06-26

বঙ্গ রাজনীতির অভিমুখ

রুমঝুম সামন্ত, নিউজ ডেস্ক; বিরোধী দলে থাকলে তাকে কটাক্ষ করা আর দল পরিবর্তন করে এক দলে যোগ দিলে তাকে স্বাগত জানানো এইটাই আমাদের দেশের রাজনীতি। এই নীতিই যুগ যুগ ধরে পালন করে চলে আসছে আমাদের দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল। ২০১৯ এর লোকসভা ভোটের আগেই ব্যারাকপুর সাংসদ অর্জুন সিং তৃণমূল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন। তখন থেকেই অর্জুন সিং কে নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। তাঁকে গুন্ডা, চোর, লম্পট, জেল খাটা আসামী বলেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল নেতারা। “৪০ বছরের অর্জুন এখনও দুধ খায়, দৌঁড়াতে পড়ে যাচ্ছে” বলে খোঁচাও দেন বিধায়ক মদন মিত্র। তখন ডানলপ থেকে আমডাঙ্গা অর্জুনের বিরোধিতায় সবর ছিলেন মদন মিত্র। শুধু তাই নয়। অর্জুন সিং এর বাড়ির সামনে বহুবার বোমাবাজির ঘটনায় তৃণমূলের দিকে দোষ দিয়েছেন তিনি। বলতে গেলে সব বিষয়েই একে অপরকে দোষ দিয়ে কটাক্ষ করেই চলেছে বঙ্গ রাজনীতি। একে অপরকে গালিগালাজ হুমকি হুঁশিয়ারি দিয়েই নজর কাড়ছেন রাজনৈতিক নেতারা। বিটি রোড কমারহাটিতে আসলে কব্জি কেটে নেবেন অর্জুন সিং এই বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মদন মিত্র।
তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় তিন বছরে সম্পর্ক ভেঙে সোমবার তৃণমূলে ফিরেছেন ব্যারাকপুরের সাংসদ। দলে ফিরতেই লাল গোলাপের মালা পরিয়ে অর্জুন সিং কে বরণ করে নেন বিধায়ক মদন মিত্র। এই ইস্যু তে মদন মিত্র বলেন, “অর্জুন আগে ছিল আমার সৎ ভাই। এখন হয়েছে আমার নিজের ভাই”। তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে সব রাগ মিটিয়েও নেন। এখন আর কেনো রাগারাগী নেই তাদের মধ্যে। গোলাপের মালা পরিয়ে বরণ ও করে নেন তাকে। বিটি রোডের পার্টি অফিসে চা সিঙ্গারা খাওয়ার জন্যও নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এর নামই হয়তো রাজনীতি।