Date : 2022-12-09

ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় সিবিআইয়ের স্ক্যানারে বিধায়ক পরেশ পাল। বুধবার তাঁকে সিবিআই দপ্তরে হাজিরার নির্দেশ

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, সাংবাদিক :- ২০২১ শে বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা কর্মীরা বাড়িছাড়া হয়ে রয়েছেন। ভোট আগেই মিটে গিয়েছিলো । কিন্তু ভোট চলাকালীন এবং ভোটের পর বিশেষ করে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির বহু কর্মী-সমর্থক খুন হয়েছে এবং ঘরছাড়া বলে অভিযোগ। কলকাতায় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার একুশের বিধানসভা নির্বাচনের খুন হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের।

ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে নটি জনস্বার্থ মামলা পৃথকভাবে দায়ের করা হয়েছিল। সেই সমস্ত জনস্বার্থ মামলা গুলো একত্রিত করে হাইকোর্ট একটি বৃহত্তর পাঁচ সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছিলেন প্রধান বিচারপতি। যেখানে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল, বিচারপতি সৌমেন সেন ,বিচারপতি সুব্রত তালুকদার, বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডন, বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় তদন্ত ভার পৃথকভাবে দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই মূলত তারা গুরুত্বপূর্ণ যে সমস্ত অভিযোগ গুলো রয়েছে যেমন খুন-,ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণ করে খুন মতো একাধিক অভিযোগের তদন্তভার দেওয়া হয়েছিল সিবিআইকে। পাশাপাশি হাতাহাতি থেকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তদন্ত করবে সিবিআই।

কলকাতায় বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের খুনের ঘটনায় তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সিবিআই এই মামলায় ইতিমধ্যেই তারা চার্জশিট দিয়েছেন এবং শিয়ালদহ আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মুখে কিন্তু মৃত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকার অভিযোগ করেছিলেন তার ভাইয়ের মৃত্যুর পেছনে বেলেঘাটার বিধায়ক পরেশ পালের হাত রয়েছে। এবিষয়ে গোপন জবানবন্দি দিয়েছিলেন কিন্তু সিবিআই অভিজিৎ সরকারের খুনের ঘটনায় পরেশ পালের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল না? সেই প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দাদা বিশ্বজিৎ সরকার।

সোমবার আর প্লাস নিউজের পক্ষ থেকে মৃত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিত সরকারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানিয়েছেন সিবিআই বেলেঘাটার বিধায়ককে ডাকতে অনেকটাই দেরি করে ফেলেছেন শুরু থেকেই পরস্পরের বিরুদ্ধে শুধু নয় আরো বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল তারা। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কেন সিবিআই এতদিন বেলেঘাটার বিধায়ককে কেন ডেকে পাঠাচ্ছিলেন না সেটা জানা নেই। তবে অবশেষে পরেশ পাল কে তার ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ডেকে পাঠানো অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছেন এবং তার ভাইয়ের মৃত্যুতে অভিযুক্তরা যাতে সাজা পায় সেই মর্মে তারা আদালতের কাছে আবেদন জানাবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছেন বিচার ব্যবস্থার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

ভোট-পরবর্তী হিংসা ঘটনায় এখনও বহু বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন তাদের ঘরে ফেরাতে উদ্যোগে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।